গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
জেলে তাঁর ‘প্রাণসংশয়’ রয়েছে। নিজের কর্মজীবনের কথা উল্লেখ করে ফের আদালতে সেই আর্জি জানালেন কলকাতা পুলিশের প্রাক্তন ডিসি শান্তনু সিংহ বিশ্বাস। এই প্রাণ সংশয়ের কথা বলে গত শুনানিতে প্রথম শ্রেণির বন্দির মর্যাদা চেয়ে আদালতে আবেদন করেছিলেন তিনি। এ বার ওই মামলায় অপর অভিযুক্ত বেহালার ব্যবসায়ী জয় কামদারও প্রথম শ্রেণির বন্দির মর্যাদা চেয়ে আবেদন জানালেন আদালতে। অন্য দিকে কসবার ব্যবসায়ী বিশ্বজিৎ পোদ্দার ওরফে সোনা পাপ্পু নিজের শারীরিক অবস্থার কথা তুলে ধরেন বিচারকের কাছে।
শান্তনু এবং সোনা পাপ্পুকে সোমবার সশরীরে হাজির করানো হয় কলকাতার বিচার ভবনে। জয়কে হাজির করানো হয় ভার্চুয়ালি। শান্তনুর আইনজীবী গত শুনানিতেই তাঁর মক্কেলের প্রথম শ্রেণির বন্দির মর্যাদা চেয়ে আবেদন জানান। সোমবার তিনি এজলাসে সওয়াল করেন, তাঁর মক্কেল কলকাতা পুলিশের ডিসি ছিলেন। একাধিক থানার দায়িত্বে ছিলেন তিনি। শান্তনুর বক্তব্য, “আমার জীবনের থ্রেট রয়েছে। আমার তদন্তে উঠে আসা অভিযুক্তেরা জেলে রয়েছেন। জেলের পরিবেশ তো ভাল হয় না।” এ অবস্থায় শান্তনুর সামাজিক স্টেটাস, শিক্ষাগত যোগ্যতা-সহ সব দিক বিবেচনা করার জন্য বিচারকের কাছে আবেদন জানান তাঁর আইনজীবী।
অন্য দিকে ইডির আইনজীবী জানান, শান্তনুর কতটা প্রাণসংশয় রয়েছে, সে বিষয়ে ধারণা নেই তদন্তকারী সংস্থার। তাই বিষয়টি আদালতের উপরেই ছেড়ে দিয়েছে ইডি। অন্য দিকে জয়ের আইনজীবীও আদালতে আবেদন জানান, তাঁর মক্কেলকেও যাতে প্রথম শ্রেণির বন্দির মর্যাদা দেওয়া হয়। জয়ের প্রসঙ্গে ইডি আদালতে জানায়, গত ২২ মে তল্লাশির সময়ে ১৭ লক্ষ টাকা, সোনার গয়না এবং ডিজিটাল ডিভাইস পাওয়া গিয়েছে। জমি দখল এবং তোলাবাজির অভিযোগ নিয়ে কয়েক জনের বয়ান সংগ্রহ করা হয়েছে। আরও বয়ান নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। এ অবস্থায় জয়কে বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানোর আবেদন জানায় ইডি। জেলে গিয়ে জয়কে জিজ্ঞাসাবাদেরও আবেদন করা হয়।
সোনা পাপ্পুর আইনজীবী গত শুনানিতেও তাঁর মক্কেলের শারীরিক সমস্যার কথা উল্লেখ করেছিলেন। তাঁর মক্কেলের জন্য জেলে যথাযথ চিকিৎসার আর্জি জানিয়েছিলেন গত শুনানিতে। সোমবারও সোনা পাপ্পুর আইনজীবী সওয়াল করেন, জেলের হাসপাতালে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হোক। শান্তনু এবং সোনা পাপ্পুকেও জেল হেফাজতে পাঠানোর জন্য আবেদন জানায় ইডি।