হিমন্তের আলিঙ্গনে শুভেন্দু। ছবি: সমাজমাধ্যম।
দ্বিতীয় বার অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে আজ শপথ গ্রহণ করলেন হিমন্তবিশ্ব শর্মা। সেই অনুষ্ঠানে তিনি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে জড়িয়ে ধরে রয়েছেন— এমন একটি ছবি সমাজমাধ্যমে পোস্ট করেন তিনি। সেই পোস্টটিকে ট্যাগ করে আরও একটি পোস্ট করেন শুভেন্দুও। সমাজমাধ্যমে এই দু’টি পোস্ট কাদের উদ্দেশ তা উহ্যই রেখেছেন বিজেপির দুই মুখ্যমন্ত্রী। ‘রহস্যময়’ এই পোস্ট নিয়ে নেটপাড়ায় শুরু হয়েছে চর্চা।
ঘটনার সূত্রপাত সমাজমাধ্যম এক্স-এ হিমন্তের একটি পোস্টকে ঘিরে। তাতে দেখা যাচ্ছে, সহাস্য শুভেন্দুকে জড়িয়ে ধরে রয়েছেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী। তাতে লেখা, ‘খারাপ দিন আসছে...(কাদের জন্য তুমি জানো)’। ওই পোস্টটিকে ট্যাগ করে শুভেন্দুর পোস্ট, ‘আমার মনে হয়, এটা বোঝার জন্য কোনও পুরস্কার নেই’। দুই মুখ্যমন্ত্রীর পোস্ট ঘিরে শুরু হয়েছে চর্চা। তবে দুই নেতার কেউই তাঁদের পোস্টে কাকে উদ্দেশ্য করে মন্তব্য করেছেন, তা স্পষ্ট করেননি। যদিও ভোটের ময়দানে বিজেপির এই দুই নেতা বার বার বাংলাদেশ থেকে অনুপ্রবেশ এবং তার ফলে অসম ও পশ্চিমবঙ্গে জনসংখ্যাগত প্রভাব পড়ছে বলে দাবি করেছিলেন। নেট নাগরিকদের একাংশের মতে, অনুপ্রবেশকারী এবং মুসলিমদের দিকে ইঙ্গিত করেছেন হিমন্ত ও শুভেন্দু। আর এক অংশের মতে, বিরোধীদেরও নিশানা করতে পারেন দুই মুখ্যমন্ত্রী।
২০টি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ও ১৮ জন উপ-মুখ্যমন্ত্রী এবং আমেরিকা, ভুটান, বাংলাদেশ-সহ বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতদের উপস্থিতিতে শপথ নেন হিমন্ত। অসমে ১০২ আসনে জিতে রাজ্যে সরকার গড়ার হ্যাটট্রিক করল এনডিএ।
মোদী এ দিনের সভায় ভাষণ না দিলেও সমাজমাধ্যমে বলেন, “হিমন্ত দক্ষ প্রশাসক হিসেবে নিজস্ব ছাপ রেখেছেন এবং রাজ্যের পথপ্রদর্শক হিসেবে কাজ করেছেন।” জবাবে হিমন্তও বলেন, “গত এক দশকে অসমের অগ্রগতিতে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্ব ও দূরদৃষ্টি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে। তাঁর নিরন্তর দিকনির্দেশ আমাদের সবচেয়ে বড় প্রেরণা।”
বস্তুত, হিমন্তই প্রথম অ-কংগ্রেসি মুখ্যমন্ত্রী, যিনি পরপর দু’বার অসমের মুখ্যমন্ত্রী হলেন। শপথের আগে হিমন্ত কামাখ্যা মন্দিরে গিয়ে প্রার্থনা করেন। শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন হিমন্তের স্ত্রী রিণিকিভুইঁয়া শর্মা এবং কন্যা সুকন্যা শর্মা। বাবার সম্পর্কে সুকন্যা বলেন, ‘‘কী ভাবে অসমের আরও উন্নতি করা যায়, মানুষের জন্য কী ভাবে আরও ভাল কাজ করা যায়, মাঝে মাঝে ঘুমের মধ্যেও উনি তা নিয়ে কথা বলেন।’’ স্বামীর ‘অক্লান্ত’ পরিশ্রমের কথাবলেন রিণিকিও।
শুভেন্দু বলেন, “হিমন্তবিশ্ব আমার দাদার মতো, তিনি বরাবর আমায় পরামর্শ দেন, পথ দেখান। এ বারের নির্বাচনে আমাকে হিমন্তদা অনেক সাহায্য করেছেন। তাঁর কাছ থেকে অনেক কিছু শেখার আছে।” শুভেন্দুকে আলিঙ্গন করে তাঁর সঙ্গে তোলা ছবি সমাজমাধ্যমে পোস্ট করেন হিমন্ত। সঙ্গে লেখেন, ‘অসম ও বঙ্গের আত্মিক বন্ধন বহু যুগের সাক্ষী। আজ আমাদের জন্য এই মুহূর্তটিও অতি বিশেষ। এই আলিঙ্গন শুধু দুই ভাইয়ের নয়, অসম ও বাংলার বহু শতাব্দীপ্রাচীন আত্মীয়তার পুনর্মিলন।’ অসমের প্রতি আস্থা প্রকাশ করেছেন মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফডণবীস। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী চিরাগ পাসোয়ানের দাবি, সারা দেশের মানুষ ‘ডাবল ইঞ্জিনসরকার’ চান।
আমেরিকান রাষ্ট্রদূত সের্জিয়ো গোর জানান, আমেরিকা ও অসমের মধ্যে বহু বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে এবং আগামী দিনে আরও নতুন সহযোগিতার পথ খুলবে। সিঙ্গাপুরের রাষ্ট্রদূত সাইমন ওং হিমন্তকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, সিঙ্গাপুর সব সময়ে অসমের পাশে থাকবে এবং হিমন্তের নতুন মেয়াদে রাজ্য উন্নতির শিখরে পৌঁছবে বলে তাঁর বিশ্বাস। ছিলেন গুয়াহাটিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের সহকারী হাই কমিশনার জ়িকরুল হাসান ফাহাদ।
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে