গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
পূর্ব মেদিনীপুরের দাদনপাত্রবাড়ে গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণের ঘোষণা হতে পারে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেটে। আগামী ১৮ জুন থেকে শুরু হচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বাজেট অধিবেশন। ওই দিন রাজ্যপাল আরএন রবির বক্তৃতা দিয়ে শুরু হবে অধিবেশন। ২২ জুন বিধানসভায় রাজ্যের বাজেট পেশ করবেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। নবান্ন সূত্রে খবর, সেই বাজেট বক্তৃতাতেই দাদনপাত্রবাড়ে প্রস্তাবিত গভীর সমুদ্রবন্দর প্রকল্প নিয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হতে পারে।
রাজ্য সরকারের শীর্ষ সূত্রের দাবি, বাজেট প্রণয়নের আগে অর্থমন্ত্রী বিভিন্ন জেলার প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করছেন। জেলার উন্নয়ন, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং নতুন বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে মতামত সংগ্রহ করা হচ্ছে। সেই কর্মসূচির অংশ হিসাবেই পূর্ব মেদিনীপুর সফরে যাওয়ার কথা রয়েছে অর্থমন্ত্রীর। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর রাজনৈতিক কর্মভূমি এবং নিজের জেলা হওয়ায় পূর্ব মেদিনীপুরের উন্নয়ন প্রকল্পগুলিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলেই প্রশাসনিক মহলের দাবি। নবান্নের একটি সূত্র জানিয়েছে, পূর্ব মেদিনীপুরের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক বিকাশের লক্ষ্যে দাদনপাত্রবাড়ে গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণের বিষয়টি বাজেটে বিশেষ গুরুত্ব পেতে পারে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে শুধু জেলার নয়, গোটা দক্ষিণবঙ্গের শিল্প ও বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডে নতুন গতি আসবে বলে মনে করছে সরকার।
উল্লেখ্য, গত ৪ মে বিধানসভা নির্বাচনের ফলপ্রকাশের পর রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদল ঘটে। তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূলকে পরাজিত করে ক্ষমতায় আসে বিজেপি। এর পর ৯ মে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উপস্থিতিতে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ নেন শুভেন্দু অধিকারী। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই শিল্পায়ন, পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং কেন্দ্রীয় প্রকল্প বাস্তবায়নকে অগ্রাধিকার দিয়েছে নতুন সরকার। নতুন শিল্প বিনিয়োগ টানতে ইতিমধ্যে কেন্দ্রের বিভিন্ন মন্ত্রকের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। বিশেষ করে বন্দর এবং সামুদ্রিক বাণিজ্য সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে কেন্দ্রীয় জাহাজ মন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়ালের সঙ্গে তাঁর আলোচনা ফলপ্রসূ হয়েছে বলে সরকারি সূত্রের দাবি। সেই আলোচনাতেই দাদনপাত্রবাড়ে গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণের সম্ভাবনা নিয়ে ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
এর আগে পূর্বতন সরকারের আমলে তাজপুর গভীর সমুদ্রবন্দর প্রকল্প নিয়ে পরিকল্পনা হলেও নানা কারণে তা বাস্তবায়িত হয়নি। এক সময় তাজপুরে গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণে আদানি গোষ্ঠী এগিয়ে এলেও, পরে তা বাস্তবায়িত হয়নি। কিন্তু নতুন সরকার ক্ষমতায় এসে সেই পরিকল্পনার পরিবর্তে দাদনপাত্রবাড় এলাকাকে বন্দর নির্মাণের জন্য অধিক উপযুক্ত বলে চিহ্নিত করেছে। মুখ্যমন্ত্রী নিজেও একাধিক বার জানিয়েছেন, তাজপুরের অদূরে অবস্থিত দাদনপাত্রবাড়ে আধুনিক গভীর সমুদ্রবন্দর গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, প্রস্তাবিত প্রকল্পের জন্য প্রায় ১৭০০ একর জমি ইতিমধ্যেই সরকারের হাতে রয়েছে। পাশাপাশি ওই উপকূলবর্তী অঞ্চলে সমুদ্রের গভীরতা তুলনামূলক ভাবে বেশি হওয়ায় বড় আকারের পণ্যবাহী জাহাজ সহজেই নোঙর করতে পারবে। ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রেও এই বন্দর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।
প্রশাসনিক মহলের মতে, দাদনপাত্রবাড়ে গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মিত হলে হাজার হাজার মানুষের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। পাশাপাশি পর্যটন, পরিবহণ, গুদামজাতকরণ, লজিস্টিকস এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পক্ষেত্রেও ব্যাপক বিনিয়োগ আসতে পারে। ফলে সমগ্র পূর্ব মেদিনীপুর জেলার অর্থনৈতিক চেহারা বদলে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এখন নজর ২২ জুনের বাজেট বক্তৃতার দিকে, যেখানে এই বহুল আলোচিত প্রকল্প নিয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হতে পারে বলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে।