CPM

আসন বেছে, রামের ভোট ফেরানোর লড়াইয়ে বাম

বিধানসভা নির্বাচনের জন্য বামফ্রন্টের মধ্যে আসন বণ্টন এখনও চূড়ান্ত হয়নি। বামফ্রন্টের বাইরের কিছু বাম দল এবং ইন্ডিয়ান সেক্যুলার ফ্রন্টের (আইএসএফ) সঙ্গে সমঝোতার আলোচনা চলছে। জোট-বার্তায় কংগ্রেস এখনও ‘ইতিবাচক’ সাড়া দেয়নি।

সন্দীপন চক্রবর্তী

শেষ আপডেট: ৩১ জানুয়ারি ২০২৬ ০৭:৫১
Share:

বাঁকুড়ার সোনামুখীতে সিপিএমের সভায় দলের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। — নিজস্ব চিত্র।

সে রাম নেই, সে অযোধ্যাও নেই! পরিস্থিতি বুঝে বৃত্ত ছোট রেখে এ বার লড়াইয়ের জোর বাড়াতে চাইছে সিপিএম।

বিধানসভা নির্বাচনের জন্য বামফ্রন্টের মধ্যে আসন বণ্টন এখনও চূড়ান্ত হয়নি। বামফ্রন্টের বাইরের কিছু বাম দল এবং ইন্ডিয়ান সেক্যুলার ফ্রন্টের (আইএসএফ) সঙ্গে সমঝোতার আলোচনা চলছে। জোট-বার্তায় কংগ্রেস এখনও ‘ইতিবাচক’ সাড়া দেয়নি। এমতাবস্থায় অল্পসংখ্যক আসন চিহ্নিত করে সিপিএম সেখানে সর্বশক্তি দিয়ে ঝাঁপানোর পরিকল্পনা করছে। দলীয় সূত্রের খবর, প্রাথমিক ভাবে এমন অগ্রাধিকারের তালিকায় থাকছে ৫৫-৬০টি আসন। আরও ঝাড়াই বাছাই করে পরে ওই তালিকা আরও ছোট করে আনা হতে পারে।

কংগ্রেস এবং আইএসএফ-কে আসন ছেড়ে ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটে সিপিএম লড়েছিল ১৩৮টি আসনে। বাম শরিক ফরওয়ার্ড ব্লক ২১টি, আরএসপি ১১টি এবং সিপিআই ১০টি আসনে লড়েছিল আনুষ্ঠানিক ভাবে। তবে এর বাইরেও কংগ্রেস এবং আইএসএফের জন্য ছাড়া আসনে বাম শরিক দলের প্রার্থী ছিল। এ বারের ভোটের প্রস্তুতির শুরুতেই আলিমুদ্দিন স্ট্রিট থেকে দলের জেলা নেতৃত্বকে বার্তা দেওয়া হয়েছিল এলাকা ধরে লড়াইয়ের পক্ষে ‘সম্ভাবনাময়’ আসন চিহ্নিত করার। সূত্রের খবর, প্রাথমিক ভাবে বিভিন্ন জেলা থেকে শ’দেড়েক আসনের তালিকা এসেছে। তার মধ্যে থেকে আবার তিনটি শ্রেণিতে আসনগুলিকে ভাগ করে নেওয়া হচ্ছে। আর একগুচ্ছ আসন ধরে দলের রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্যদের মধ্যে দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়া হবে বলে সিপিএম সূত্রের খবর।

সোনামুখীতে সিপিএমের মিছিল। — নিজস্ব চিত্র।

যে আসনগুলিতে সিপিএম এ বার বাড়তি নজর দিতে চাইছে, সেগুলি মূলত উত্তরবঙ্গের দক্ষিণাংশ, মধ্যবঙ্গ এবং বৃহত্তর দক্ষিণবঙ্গের কিছু জেলায় ছড়িয়ে। এর মধ্যে যেমন সং‌খ্যালঘু-অধ্যুষিত অঞ্চল রয়েছে, তেমনই শহরতলির পুরনো উদ্বাস্তু কলোনি এলাকা রয়েছে। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সং‌শোধনে (এসআইআর) পুরনো তালিকার সঙ্গে সংযোগের অভাব এবং যুক্তিগ্রাহ্য অসঙ্গতির (লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি) কারণ দেখিয়ে যে ভাবে অজস্র মানুষকে নথিপত্র হাতে শুনানিতে ডাকা হচ্ছে, তার জেরে উদ্ভুত অসন্তোষকে কাজে লাগাতে চাইছে সিপিএম। প্রান্তিক, গরিব, সংখ্যালঘু মানুষের পাশাপাশি উদ্বাস্তু এলাকার বাসিন্দারাও এসআইআর-পর্বে বিপন্ন। এঁদের বড় অংশ গত কয়েক বছরে বিজেপিকে ভোটে সমর্থন করেছেন। তাঁদের আবার বাম দিকে ফিরিয়ে আনার দিকে এখন নজর রয়েছে সিপিএম নেতৃত্বের। শুনানির নামে হয়রানির প্রতিবাদে বাম বিক্ষোভের ঝাঁঝও তাই বেড়ে গিয়েছে।

সিপিএমের রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর এক সদস্যের কথায়, ‘‘বিভিন্ন সূত্র কাজে লাগিয়ে জেলাভিত্তিক নানা কেন্দ্র সম্পর্কে ইতিমধ্যেই তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। পরিস্থিতির নিরিখে কি‌ছু কেন্দ্রে কৌশলগত ভাবে বাড়তি গুরুত্ব দেওয়া হবে। অন্য দলের সঙ্গে সমঝোতার ক্ষেত্রেও ওই বিবেচনা থাকবে।’’ তাঁর সংযোজন, ‘‘তবে এটা কৌশলগত সিদ্ধান্ত। কোনও আসনের প্রস্তুতিতেই ঢিলে দেওয়ার প্রশ্ন নেই!’’

এখনও পর্যন্ত যা ঠিক হয়েছে, রাজ্যে ২০২৬ সালের বিধানসভা ভোট সিপিএম লড়বে ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটের মডেলে। প্রার্থী তালিকায় সামনের সারিতে থাকবে দলের তরুণ ব্রিগেডই। ‘ব্যতিক্রম’ ছাড়া দলের রাজ্য নেতৃত্বে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বপ্রাপ্ত, পুরনো নেতাদের ভোটে লড়তে দেখা যাবে না। তবে কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হয়ে গেলেও ভবিষ্যতের মুখ হিসেবে মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়কে বিধানসভার লড়াইয়ে নামাতে চায় সিপিএম।

আসনে অগ্রাধিকার বাছলেও কৌশলের ক্ষেত্রে অবশ্য ভারসাম্যের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হচ্ছে সিপিএমকে! উদ্বাস্তু এলাকা-সহ বিজেপির দিকে চলে যাওয়া যে হিন্দু বাঙালি সমর্থন তারা ফেরাতে চায়, সংখ্যালঘুদের কোনও সংগঠনের দিকে বেশি আগ্রহ দেখালে সেই অংশ আবার বেঁকে বসতে পারে! দলের কেন্দ্রীয় কমিটির এক সদস্যের বক্তব্য, ‘‘হিন্দু মহাসভা বা মুসলিম লিগের মতো কেউ এই রাজ্যে বিশেষ সুবিধা করতে পারেনি। ‌গণতান্ত্রিক ও ধর্মনিরপেক্ষ শক্তির ঐক্যই আমাদের লক্ষ্য।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন