Coronavirus

সৌদি ফেরত মইনুদ্দিন কোথায়!

ছেলে ঘরে ফিরছে, খবর পেয়েই গাঁ-ময় সে কথা রটিয়েছিলেন রানিতলার তোপিডাঙার মইনুদ্দিন শেখের পরিবার।

Advertisement

মৃন্ময় সরকার  

শেষ আপডেট: ২২ মার্চ ২০২০ ০৫:১৪
Share:

উদ্বেগে: মইনুদ্দিনের পরিবার। নিজস্ব চিত্র

সৌদি আরব থেকে মুম্বই বিমানবন্দরে উড়ান নামতেই ফোন উড়ে এসেছিল গ্রামের বাড়িতে— ‘এই নামলাম, দু-এক দিনের মধ্যেই গ্রামে ফিরব।’

Advertisement

ছেলে ঘরে ফিরছে, খবর পেয়েই গাঁ-ময় সে কথা রটিয়েছিলেন রানিতলার তোপিডাঙার মইনুদ্দিন শেখের পরিবার। ফল হয়েছিল উল্টো, খবরটা কানে যেতেই তড়িঘড়ি গ্রামে এসে স্থানীয় ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক জানিয়ে দিয়েছিলেন, ‘‘ঘরের ছেলে ঘরে ফিরুক, আপত্তি নেই। তবে, তার আগে কলকাতার আইডি হাসপাতাল থেকে ফিট সার্টিফিকেট নিয়ে আসতে হবে।’’ শুধু তাই নয়, ঘরে ফিরলেও তাঁকে যে ১৪ দিন ‘গৃহবন্দি’ থাকতে হবে, জানিয়ে দিয়েছিলেন তা-ও। সে সবের অবশ্য তোয়াক্কা করেননি মইনুদ্দিন। বরং মুম্বইয়ে রাত কাটিয়ে, দেড় দিন পরে কলকাতায় ফিরে শিয়ালদহ থেকে ফের ট্রেন ধরার তোড়জোড় করছিলেন তিনি। খবর চাপা থাকেনি। এ বার স্থানীয় থানার পুলিশ কড়া গলায় জানিয়ে দিয়েছিল— গ্রাম নয়, এখন তার ঠিকানা হওয়া উচিত আইডি হাসপাতাল। তবে ওই ঘটনার পরে মইনুদ্দিনের কোনও খোঁজ নেই। আইডি হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই নামে ভর্তি নেই কেউ। মইনুদ্দিনের পরিবার এ ব্যাপারে মুখে কুলুপ এঁটেছেন। জেলা স্বাস্থ্য দফতরও আতান্তরে। তা হলে কোথায় গেলেন সৌদিআরব ফেরত মইনুদ্দিন?

পুলিশ জানায়, তোপিডাঙা গ্রামের বিলপাড়ার বাসিন্দা মাইনুদ্দিন গত বছর মে মাসে সৌদি আরবে কাজের খোঁজে গিয়েছিলেন। সেখানে একটি পোল্ট্রি ফার্মে কাজ করতেন তিনি। গ্রামের বাড়িতে তাঁর, স্ত্রী, তিন বছরের ছেলে এবং মা-বাবা রয়েছেন। তোপিডাঙার সেই বাড়িতে পা রাখতেই আঁচল চাপা দিয়ে মুখ আড়াল করলেন তাঁর স্ত্রী আরজিনা বিবি।

Advertisement

তার পর, রীতিমতো ঝাঁঝিয়ে উঠলেন, ‘‘ওঁর সঙ্গে আমার কথা হয়েছ। কোনও শারিরীক সমস্যা নেই। তবুও বলেছি, গ্রামের লোক যখন চাইছে, বেলেঘাটা আইডি হাসপাতালে পরীক্ষা করিয়ে কাগজ নিয়ে আসতে।’’ আরজিনার দাবি, মইনুদ্দিনও তাঁকে জানিয়ে ছিলেন, অযথা বিতর্ক না বাড়িয়ে আইডি হাসপাতালে গিয়ে পরীক্ষা করিয়ে তবেই গ্রামে ফিরবেন তিনি। আরজিনার কথায়, ‘‘তবে, গ্রামের লোকজন যা করলেন তাতে বিরক্ত হয়েই এখন ফোন বন্ধ করে দিয়েছেন। একেবারে রিপোর্ট নিয়েই ঘরে ফিরবেন, তখন দেখবেন।’’

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল আলিম অবশ্য বলছেন, ‘‘আমরা এমন কিছু করিনি যে মইনুদ্দিন বিরক্ত হবে, স্বাস্থ্য দফতর, পুলিশ বারবার নির্দেশ দিচ্ছে, পরীক্ষা করাতে, সে কথাই আমরা মইনুদ্দিনকে ফোনে জানিয়ে ছিলাম।’’

Advertisement

শনিবার, ভগবানগোলা ২ ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক উৎপল মজুমদার বলেন, ‘‘কথাটা কানে যেতেই গ্রামে ছুটে গিয়েছিলাম। এটাই নির্দেশ, এটাই নিয়ম। এমন পরিস্থিতিতে এটাই করণীয়। শুধু স্বাস্থ্য দফতর নয়, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা হু-এর এমনই নির্দেশ রয়েছে। অযথা আতঙ্ক না ছড়িয়ে বেলেঘাটার আইডি হাসপাতালে পরীক্ষা করিয়ে গ্রামে ফিরতে বলা হয়েছে তাঁকে।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement