—প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।
আলোচনা ছিল বাজেটের উপরে। কিন্তু তা কার্যত শেষ হল শাসক ও বিরোধী দু’পক্ষের সরকার গঠনের দাবি দিয়ে। আর তরজার কেন্দ্রে থেকে গেল লক্ষ্মীর ভান্ডারই।
বৃহস্পতিবারের অন্তর্বর্তী বাজেটে (ভোট-অন-অ্যাকাউন্ট) ভান্ডার-উপভোক্তাদের ৫০০ টাকা করে ভাতা বাড়িয়েছিল রাজ্য। তাতে সাধারণ শ্রেণির উপভোক্তারা মাসে পাবেন ১৫০০ এবং সংরক্ষিত শ্রেণিভুক্তরা ১৭০০ টাকা। শুক্রবার বাজেট আলোচনায় বিজেপি পাল্টা জানিয়ে দিল, তারা ক্ষমতায় এলে সেই বরাদ্দ দাঁড়াবে ৩০০০ টাকা করে। বিজেপির দাবি খারিজ করে অর্থ দফতরের স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য দাবি করেন, চতুর্থবারের জন্য ফের আসছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। দাবি উড়িয়ে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর প্রত্যয়—ক্ষমতায় আসছেন তাঁরাই।
বৃহস্পতিবার থেকেই বিজেপি বাজেটের বাস্তবতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছিল। এ দিনই অর্থনীতিবিদ তথা বিজেপি বিধায়ক অশোক লাহিড়ী বাজেট এবং সরকারপক্ষের সমালোচনা করে বিধানসভায় জানান, মূলধনী বিনিয়োগ বেশি হওয়ার কারণে ২০১৮ সাল থেকে প্রতিবেশী ওড়িশায় মাথাপিছু আয় এ রাজ্যকে ছাপিয়ে গিয়েছে। স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কৃষিতে পিছিয়ে গিয়েছে এ রাজ্য। এক একজন রাজ্যবাসীর উপর ধারের বোঝা চেপেছে প্রায় ৮১ হাজার টাকা করে! এসসি-এসটিদের বরাদ্দ বাড়েনি। তাঁর প্রশ্ন, ‘‘গত ১৫ বছর এ সব মনে পড়েনি কেন?’’ সেই সূত্র ধরেই শুভেন্দুর বক্তব্য, ফেব্রুয়ারি থেকে বর্ধিত ভান্ডার দিতে চাইলে অতিরিক্ত বরাদ্দ দরকার ছিল। আশা-অঙ্গনওয়াড়িদের সমকাজে সম বেতন হওয়া জরুরি ছিল। ভোটের আদর্শ আচরণবিধি চালু হলে উপভোক্তার সংখ্যা বা বরাদ্দ কোনওটাই বাড়ানো যাবে না। তাঁর কথায়, ‘‘এই বাজেট এপ্রিল থেকে জুলাইয়ের জন্য। অগস্ট থেকে বেকার ভাতা দেওয়া কী ভাবে সম্ভব! ২০১৩ সালে চালু যুবশ্রী প্রকল্পে বেকারদের ১৫০০ টাকা করে দেওয়ার ঘোষণা ছিল। তা উঠে গেল। সেই ১৭ লক্ষ উপভোক্তার কী হল! যুবসাথী ভাঁওতা।’’
চন্দ্রিমার পাল্টা অভিযোগ, কেন্দ্র টাকা দিচ্ছে না। জলজীবন মিশনে ৬৭ হাজার কোটি টাকা দেওয়ার কথা থাকলেও, দেওয়া হয়েছে ১৭ হাজার কোটি টাকা। তাই সংশোধিত বাজেটে মূলধনী খরচ ৩৯ হাজার কোটি থেকে কমে হয়েছে ২৬ হাজার কোটি টাকা। তাঁর মন্তব্য, ‘‘বিহার-ওড়িশাকে দেখে লাভ নেই। দেশের কী হাল হচ্ছে! কেন্দ্রও তো শিক্ষা খাতে কমিয়েছে! এসসি, এসটি, ওবিসিদের ভাবনা কেন্দ্রের বাজেটে আছে? তা তো মুখ্যমন্ত্রী মমতা ভেবেছেন। যুবশ্রী বন্ধ হয়নি, ১৮০ কোটি টাকা খরচ হয়েছে। এটা নতুন সাজের বাজেট, ভোটের বাজেট নয়।’’
বিধানসভার ওই আলোচনায় শুভেন্দুর পাল্টা অভিযোগ—৬ লক্ষ স্থায়ী পদ বিলুপ্ত হয়েছে। বামেদের সময়ের ১ কোটি বেকার বেড়ে হয়েছে ২.৫ কোটি। তাঁর কথায়, ‘‘যাঁদের চাকরি পাওয়ার কথা ছিল, তাঁদের চাকরি হবে? চাকরি চুরি হয়েছে। তাই চাকরি দেওয়ার কথা বাজেটে রাখেননি। ঢুকে গিয়েছেন ভাতায়। কেন পিএম-কিসান প্রকল্পে ২০ লক্ষ নাম আটকে রেখেছেন?’’
কেন্দ্রীয় বঞ্চনার অভিযোগ তুলে চন্দ্রিমার জবাব, ‘‘কেন্দ্রের তুলনায় রাজ্যের রাজকোষ ঘাটতি কম। জিএসডিপির তুলনায় ধারের হারও কম কেন্দ্রের থেকে। আমাদের বকেয়া ধার ৮.১৫ লক্ষ কোটি, কেন্দ্রের তা ২৬ গুণ বেশি—২১৫ লক্ষ কোটি টাকা। সেস-সারচার্জ চাপিয়ে কেন্দ্র সব টাকা নিচ্ছে, দিচ্ছে না রাজ্যকে। তা-ও আবগারিতে ১৮% এবং রেজিস্ট্রেশনে ১৬% রাজস্ব বেড়েছে। কেন্দ্র ২ লক্ষ কোটি টাকা বকেয়া না রাখলে কোনও সমস্যাই থাকত না।’’
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে