অর্থ সংগ্রহে সিপিএম নেতৃত্ব। চন্দননগরে। ফাইল চিত্র।
ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়া প্রায় শেষের মুখে। তার পরেই রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হয়ে যাওয়ার কথা। এই সময়ের মধ্যে বামফ্রন্টের শরিক, ফ্রন্টের বাইরে থাকা বাম দল এবং নওসাদ সিদ্দিকীর ইন্ডিয়ান সেক্যুলার ফ্রন্টকে (আইএসএফ) সঙ্গে নিয়েই ভোটের প্রস্তুতি চূড়ান্ত করে ফেলতে চাইছে সিপিএম। কংগ্রেস এ বার বামেদের পাশে থাকবে বলে আর তেমন আশাবাদী নয় তারা।
বামফ্রন্টের শরিক, অন্য বাম দল এবং আইএসএফের সঙ্গে ইতিমধ্যে সিপিএমের দফায় দফায় আলোচনা এগিয়েছে। কংগ্রেসের সঙ্গে তেমন কিছুই হয়নি। সিপিএম সূত্রের খবর, কংগ্রেস আসবে না ধরে নিয়েই আসনভিত্তিক প্রস্তুতি এগিয়ে রাখার বার্তা দিয়েছেন দলের রাজ্য সম্পাদক। ইতিমধ্যে কংগ্রেসের ‘নীরবতা’ ও প্রদেশ কংগ্রেসের মনোভাব নিয়ে প্রকাশ্যেও কিছু মন্তব্য করেছেন সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। যা নিয়ে জলঘোলা হয়েছে, কংগ্রেসের একাংশ পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। তবে সিপিএম সূত্রের খবর, দলের রাজ্য নেতৃত্বের একাংশের মত, সমঝোতা ভাঙার ‘দায়’ কোনও ভাবেই নিজেদের ঘাড়ে নেওয়া উচিত নয়। তাতে বিজেপি ও তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ভুল বার্তা যাবে। কংগ্রেস নেতৃত্ব বারবার বলছেন, তাঁরা রাজ্যের ২৯৪টি আসনেই লড়তে চান। সিপিএমের ওই অংশের যুক্তি, কংগ্রেস যদি একা লড়ার অবস্থানই চূড়ান্ত করে, সেই সিদ্ধান্তের দায় তাদেরই হবে। কংগ্রেসের সিদ্ধান্ত পাকা হওয়ার আগেই সিপিএমের বাড়তি কিছু বলা ঠিক নয়, কংগ্রেসকে পাশে পেতে ‘মরিয়া’ ভাব দেখানোও যুক্তিপূর্ণ নয়। প্রসঙ্গত, দিল্লিতে বুধবার এআইসিসি-র সঙ্গে প্রদেশ কংগ্রেস নেতাদের বৈঠক হওয়ার কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে এক দিন পিছিয়ে গিয়েছে।
মুর্শিদাবাদে তৃণমূলের নিলম্বিত (সাসপেন্ড) বিধায়ক এবং জনতা উন্নয়ন পার্টির নেতা হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক সেলিমের একান্ত বৈঠকের জেরে বিতর্ক এখনও প্রশমিত হয়নি। তবে সূত্রের খবর, সিপিএমের রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর বড় অংশই রাজ্য সম্পাদকের সঙ্গে হুমায়ুনের বৈঠক সম্পর্কে ‘নেতিবাচক’ মনোভাব স্পষ্ট করে দিয়েছে। বিধানসভায় শূন্যের গেরো কাটানোর তাগিদে এমন কোনও পদক্ষেপ বাঞ্ছনীয় নয়, যার জেরে বিরূপ প্রতিক্রিয়াই বড় হয়ে ওঠে— এই কথাও দলের অন্দরে আলোচনায় এসেছে। যদিও জোটের আলোচনা করতে তিনি হুমায়ুনের কাছে যাননি এবং তাঁকে কোনও আশ্বাসও দেননি বলে সেলিম দলের নেতৃত্বকে জানিয়েছেন। এর পরে বামফ্রন্টের বৈঠকে বিষয়টি আলোচনায় আসতে পারে। তবে সিপিএম ও ফ্রন্টের মধ্যে বিরুদ্ধ মতের প্রেক্ষিতে হুমায়ুন-প্রশ্নে আর এগোনোর সম্ভাবনা ক্ষীণ বলেই বাম সূত্রের ইঙ্গিত।
হুমায়ুন-পর্বের রেশ ধরেই সিপিএমের নেতা-কর্মীদের একাংশ সমাজমাধ্যম ও অন্য মাধ্যমে প্রকাশ্যে যে ভাবে পরস্পরের বিরোধিতায় নানা মন্তব্য করেছেন, তা নিয়েও বিতর্ক বেধেছে সিপিএমে। প্রকাশ্যে যা খুশি বলা যে বামপন্থী সংগঠনে চলে না, এই প্রশ্নে রাজ্য সম্পাদক ও অন্য নেতারা একমত। পরবর্তী রাজ্য কমিটির বৈঠকে এই সংক্রান্ত সতর্ক-বার্তা জারি হতে পারে। সিপিএমের রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর এক সদস্যের কথায়, ‘‘সমাজমাধ্যম ও প্রকাশ্যে মন্তব্যের ক্ষেত্রে নির্দেশিকা আগে থেকেই আছে। কখনও কখনও তা অগ্রাহ্য করার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, সেটা ভাল লক্ষণ নয়।’’
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে