(বাঁ দিকে) মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত (ডান দিকে)। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
রাজ্যে ক্ষমতা দখলের পরে প্রথম বাজেট পেশ করেছে বিজেপি সরকার। ৪.৩৮ লক্ষ কোটি টাকার বাজেটে পরিকাঠামো এবং কর্মসংস্থানে আলাদা গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বাজেটের ঘোষণাগুলি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে মুখ্যমন্ত্রীর দফতরের অধীনে পৃথক একটি নজরদারি শাখা তৈরির পরিকল্পনা হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রের খবর। ওই সূত্রের দাবি, এই পরিকল্পনার নেপথ্যে কেন্দ্রের সুনির্দিষ্ট নীতির প্রতিফলনও থাকতে পারে। অনেকেই মনে করছেন, প্রধানমন্ত্রীর দফতরে প্রজেক্ট মনিটরিং গ্রুপের ধাঁচে এই শাখা তৈরি হতে পারে।
ইতিমধ্যে মুখ্যসচিবের দফতরের অধীনে কয়েক জন আইএএস অফিসারকে নিয়ে পৃথক অফিস তৈরি হয়েছে। সেই অফিস প্রধানত কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলির বাস্তবায়নে নজর রাখছে। কিছু দিন আগে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বৈঠকের পরে প্রায় এক লক্ষ কোটি টাকার প্রকল্পের কথা জানিয়েছিলেন রেলমন্ত্রী। তার পরেই ওই অফিস তৈরি হয়েছিল।
সরকারি স্তরে এক লক্ষ শূন্যপদ পূরণ করা ছাড়াও ১২৫ দিনের কাজের নিশ্চয়তা ‘জি-রাম-জি’, আবাস, অন্নপূর্ণা, আয়ুষ্মান ভারত যোজনা ইত্যাদি কার্যকর করতে চাইছে রাজ্য। রাজ্যভিত্তিক মূলধনী বিনিয়োগে আর্থিক সহায়তা প্রকল্প, ‘সিটি ইকনমিক রিজিয়ন’ প্রকল্প, কেন্দ্রের ‘পূর্বোদয় প্রকল্পের’ আওতায় শিল্প করিডর, উৎপাদন হাব এবং পর্যটন পরিকাঠামোকে অন্তর্ভুক্ত করার বার্তা আছে বাজেটে। দাদনপাত্রবাড়ে গভীর সমুদ্র বন্দর, ডানকুনি-সুরাত পণ্য করিডর, কল্যাণীর কাছে ১০০০-১৫০০ একর জমিতে নতুন বিমানবন্দর-সহ পরিকাঠামোয় বহু প্রকল্পের ঘোষণা হয়েছে। দুর্গাপুরে সেমিকন্ডাক্টর তালুক, শিলিগুড়িতে তথ্যপ্রযুক্তি পার্ক ইত্যাদির পরিকল্পনাও রয়েছে।
প্রশাসনের একাংশের মতে, বাজেটে এতগুলি প্রকল্প এবং পরিকল্পনা সাম্প্রতিক অতীতে হয়নি। আবার বাজেটের ঘোষণা ফাঁকা প্রতিশ্রুতি হিসেবে রয়ে গেলে তা নতুন সরকার এবং কেন্দ্রীয় সরকার, দু’পক্ষের কাছেই অস্বস্তির কারণ হবে। তাই রাজ্য বাজেটে ঘোষিত প্রকল্পের যাতে অগ্রগতি হয়, তা নিয়ে কেন্দ্রের মাথাব্যথারও কারণ আছে। এ ছাড়া, বাজেটের ঘোষণাগুলি অনেক ক্ষেত্রেই কেন্দ্রের সঙ্গে সমন্বয়মূলক প্রকল্প। তাই প্রশাসনিক দিক থেকেও রাজ্যের প্রকল্পে কেন্দ্রের নজর থাকা স্বাভাবিক।
প্রশাসনিক সূত্রের বক্তব্য, বাজেটে ঘোষিত প্রকল্পের বাস্তবায়ন ঠিক মতো হচ্ছে কি না, তা নিয়ে তদারকি এবং আন্তঃদফতর সমন্বয় রাখা প্রয়োজন। কেন্দ্রের সঙ্গেও সমন্বয় দরকার। তাই মুখ্যমন্ত্রীর দফতরে পৃথক শাখার পরিকল্পনা হয়েছে। তাতে অন্যান্য দফতরের কর্তাদের উপরে চাপ কমবে। সূত্রের খবর, লোকভবনও (অতীতের রাজভবন) চাইছে, কেন্দ্রের আদলে এমন শাখা কার্যকর করা হোক।
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে