দলের এক গোষ্ঠীর ঘনিষ্ঠ হওয়ায় তারকেশ্বর ডিগ্রি কলেজের এক ছাত্রকে রড-লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ উঠল তৃণমূলের অন্য গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে। ধনেখালির কুমরুল মাঝপাড়ার বাসিন্দা, বিএ দ্বিতীয় বর্ষের বিশ্বজিৎ সাঁতরা নামে ওই ছাত্র চুঁচুড়া ইমামবাড়া হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাঁর পরিবার আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন।
বিশ্বজিৎ নিজে কলেজে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের কর্মী। তারকেশ্বরের পুরপ্রধান, বর্ষীয়ান তৃণমূল নেতা স্বপন সামন্তের অনুগামী। স্বপনবাবুর বিরুদ্ধ গোষ্ঠী হিসেবে পরিচিত উপ-পুরপ্রধান উত্তম কুণ্ডুর অনুগামীরাই তাঁকে সোমবার কলেজে আসার পথে আমতলায় মারধর করেন বলে তাঁর অভিযোগ। উত্তমবাবু অভিযোগ মানেননি।
বিশ্বজিৎ বলেন, “কেন স্বপন সামন্তের কথা মেনে চলি, তা নিয়ে উত্তমদার ছেলেরা জবাবদিহি চায়। রড, লাঠি দিয়ে প্রচণ্ড মারে। উত্তমদার স্ত্রীও সেখানে ছিলেন। মারের চোটে জ্ঞান হারিয়ে ফেলি।’’ ওই ছাত্রের বাড়ির লোকের অভিযোগ, বিশ্বজিৎকে অচেতন অবস্থায় কাছেই একটি ওই ধর্মশালায় তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। তার পরে রাস্তার ধারে ফেলে রাখা হয়। জ্ঞান ফিরলে কোনওক্রমে তিনি কাছেই এক আত্মীয়ের বাড়িতে যান। রাতে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। বিশ্বজিতের বাবা নিত্যানন্দ সাঁতরা বলেন, ‘‘একই দলের শুধু অন্য গোষ্ঠীর সমর্থক বলে ছেলেকে কেউ এ ভাবে মারতে পারে বিশ্বাস করা যায় না। ঘটনার কথা জানিয়ে আমরা চুঁচুড়া আদালতে অভিযোগ জানিয়েছি।’’
মঙ্গলবার এ দিন হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেল, ছেলেটি যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন। বাঁ চোখের উপরে ফুলে গিয়েছে। কপালে ব্যান্ডেজ। বুকে-পিঠেও মারধরের চিহ্ন। ঘটনার কথা পুলিশের কানেও পৌঁছেছে। তবে, এ দিন বিকেল পর্যন্ত থানায় কোনও লিখিত অভিযোগ হয়নি। পুলিশ জানায়, আগে বিশ্বজিতের বিরুদ্ধেও মারধরের অভিযোগ দায়ের হয়েছিল থানায়। সেই ঘটনার জেরেই তাঁর উপরে হামলা কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।উত্তমবাবুর দাবি, ‘‘আমি বা স্ত্রী, কেউই ওই ঘটনায় যুক্ত নই। দার্জিলিংয়ে গিয়েছিলাম। সোমবার রাতেই ফিরেছি। আমাদের বদনাম করতেই অযথা এমন অভিযোগ করা হচ্ছে।’’ দলের জেলা সভাপতি তপন দাশগুপ্ত বলেন, ‘‘ঠিক কী কারণে ওই ঘটনা, দলীয় ভাবে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশও তদন্ত করুক।’’