Rain In West Bengal

উত্তর-পশ্চিমের তাপেই মেঘ শুকিয়ে যাচ্ছে বাংলায়

আলিপুর আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস, আগামী ক’দিন দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় বিক্ষিপ্ত ঝড়বৃষ্টি হতে পারে। উত্তরবঙ্গে তুলনায় বেশি বৃষ্টি মিলবে। আবহবিদদের একাংশের ব্যাখ্যা, আগামী ক’দিন উত্তর-পশ্চিম ভারতে তাপের দাপট কমবে। তাই ঝড়বৃষ্টি মিলতে পারে।

কুন্তক চট্টোপাধ্যায়

শেষ আপডেট: ০৫ জুন ২০২৬ ০৬:৫১
Share:

— প্রতীকী চিত্র।

ভরদুপুরে বা বিকেলে আকাশে মেঘের দেখা মিলছে বটে। কিন্তু রীতিমতো অসহ্য গরমে প্রলেপ দেওয়ার মতো বৃষ্টি ঢালার বদলে আকাশেই যেন মিলিয়ে যাচ্ছে সেই মেঘ! গত ক’দিন ধরে এমন অভিজ্ঞতা হয়েছে গাঙ্গেয় বঙ্গের অনেক বাসিন্দারই। আবহবিদেরা বলছেন, মেঘের এই ভোজবাজির কারণ লুকিয়ে আছে সুদূর উত্তর-পশ্চিম ভারতে। সেখানে লাগাতার যে তাপপ্রবাহ চলছে, তার ধাক্কাতেই বঙ্গের মেঘ জমাট বাঁধতে পারছে না! উত্তর-পশ্চিম ভারতের শুষ্ক গরম না কমলে দক্ষিণবঙ্গের বৃষ্টির ভাগ্য খুলবে কি না, তা নিয়েও চর্চা শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবারই কেরলে বর্ষা ঢুকেছে বলে মৌসম ভবন জানিয়েছে। আগামী দু’দিনের মধ্যে গোয়া এবং মহারাষ্ট্রে বর্ষা ঢুকতে পারে। তবে বাংলায় বর্ষার আগমনের দিন এখনও নিশ্চিত করে বলেনি মৌসম ভবন।

আলিপুর আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস, আগামী ক’দিন দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় বিক্ষিপ্ত ঝড়বৃষ্টি হতে পারে। উত্তরবঙ্গে তুলনায় বেশি বৃষ্টি মিলবে। আবহবিদদের একাংশের ব্যাখ্যা, আগামী ক’দিন উত্তর-পশ্চিম ভারতে তাপের দাপট কমবে। তাই ঝড়বৃষ্টি মিলতে পারে।

আবহবিজ্ঞানীরা জানান, মেঘ তৈরির মূল প্রক্রিয়া হল বায়ুমণ্ডলের নীচের স্তরের জলীয় বাষ্প গরম হয়ে উপরের স্তরে পৌঁছনো। বায়ুমণ্ডলের উপরের স্তর যত শীতল হবে, তত দ্রুত জলীয় বাষ্প সম্পৃক্ত এবং ঘনীভূত হয়ে মেঘ তৈরি করবে। গরমকালে এই প্রক্রিয়ায় বিরাট স্তম্ভের আকারের মেঘ (উল্লম্ব মেঘ) তৈরি হয় ও তা থেকেই ঝড়বৃষ্টি হয়। কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দফতরের প্রাক্তন ডেপুটি ডিরেক্টর জেনারেল গোকুলচন্দ্র দেবনাথ বলেন, “উত্তর-পশ্চিম ভারতে টানা তাপপ্রবাহ চলছে। তার ফলে বায়ুমণ্ডলের নীচের স্তরের তাপমাত্রার সঙ্গে মধ্য বা উপরের স্তরের তাপমাত্রার তারতম্য তেমন নেই। ফলে জলীয় বাষ্প সম্পৃক্ত বা ঘনীভূত হতে পারছে না। এর ফলেই বড় আকারের মেঘপুঞ্জ তৈরি হতে পারছে না। বরং হালকা যেটুকু মেঘ তৈরি হচ্ছে, তা শুষ্ক, গরমের জন্য অচিরেই মিলিয়ে যাচ্ছে।”

এ বছর থার্মোমিটারের পারদ যত না চড়ছে, তার থেকে গরমের অস্বস্তি যেন বহুগুণ বেশি। মে মাসে কলকাতা ও লাগোয়া জেলাগুলিতে দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৬-৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের উপরে তেমন যায়নি। তবে মোবাইলের বিভিন্ন অ্যাপে দেখা যাচ্ছে, গরমের অনুভূতি ৪৬-৪৮ ডিগ্রির মতো। বৃহস্পতিবার দুপুরে মোবাইল অ্যাপ গরমের অনুভূতি প্রায় ৫০ ডিগ্রি ছুঁয়েছে বলেও দেখিয়েছে।

আবহবিজ্ঞানীরা বলছেন, এই মাত্রাতিরিক্ত আর্দ্রতা এবং অসহনীয় গরমের পিছনেও দায়ী সেই উত্তর-পশ্চিম ভারতের তীব্র গরম। গোকুলচন্দ্র বলছেন, “আর্দ্রতা বাড়লে কালবৈশাখীর সম্ভাবনা বাড়ে। আবার জোরালো কালবৈশাখী হলে আর্দ্রতার বাড়বাড়ন্ত কমে। প্রকৃতির এই নিয়মেই আর্দ্রতার বাড়বাড়ন্ত লাগামছাড়া হতে পারে না।” তাঁর ব্যাখ্যা, এ বছর মে মাসে কালবৈশাখী তেমন মেলেনি। কারণ, উত্তর-পশ্চিম থেকে বয়ে আসা শুষ্ক, গরম হাওয়ার প্রভাবে কালবৈশাখীর মেঘ সে ভাবে নিয়মিত দানা বাঁধতে পারেনি। তার ফলেই বঙ্গোপসাগর থেকে টানা জলীয় বাষ্প ঢুকলেও তা থেকে মেঘ তৈরি হয়নি, ঝড়বৃষ্টি তেমন হয়নি। তাই বায়ুমণ্ডলে জলীয় বাষ্প মাত্রাতিরিক্ত হয়ে আছে। এর ফলে তাপমাত্রা আক্ষরিক অর্থে না-বাড়লেও গরম অসহ্য হয়ে উঠছে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন