—ফাইল চিত্র।
ফের কোভিড আক্রান্ত সরকারি হাসপাতালের এক চিকিৎসক। মঙ্গলবার রাতে চিত্তরঞ্জন ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজের এক স্নাতকোত্তর ট্রেনি চিকিৎসকের লালারসের নমুনা পজিটিভ পাওয়া যায়। বারাসতের বাসিন্দা ২৭ বছরের এই চিকিৎসক পুরুষদের মেডিসিন ওয়ার্ডে কর্মরত ছিলেন। বর্তমানে এমআর বাঙুর হাসপাতালে তিনি চিকিৎসাধীন। ওই চিকিৎসকের সংস্পর্শে আসা ১০ চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্যকর্মীকে কোয়রান্টিনে পাঠানো হচ্ছে।
স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, ৩ এপ্রিল থেকে ওই চিকিৎসক অসুস্থতা বোধ করেন। তার পরেও তিনি হাসপাতালে চিকিৎসা করেছেন। এর পর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে ১২ এপ্রিল এমআর বাঙুর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে ওই দিনই তাঁর লালারসের নমুনা সংগ্রহ করে এসএসকেএম হাসপাতালের পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়। মঙ্গলবার সেই নমুনার রিপোর্ট পজিটিভ পাওয়া এসেছে।
ওই চিকিৎসকের করোনা আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা ঘিরে সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকদের সুরক্ষা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন জুনিয়র চিকিৎসকদের একাংশ। ওই চিকিৎসকের রিপোর্ট পজিটিভ হওয়ায় চিত্তরঞ্জন ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজের পুরুষদের মেডিসিন ওয়ার্ডও বন্ধের মুখে। জুনিয়র চিকিৎসকদের একাংশের দাবি, মেডিসিন ওয়ার্ডের কোনও রোগী থেকেই সংক্রমণ ছড়িয়েছে ওই চিকিৎসকের শরীরে। তাঁদের অভিযোগ, পর্যাপ্ত স্ক্রিনিং হচ্ছে না।
আরও পড়ুন: এ বার গোষ্ঠী সংক্রমণ রুখতে নজর বস্তিতে
চিত্তরঞ্জন মেডিক্যাল কলেজের ওই চিকিৎসক আক্রান্ত হওয়ার পর ওই হাসপাতালের পুরুষদের মেডিসিন ওয়ার্ডের রোগীদের আইসোলেশনে নিয়ে যাওয়া শুরু করা হয়েছে। তাঁদের পর্যবেক্ষণে রাখা প্রয়োজন বলে মনে করছেন চিকিৎসকরা। আর কার কার সংস্পর্শে তাঁরা এসেছেন, তাঁদেরও চিহ্নিত করার প্রক্রিয়া চলছে। সূত্রের খবর, ইতিমধ্যেই ১০ চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্যকর্মীকে কোয়রান্টিনে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
আরও পড়ুন: কোয়রান্টিন গুজব, জামুড়িয়ায় জনতার ‘হামলা’য় পা ভাঙল ওসি-র
উপসর্গ থাকা সত্ত্বেও কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের মহিলাদের মেডিসিন বিভাগে ভর্তি করা হয়েছিল ৬২ বছরের এক বৃদ্ধাকে। পরে জানা যায়, তিনি করোনা আক্রান্ত। সোমবার ওই বৃদ্ধার মৃত্যুর পর বন্ধ মেডিক্যাল কলেজের মেডিসিন ওয়ার্ড। কোয়রান্টিনে পাঠানো হয়েছে সেখানকার ৩৬ জন চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্যকর্মীকে। অন্য দিকে মঙ্গলবার রাতে ৪০ বছরের এক মহিলার মৃত্যু হয়েছে মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে। তিনি যকৃতের সমস্যা নিয়ে চিকিৎসাধীন ছিলেন। তাঁর শরীরেও করোনার উপসর্গ দেখা দিয়েছিল। তাঁর লালারসের নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। তবে এখনও রিপোর্ট আসেনি বলে জানা গিয়েছে হাসপাতাল সূত্রে।
(অভূতপূর্ব পরিস্থিতি। স্বভাবতই আপনি নানান ঘটনার সাক্ষী। শেয়ার করুন আমাদের। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিয়ো আমাদের ইমেলে পাঠিয়ে দিন, feedback@abpdigital.in ঠিকানায়। কোন এলাকা, কোন দিন, কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই দেবেন। আপনার পাঠানো খবরটি বিবেচিত হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে।)