Islamabad Mosque Blast

ঢুকতেই বাধা, নিরাপত্তারক্ষীদের হাত ছাড়িয়ে ছুটে যায় ‘কবচ’ পরা জঙ্গি, মুহূর্তে বিস্ফোরণ! কী ঘটেছিল ইসলামাবাদের মসজিদে

ইসলামাবাদের মজসিদে শুক্রবার দুপুরে আত্মঘাতী বিস্ফোরণে মৃত্যু হয়েছে অন্তত ৩১ জনের, আহতের সংখ্যা দেড় শতাধিক। হামলাকারী জঙ্গির পরনে ছিল ‘সুইসাইড ভেস্ট’।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৯:২৫
Share:

পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদের মসজিদে বিস্ফোরণ। ছবি: পিটিআই।

শুক্রবার দুপুরে জু্ম্মার নমাজের সময় বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদ। শেহজাদ টাউন এলাকার শিয়া টারলাই ইমামবাড়ার শিয়া মসজিদে আত্মঘাতী বিস্ফোরণ হয়। পাকিস্তানি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানাচ্ছে, নিরাপত্তারক্ষীরা মসজিদের ফটকের সামনেই বাধা দিয়েছিলেন ওই যুবককে। সে রক্ষীদের হাত ছাড়িয়ে ভিতরের দিকে ছুটে যায়। সর্বোচ্চ জমায়েতস্থলে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে উড়়িয়ে দেয় নিজেকে। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত সরকারি হিসাবে মৃতের সংখ্যা ৩১। আহত দেড় শতাধিক।

Advertisement

ঠিক কী ঘটেছিল ইসলামাবাদের মসজিদের ভিতরে?

দুপুরে তখন শুক্রবারের নমাজপাঠ চলছিল। ফটকের সামনে যুবককে ইতিউতি ঘোরাফেরা করতে দেখেই সন্দেহ হয় নিরাপত্তারক্ষীদের। সে ভিতরে প্রবেশ করতে গেলে বাধা দেওয়া হয়। রক্ষীরা যুবকের পরিচয় জানতে চান। এই সময় আচমকা সে আগ্নেয়াস্ত্র বার করে। গুলি চালাতে শুরু করে নিরাপত্তারক্ষীদের লক্ষ্য করে। তাঁদের হাত ছাড়িয়ে কোনও রকমে জঙ্গি ঢুকে পড়ে মসজিদের ভিতর। তার পরনে ছিল ‘সুইসাইড ভেস্ট’ বা আত্মঘাতী কবচ। গোলমালের শব্দে তত ক্ষণে মসজিদে প্রার্থনাকারীরা চঞ্চল হয়ে উঠেছিলেন। উদ্বেগে অনেকে ছোটাছুটিও শুরু করে দেন। কিন্তু জঙ্গি আর বেশি সময় দেয়নি। মুহূর্তে সে বোতাম টিপে নিজেকে উড়িয়ে দেয়। সেই বিস্ফোরণে উড়ে যায় মসজিদের একাংশ। একটিমাত্র বিস্ফোরণে এত বিপুল প্রাণহানি এবং ক্ষয়ক্ষতি দেখে মনে করা হচ্ছে, মসজিদের ভিতর অনেকের জমায়েত ছিল। ঘন জমায়েতে বিস্ফোরণ ঘটাতে পেরেছে জঙ্গি। তাই দেড় শতাধিক মানুষ জখম হয়েছেন। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা।

Advertisement

আত্মঘাতী জঙ্গিকে শনাক্ত করেছে পাকিস্তান সরকার। তার নাম প্রকাশ্যে না-আনা হলেও মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউ ইয়র্ক টাইম্‌সকে পাক প্রতিরক্ষামন্ত্রী খোয়াজা আসিফ জানিয়েছেন, হামলাকারী পাকিস্তানি নাগরিক। তবে একাধিক বার আফগানিস্তানে যাতায়াত করেছিল সে। সেই প্রমাণ মিলেছে। গোটা ঘটনায় আফগান তালিবানের হাত দেখছে পাকিস্তান। দাবি, তালিবানের সঙ্গে হাত মিলিয়ে আসলে ভারতই এই হামলা পরিচালনা করেছে। যদিও বক্তব্যের সপক্ষে তারা কোনও প্রমাণ দেখাতে পারেনি। ভারত সরকার রাতেই পাকিস্তানের এই বক্তব্যের তীব্র নিন্দা করেছে। বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল ইসলামাবাদের ঘটনায় শোকপ্রকাশ করে জানিয়েছেন, অভ্যন্তরীণ সামাজিক সমস্যাগুলিতে নজর না দিয়ে পাকিস্তান অন্যকে দোষারোপ করতে ব্যস্ত। এটা দুর্ভাগ্যজনক। পাক সরকারের দাবি উড়িয়ে দিয়েছে আফগানিস্তানের তালিবান সরকারও।

সুন্নি সংখ্যাগরিষ্ঠ পাকিস্তানে অতীতেও বেশ কয়েক বার শিয়া মসজিদে প্রাণঘাতী হামলা হয়েছে। নিউ ইয়র্ক টাইম্‌সের প্রতিবেদনে দাবি, এই হামলার দায় স্বীকার করেছে ইসলামিক স্টেট্‌স (আইএস)। যদিও তাদের আনুষ্ঠানিক কোনও বিবৃতি প্রকাশ্যে আসেনি। সন্ত্রাসবাদবিরোধী সংগঠন এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষকদের দাবি, ব্যক্তিগত যোগাযোগের মাধ্যমে আইএস এই হামলার দায় স্বীকার করেছে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement