Coronavirus

বাজার উপচে ভিড়, মওকা বুঝে বাড়তি দাম

সোমবার উত্তর ২৪ পরগনার বিধাননগর, দমদম, বারাসত, ব্যারাকপুর, বনগাঁ, বসিরহাটের বিভিন্ন হাটে-বাজারে আনাজের দাম কেজিতে তিন থেকে দশ টাকা বেশি ছিল।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৪ মার্চ ২০২০ ০৫:৩৯
Share:

বেলুড়ের একটি আনাজপাতির বাজারে ভিড়। ছবি: দেবস্মিতা ভট্টাচার্য

লকডাউনে রেশন দোকান, মুদি, আনাজ, ফল, মাছ, মাংসের দোকানের ছাড় থাকছে বলে জানিয়েছে রাজ্য সরকার। কিন্তু টান পড়তে পারে, এই আশঙ্কায় সোমবার সকাল থেকে বিভিন্ন বাজারে ভিড় উপচে পড়ে। অভিযোগ, সকাল থেকে বাজারের চাহিদা তুঙ্গে দেখে বিক্রেতাদের একাংশ আনাজ-সহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বাড়িয়ে দেন। ক্রেতাদের একাংশের প্রশ্ন, লকডাউনের পরে বাজার খোলা থাকলেও গাড়ি না-চললে জিনিস আসবে কী ভাবে?

Advertisement

সোমবার উত্তর ২৪ পরগনার বিধাননগর, দমদম, বারাসত, ব্যারাকপুর, বনগাঁ, বসিরহাটের বিভিন্ন হাটে-বাজারে আনাজের দাম কেজিতে তিন থেকে দশ টাকা বেশি ছিল। জোগানও ছিল কম। ফলে জমায়েত না-করার নির্দেশিকা অমান্য করে চাষি, ফড়েদের পাশাপাশি ক্রেতার ভিড় উপচে পড়ে বাজারে। সকালে পলতা স্টেশন সংলগ্ন বাজারে আলু কেনা নিয়ে কার্যত হাতাহাতি বেধে যায়। বচসা বাধে বসিরহাটের বিভিন্ন বাজারেও। লকডাউন ঘোষণা হতেই ডিমের কালোবাজারি শুরু হয়ে যায় বনগাঁর গাঁধীপল্লি এলাকায়।

রবিবার জনতা কার্ফু শেষ হতেই হাওড়া-হুগলিতে মাছের চাহিদা ও দাম, দুই-ই ছিল তুঙ্গে। পুরুলিয়ার জেলা সদর শহরের বাজারে শুধু আলুর দাম কিছুটা বেড়েছে। বাঁকুড়া বাজারে এ দিন আনাজ ও মাছের দাম ছিল বেশ চড়া। যে-দেশি মাছ কয়েক দিন আগেও ২৫০ টাকা কেজি ছিল, এ দিন বিক্রি হয় ৩৫০ টাকায়।

Advertisement

নদিয়ার কল্যাণী থেকে করিমপুর, নবদ্বীপ থেকে কৃষ্ণনগরে কয়েক ঘণ্টায় বাজার ফাঁকা হয়ে যায়। মুর্শিদাবাদে অধিকাংশ বাজারই বেলা পর্যন্ত গড়ায়নি। আতঙ্কগ্রস্ত মানুষের সঙ্গে ক্রেতাদের কথা কাটাকাটি, এমনকি হাতাহাতির ঘটনাও ঘটেছে বেলডাঙা-বহরমপুরে। পূর্ব বর্ধমানের আনাজ, মাংস সবই বেশি দামে বিক্রি হয়। সকাল ১০টার মধ্যে ফাঁকা বাজার। পশ্চিম বর্ধমান জেলা জুড়ে ‘লকডাউন’ শুরুর আগেই বাজারে হুড়োহুড়ি। বেড়ে যায় আনাজ-সহ নানা জিনিসের দাম। দুর্গাপুরের কয়েক জন ক্রেতা জানান, বৃহস্পতিবার যে-পটল ৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে, সোমবার তার দাম ছিল ৯০ টাকা। মেদিনীপুর শহর, খড়্গপুর শহর ও ঘাটাল শহর ও ঝাড়গ্রামে লকডাউন শুরু হয়েছে। কলকাতায় মানিকতলা, বাঘা যতীন, লেক গার্ডেন্স, গড়িয়াহাট, মুকুন্দপুর বাজারে দেখা গেল, কয়েক জন আনাজ বিক্রেতাকে ঘিরে ক্রেতাদের ভিড় উপচে পড়েছে। অধিকাংশ ক্রেতার অভিযোগ, যে-পটল বা ঢেড়স তাঁরা দু’দিন আগে ৬০ টাকা কেজি দরে কেনেন, তা এখন ১০০ টাকা কেজিতে কিনতে হচ্ছে। ২০ টাকা কেজি দামের আলু এখন ৩০ টাকা। পেঁয়াজ ৪০ টাকা কেজি। এক ক্রেট অর্থাৎ ৩৬টা ডিম বিক্রি হয়েছে ২০০ টাকায়। অথচ দু’দিন আগেও তা পাওয়া যাচ্ছিল ১৭০ টাকায়। ক্রেতাদের প্রশ্ন, সরকার কেন এই দাম নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না? বাজারে বাজারে পুলিশি টহলদারির দাবি তোলেন ক্রেতারা।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement