বিজেপির ‘রথযাত্রা’ এবং তৃণমূলের পাল্টা ‘পবিত্র যাত্রা’কে তুলোধোনা করে দু’দলকেই এক সুরে আক্রমণ করল সিপিএম। বাবরি মসজিদ ধ্বংসের বর্ষপূর্তি এবং সংবিধানপ্রণেতা বি আর অম্বেডকরের প্রয়াণ দিবস উপলক্ষে সংবিধান ও ধর্মনিরপেক্ষতা রক্ষার ডাক দিয়ে আজ, বৃহস্পতিবার শহরে মহাজাতি সদন থেকে সুরাবর্দি অ্যাভিনিউয়ে লেডি ব্রেবোর্ন কলেজ পর্যন্ত মহামিছিল করবে বামেরা। আবার সিপিএমের যুব সংগঠন ডিওয়াইএফআই সিদ্ধান্ত নিয়েছে, বিজেপির রথ যে পথ দিয়ে যাওয়ার কথা, সেখানে তার দিনদুয়েক আগে পথসভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, রক্তদান শিবির করে কেন্দ্রীয় সরকারের ব্যর্থতার বিরুদ্ধে প্রচার চালানো হবে।
সিপিএমের পলিটব্যুরো সদস্য মহম্মদ সেলিম বুধবার অভিযোগ করেছেন, ‘‘কৃষকদের ফসলের দাম, বেকারদের চাকরি বা কালো টাকা উদ্ধার করে দেশের মানুষের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা করা— গত সাড়ে চার বছরে সব প্রতিশ্রুতি পূরণেই কেন্দ্রীয় সরকার ব্যর্থ। সে দিক থেকে নজর ঘোরাতেই যুব সমাজের হাতে এখন বিভাজনের তরোয়াল ধরানোর চেষ্টা হচ্ছে। নরেন্দ্র মোদী, অমিত শাহদের নজর পড়েছে বাংলাতেও।’’ সেলিমের বক্তব্য, ভলভো বাসে বিজেপির ভোট-প্রচারকে ‘রথ’ বলে আখ্যা দিয়ে উন্মাদনা তৈরি করা হচ্ছে। আর সেই বাস যাওয়ার রাস্তা গঙ্গাজল দিয়ে ধোয়ার কর্মসূচি নিয়ে (‘পবিত্র যাত্রা’) তৃণমূল আসলে বিজেপির উদ্দেশ্যকেই মান্যতা দিচ্ছে। তাঁর প্রশ্ন, ‘‘তৃণমূল কি পবিত্র?’’
রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পরে কলকাতায় প্রতি বছর ৬ ডিসেম্বর ‘সংহতি দিবস’ পালন করে গাঁধী মূর্তির পাদদেশে সমাবেশ করে তৃণমূল। কলকাতা ও জেলায় জেলায় আজ বামেরা পথে নামার ডাক দিলেও তৃণমূলের সেই সমাবেশ এ বার হচ্ছে না। এমনকি, ‘সংহতি দিবসে’র’ কোনও প্রচারও নেই তৃণমূলের তরফে। যা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে সিপিএম। তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সীর ব্যাখ্যা, ‘‘এখন আমাদের নজর ১৯ জানুয়ারির ব্রিগেড সমাবেশে। সেখানেই রাজ্যের এবং বাইরে থেকে কর্মী-সমর্থকেরা আসবেন। তার আগে আবার জেলা থেকে কর্মীদের আনা সম্ভব নয়।’’ তিনি জানিয়েছেন, জেলায় জেলায়, বুথে বুথে মিছিল করে ‘কালাদিবস’ পালন করা হবে। প্রদেশ কংগ্রেসও আজ ‘কালাদিবস’ পালন করবে।