শুভেন্দু অধিকারী। — ফাইল চিত্র।
রাজ্যে অন্নপূর্ণা যোজনার সরকারি প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যাবে বুধবারই। ওই দিন থেকেই ফর্ম প্রকাশিত হবে। কল্যাণীতে প্রশাসনিক বৈঠক থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের জানিয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পাশাপাশি এ-ও জানালেন, অফলাইনের পাশাপাশি অনলাইনেও পূরণ করা যাবে ফর্ম। মা ক্যান্টিন নিয়েও বড় ঘোষণা করলেন তিনি। শুভেন্দু জানান, এ বার থেকে সপ্তাহে দু’দিন মা ক্যান্টিনে মিলবে মাছ-ভাত। দাম থাকবে সেই ৫ টাকাই।
মঙ্গলবার কল্যাণীতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর প্রশাসনিক বৈঠক ছিল। এপিজে আব্দুল কালাম প্রেক্ষাগৃহে উত্তর ২৪ পরগনা, নদিয়া ও হুগলি জেলার প্রশাসনিক আধিকারিকদের নিয়ে বৈঠক ছিল। সেই বৈঠক সেরে বেরিয়ে শুভেন্দু সাংবাদিকদের জানান, লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্পকে অন্নপূর্ণা যোজনা এবং স্বাস্থ্য সাথীকে আয়ুষ্মান ভারতে রূপান্তরিত করার কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে। এই নতুন প্রকল্পের আর্থিক সুবিধা পেতে গেলে উপভোক্তাদের একটি নির্দিষ্ট ফর্ম পূরণ করতে হবে, যা বুধবারই নবান্ন থেকে আনুষ্ঠানিক ভাবে প্রকাশ করা হবে।বলেন, ‘‘বুধবার ইমেলে নবান্ন থেকে সংশ্লিষ্ট দফতরের মন্ত্রী, মুখ্যসচিব, অর্থসচিব এবং অন্যান্য আধিকারিকের উপস্থিতিতে অগ্নিমিত্রা পাল এবং আমি একটি ফর্ম প্রকাশ করব। সেই ফর্ম অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা পেতে পূরণ করতে হবে।’’
শুভেন্দু আরও বলেন, ‘‘এই বিষয়ে বুধবারই বিস্তারিত জানানো হবে। নথিভুক্তকরণ যত তাড়াতাড়ি করবেন, তত দ্রুত সুবিধা আমরা দিতে পারব।” প্রশাসন সূত্রে খবর, আগামী ১ জুন থেকেই এই নতুন প্রকল্পের টাকা উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানো শুরু হবে। তবে ফর্ম পূরণের প্রক্রিয়া ও যাচাইকরণ চলাকালীন সাধারণ মানুষের যাতে কোনও সমস্যা না হয়, সেই বিষয়টিও নিশ্চিত করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে যত দিন না অন্নপূর্ণা যোজনার ৩ হাজার টাকা দেওয়া শুরু হচ্ছে, তত দিন পর্যন্ত পুরনো ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’-এর টাকা নিয়ম মেনেই পাবেন তাঁরা।
শুভেন্দু জানিয়েছেন, ফর্মের প্রতিলিপি বুধবার পাবেন ইচ্ছুকেরা। তাঁর কথায়, ‘‘অফলাইনের পাশাপাশি অনলাইন (ফর্ম) অবশ্যই থাকবে।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘শুধু জনগণের উপর ছেড়ে দেওয়া হবে না, বিধায়কেরা নিজের উদ্যোগে ফর্ম পূরণ করাবেন। সরকারও বিডিওদের নেতৃত্বে বাড়ি বাড়ি ফর্ম পূরণে সহযোগিতা করার জন্য লোক পাঠাবেন।’’ তার পরেই তিনি মনে করিয়ে বলেন, ‘‘মাথায় রাখতে হবে, ভারতীয়েরাই কেবলমাত্র এই সুযোগ পাবেন। যাঁরা এ দেশের নাগরিক নন, তাঁরা সুযোগ পাবেন না। ভারত সরকারের টাকা বাংলাদেশ থেকে আসা অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের দেওয়ার জন্য নয়। এটা খুব স্পষ্ট বিষয়।’’
এর পরে মা ক্যান্টিনে বিশেষ ব্যবস্থার কথাও ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘‘আমাদের মা ক্যান্টিন রয়েছে, প্রায় ৪০০-র কাছাকাছি, সংখ্যা আপাতত এই পাচ্ছি। সেখানে আমরা দু’দিন করে মাছ খাওয়াব সপ্তাহে। ৫ টাকাতেই খাওয়াব। এই কাজগুলো আমরা করছি।’’ বাকি পাঁচ দিন ওই ক্যান্টিনে ৫ টাকাতেই ডিম-ভাত মিলবে।
শুভেন্দু জানান, আগামী সপ্তাহ থেকে মুখ্যমন্ত্রীর ‘দিদিকে বলো’ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, তার জায়গায় ওই পরিষেবার নাম হচ্ছে ‘আপনার সরকারকে বলুন’। পুরোনো টোলফ্রি নম্বরেরও পরিবর্তন হচ্ছে। যেদিন পরিষেবা চালু হবে, সে দিন এ বিষয়ে বিস্তারিত ভাবে জানানো হবে। পরিষেবার নাম স্থির করেছেন রাজ্যসভার সাংসদ তথা বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তিনি আরও বলেন, ‘‘সরকারি বাসে আপাতত সব মহিলা বিনামূল্যে যাতায়াতের সুবিধা পাবেন। এটা আগেই মন্ত্রিসভা অনুমোদন দিয়েছে। এ বার তা কার্যকর হচ্ছে। পরবর্তীকালে কার্ড করব।’’
৫ জুন কেন্দ্রীয় সরকার ‘এক পেড় মা কে নাম’ প্রকল্পের ঘোষণা করেছে। রাজ্যেও তা পালন করা হবে বলে জানান শুভেন্দু। প্রত্যেক বিধায়ককে এলাকায় বিতরণ করার জন্য বন দফতর, পরিবেশ দফতর গাছ দেবে। তিনি জানান, ১৫,১৬ এবং ১৭ জুন রাজ্যে জনকল্যাণ শিবির হবে, কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশে। ওই শিবিরে কেন্দ্রীয় এবং রাজ্য সরকারের প্রকল্পের বিষয়ে মানুষকে অবহিত করা হবে। আগামী প্রকল্পের বিষয়েও জানানো হবে। ২১ জুন বিশ্ব যোগা দিবস পালন করা হবে রাজ্যে। দায়িত্বে থাকবে আয়ুষ দফতর যা পশ্চিমবঙ্গ সরকারের স্বাস্থ্যবিভাগের অন্তর্গত এবং ক্রীড়া বিভাগ। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘আজ একটা নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছি, মন্ত্রিসভায় এটা অনুমোদনের জন্য আমি রাখব। আয়ুষ দফতরকে আমরা স্বাস্থ্য দফতর থেকে আলাদা করছি। আয়ুষ দফতরের ক্ষেত্রে আমরা এক জন যোগ্য অফিসারকে দায়িত্ব দেব, গোটা দেশে যে সুযোগ রয়েছে, তা এখানেও কাজে লাগানো হবে।’’