— প্রতীকী চিত্র।
রাজ্যে পালাবদলের পরেই বিভিন্ন জায়গায় পুনর্বাসন ছাড়া ‘বেআইনি’ অভিযোগে হকার উচ্ছেদের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সিপিএম, কংগ্রেস-সহ বিরোধীরা সরব। এই প্রেক্ষিতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানালেন, পুনর্বাসনের বিষয়ে চিন্তা-ভাবনা করা হবে। তবে আগে জায়গা খালি করতে হবে। পাশাপাশি, ইঙ্গিতপূর্ণ ভাবে একটি নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর মানুষের সংখ্যা বেশি, এমন কয়েকটি জায়গার উল্লেখ করেও সরব হয়েছেন তিনি। পক্ষান্তরে, বিধানসভার প্রধান বিরোধী দলের দাবি, পুনর্বাসন ছাড়া উচ্ছেদ চলবে না। বিধানসভার আসন্ন অধিবেশনেও বিষয়টি তোলা হবে বলে জানিয়েছেন বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়।
বিশ্ব বাংলা কনভেনশন সেন্টারে মুখ্যমন্ত্রী শুক্রবার হকার-প্রশ্নে বলেছেন, “এই সরকার মানবিক। মানবিক ভাবেই বিষয়টি দেখা হবে। সরকারের অব্যবহৃত বা খালি জমিতে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা যাতে হয়, তা নিয়ে ভাবনা-চিন্তা করা হবে। তবে প্রাথমিক ভাবে জায়গা খালি করে দেওয়া হবে।” এই সূত্রেই তাঁর সংযোজন, “ফুটপাত জবরদখল করার অধিকার কারও নেই। আমি জনতার প্রতি দায়বদ্ধ। একটা নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর কথা ভাবতে গিয়ে আমি বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর অসুবিধা করতে পারব না। নিউ মার্কেট এমন ভাবে দখল হয়ে থাকবে যে একটা মোটরবাইকও চলতে পারবে না, তেমনটা হবে না। রাজাবাজার বেহাত, খিদিরপুর-মেটিয়াবুরুজে যা খুশি করবেন, এই জন্য জনগণ আমাকে মুখ্যমন্ত্রী করেননি!”
এমতাবস্থায় বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত অবশ্য বলেছেন, “সরকারের এমন কিছু করা উচিত নয়, যাতে মানুষের জীবন-জীবিকা প্রশ্নের মুখে পড়ে। সরকার বিকল্প জায়গার কথা বলছে। বিকল্প ব্যবস্থা ছাড়া মানুষের জীবন-জীবিকা কাড়া যাবে না। বেআইনি নির্মাণ অবশ্যই দখলমুক্ত করতে হবে। কিন্তু সে ক্ষেত্রেও বিকল্প ব্যবস্থা জরুরি। বিধানসভার আসন্ন অধিবেশনে বিষয়টি তোলা হবে।” তবে মুখ্যমন্ত্রীর অতীত অবস্থান তুলে ধরে এ দিনও বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছে সিপিএম। দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তী বলেছেন, “বহু বছর ধরে বিভিন্ন জায়গায় রুটি-রুজির জন্য মানুষকে এই ভাবে বসতে হচ্ছে। রেলের প্ল্যাটফর্ম ও স্টেশন চত্বর থেকে ছোট ছোট দোকান তুলে দেওয়া হচ্ছে। সেখানে তো নতুন লাইন পাতা বা প্ল্যাটফর্ম চও়ড়া হবে না। রেল ওই জায়গাগুলি বড় সংস্থাকে ভাড়া দেবে। তা হলে ছোট দোকান থাকবে না কেন? পুনর্বাসন ছাড়া এই উচ্ছেদ মানা যায় না।” সুজনের সংযোজন, “মুখ্যমন্ত্রী বিরোধী দলনেতা থাকাকালীন বলেছিলেন, পুনর্বাসন ছাড়া উচ্ছেদ হলে বুলডোজ়ারের সামনে গিয়ে দাঁড়াবেন। এখন সরকারে এসে অবস্থান উল্টে গেল কেন?”
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে