Heatwave Alert

তাপপ্রবাহের সতর্কতা জারি করেছে মৌসম ভবন, গরমে সুস্থ থাকতে কী খাবেন, কেমন পোশাক পরবেন?

তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি ছাড়িয়ে গিয়েছে অনেক জায়গাতেই। দেশের নানা রাজ্যে তাপপ্রবাহের সতর্কতা জারি করেছে মৌসম ভবন। ইতিমধ্যে তেলঙ্গানায় হিটস্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে প্রায় ৬৭ জনের। এমন পরিস্থিতিতে সুস্থ থাকতে কী করণীয়?

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৬ মে ২০২৬ ১৫:৪০
Share:

তাপপ্রবাহ থেকে বাঁচতে কী কী নিয়ম মানবেন? ছবি: ফ্রিপিক।

অস্বস্তিকর গরম বাড়ছে। তাপমাত্রা অনেক জায়গাতেই ৪০ ডিগ্রির বেশি। তাপপ্রবাহের সতর্কতা জারি হয়েছে দেশের নানা রাজ্যে। ইতিমধ্যেই হিটস্ট্রোকে আ্রান্ত হয়ে তেলঙ্গানায় অন্তত ৬৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। অন্ধ্রপ্রদেশেও আক্রান্ত বহু। এই গরমে সুস্থ থাকতে চিকিৎসকেরা বার বার চড়া রোদ এড়ানোর পরামর্শ দিচ্ছেন। কিন্তু কাজের প্রয়োজনে অনেককেই বাইরে বেরোতে হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে কী ভাবে সুস্থ থাকবেন?

Advertisement

মৌসম ভবন জানিয়েছে, তাপমাত্রা যে ভাবে বাড়ছে, তাতে হিটস্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। গরমে দুপুর ১২টা থেকে ৩টের মধ্যে বাইরে না থাকার পরামর্শই দেওয়া হয়েছে। তার মধ্যেই নানা কাজে নিয়মিত বাইরে বেরোতেই হয় যাঁদের, তাঁদের হিটস্ট্রোক সম্পর্কে সতর্ক থাকা দরকার। বিশেষ করে শিশুদের কিংবা যাঁরা এই গরমে খোলা জায়গায় দিনভর ডিউটি করেন (নিরাপত্তাকর্মী কিংবা ট্রাফিক পুলিশ)। সানস্ট্রোকের প্রাথমিক লক্ষণ ও তার প্রতিকার জানা থাকলে, তার মোকাবিলা করাও সহজ হবে।

গরমে সুস্থ থাকতে কী কী নিয়ম মানবেন?

Advertisement

তাপপ্রবাহ থেকে বাঁচতে কী করা উচিত ও কী নয়, তা নিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু) নির্দেশিকা দিয়েছে।

১) বাইরে বেরোনোর সময় ঢিলেঢালা, হালকা রঙের সুতি বা লিনেনের পোশাক পরা ভাল। হালকা রং তাপ শোষণ করে না, ফলে শরীর ঠান্ডা থাকে।

২) রোদে বেরোলে অবশ্যই রোদচশমা পরুন, টুপি বা ছাতা সঙ্গে নিতে হবে।

৩) বাইরের তাপমাত্রা বেশি, কাজেই শরীরর তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। তৃষ্ণা না পেলেও কিছু ক্ষণ পর পর জল পান করা জরুরি। এই সময়ে শরীরে জলের ঘাটতি হলেই মুশকিল। জল ও খনিজ পদার্থের ঘাটতি হলে পেশিতে টান পড়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। এই সমস্যাকে ‘হিট ক্র্যাম্প’ বলা হয়। এই সমস্যা এড়াতে জল বেশি করে খেতে হবে। বাইরে বেরনোর আগে নুন-চিনি দেওয়া জল বা ডিটক্স পানীয় পান করা ভাল। সঙ্গে যেন জল অবশ্যই থাকে। রোদ থেকে ফিরে এসেও এক গ্লাস নুন-চিনি ও লেবুর রস দেওয়া জল খেলে ডিহাইড্রেশনের ঝুঁকি থাকবে না।

৪) রোদের তেজে ত্বক পুড়ে যাওয়া বা হিটর‌্যাশের সমস্যা বেশি হয়। ত্বক লাল হয়ে যায়। ছোট ছোট ফুস্কুড়ি বেরোতে পারে। তাই রোদে বেরোনোর আগে সানস্ক্রিন মাখা খুব জরুরি। ঠান্ডা জলে ভেজানো কাপড় ত্বকের উপর রাখলে আরাম পাবেন।

৫) এই গরমের মধ্যে প্রাতর্ভ্রমণ না করাই পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এই সময়ে ভারী ওজন তুলে ব্যায়াম, দৌড়োনো বা লাফালাফি করার মতো কসরত করতেও নিষেধ করা হচ্ছে। খুব বেশি ঘাম হবে, এমন কোনও ব্যায়াম না করাই ভাল।

৬) তেল-মশলাদার খাবার এ সময়ে এড়িয়ে চলুন। উচ্চ প্রোটিনযুক্ত আমিষ খাবার এই সময়ে কম খাওয়াই ভাল। তাড়াতাড়ি হজম হয়ে যায়, এমন খাবার খাওয়া প্রয়োজন।

৭) রাস্তায় বেরোনোর আগে খালি পেটে চা বা কফি পান করবেন না। এটি অত্যন্ত বিপজ্জনক। ক্যাফিন শরীরকে ডিহাইড্রেটেড (জলশূন্য) করে দেয় এবং শরীর থেকে প্রয়োজনীয় খনিজ উপাদান বার করে দেয়।

৮) বাইরে যাওয়ার সময় বা বাইরে থেকে ফিরেই ফ্রিজের ঠান্ডা জল খাবেন না। গরমে যাওয়ার আগে বা গরম থেকে ফিরেই ঠান্ডা জল পান করলে শরীরে তাপমাত্রার তারতম্য ঘটবে, যা হার্টের উপর চাপ তৈরি করতে পারে।

৯) প্রস্রাবের রঙে বদল বা প্রস্রাবের পরিমাণ কমে আসতে দেখলেই সতর্ক হতে হবে। শরীর যত হাইড্রেটেড থাকবে, সানস্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা কিন্তু ততই কমবে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement