কৃষক ও শ্রমিক সমাবেশে সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। বহরমপুরে। — নিজস্ব চিত্র।
শহিদ মিনার ময়দানে সমাবেশ থেকে জোট-বার্তা দিয়েছিলেন ইন্ডিয়ান সেক্যুলার ফ্রন্টের (আইএসএফ) চেয়ারম্যান নওসাদ সিদ্দিকী। তার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই বহরমপুরে দলীয় সভা থেকে বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি ও তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে জোটবন্ধ লড়াইয়ে আইএসএফের পাশাপাশি কংগ্রেসকেও আহ্বান জানালেন সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। সভায় তাঁর বক্তব্য, ‘‘ছাব্বিশের ভোটে অধিকার রক্ষার জন্য জাতপাত ধর্মমত নির্বিশেষে এককাট্টা হতে হবে। বিজেপি এবং তৃণমূল-বিরোধী সমস্ত শক্তিকেও এককাট্টা হতে হবে। আমরা বামফ্রন্টে এবং ফ্রন্টে নেই, এমন বামপন্থী দলগুলির সঙ্গে আলোচনা করছি। আমরা কংগ্রেসকে বলছি, আইএসএফ-কে বলেছি এবং যারা যারা বিজেপি এবং তৃণমূলের বিরুদ্ধে লড়তে রাজি আছে, তাদের সবাইকে এককাট্টা হতে বলছি।’’ কংগ্রেস অবশ্য দলীয় স্তরে আলোচনার পরেই সিদ্ধান্তের কথা বলছে।
বহরমপুরে সিপিএমের কর্মসূচিতে গিয়ে সেলিম বৃহস্পতিবার বলেছেন, ‘‘গত বারে আমরা এক সঙ্গে লড়েছিলাম। ভোটচুরি করে আমাদের হারিয়ে দেওয়া হয়েছে (মুর্শিদাবাদে)। কংগ্রেসকেও সিদ্ধান্ত নিতে হবে।’’ তাঁর আরও মন্তব্য, ‘‘জেলার কংগ্রেস দল তাকিয়ে আছে প্রদেশ কংগ্রেসের দিকে। প্রদেশ কংগ্রেস তাকিয়ে আছে, দিল্লি কী বলছে। দিল্লি তাকিয়ে আছে, কেরলের নেতা কী বলছেন। আমরা বলছি, এই বাংলার ভবিষ্যৎ কোনও হিল্লি দিল্লি ঠিক করবে না। এই বাংলার মানুষকেই ভবিষ্যৎ ঠিক করতে হবে।’’ এই প্রেক্ষিতে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকারের বক্তব্য, ‘‘আমরা তৃণমূলকে সরাতে চাই, বিজেপিকে রুখতে চাই। পশ্চিমবঙ্গে বিকল্প গড়তে চাই। দলের মধ্যেও আমরা গণতন্ত্রে বিশ্বাসী। সব ধরনের মত ও প্রস্তাব নিয়ে দলের মধ্যে আলোচনার পরে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের পরামর্শ মেনে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’’ তবে প্রদেশ নেতৃত্বের মতে, সমঝোতার ‘রসায়ন’ ঠিক রেখে ফল পেতে গেলে আগে থেকেই পদক্ষেপ প্রয়োজন ছিল। অনেকটা যেমন হয়েছিল ২০১৬ সালের আগে। ভোটের মুখে আলোচনা করতে বসলে মানুষের কাছে ঠিক বার্তা যায় না।
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে