পুরনো শত্রুতার জেরেই বালির আনন্দনগরের যুবক রবি গুহর গলা কেটে তাঁকে খুন করে তাঁদেরই এক পারিবারিক বন্ধু। বৃহস্পতিবার দুপুরে সুনীল ঘোষ নামে ওই যুবককে গ্রেফতারের পরে এমনটাই দাবি করেন হাওড়া সিটি পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্তারা। তাঁদের আরও দাবি, সুনীল পুলিশি জেরায় খুনের কথা স্বীকার করে নিয়েছে। সে জানিয়েছে, গলা কেটে দেওয়ার পরে মৃত্যু নিশ্চিত করতে রবির মুখ বালি দিয়ে চাপা দিয়ে দিয়েছিল সে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ২৪ মে সকালে আনন্দনগরের একটি ইমারতি দ্রব্যের গুদামের ভিতর রবির মৃতদেহ মেলে। তাঁর গলায় চারটি গভীর ক্ষত ছিল। ঘটনার পরে রবির স্ত্রী ও মা নিশ্চিন্দা থানায় আলাদা করে অভিযোগ দায়ের করেন। তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, ২৩ মে রাতে রিকশা চালিয়ে বাড়ি ফেরার সময়ে লোকনাথ মন্দির
অটো স্ট্যান্ডের কাছে রবির পথ আটকায় সুনীল। সুনীল পুলিশকে জানায়, এর পর সে-ই রবিকে ওই গুদামে নিয়ে যায়। সেখানে মদ্যপানের পরে বোতল ভেঙে রবির গলায় ঢুকিয়ে তাঁকে খুন করে সে। পরে দেহটি বালি চাপা দিয়ে দেয়। পুলিশ জেনেছে, খুনের রাতে কয়েকজন সুনীলকে ওই গুদাম থেকে বেরোতে দেখেন। এমনকী কিছু একটা জিনিস বালি দিয়ে চাপা দেওয়া হচ্ছে বলেও দেখতে পান লোকজন।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, স্থানীয়েরা এবং রবির স্ত্রী অভিযোগ করেন, সুনীলের সঙ্গে রবির মা মিতাদেবীর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। তা মেনে নিতে না পারায় ঝামেলা করতেন রবি। বছরখানেক আগে সুনীলকে মারধরও করেন তিনি। অন্য দিকে, বাড়ির অমতে বিয়ে করায় রবিকে সম্পত্তির ভাগ থেকে সরাতে চেয়েছিলেন মা। সেই দায়িত্ব ছিল সুনীলেরই উপর। সে-ই ওই পরিবারের অলিখিত অভিভাবক ছিল। রবিদের পরিবারের সঙ্গে সুনীলের এই সম্পর্কটা তদন্তে উঠে আসে। এর পরেই বৃহস্পতিবার আনন্দনগরে বাড়ি থেকে গ্রেফতার হয় সুনীল। জেরায় সে পুলিশকে জানায়, রবি যাতে সম্পত্তির ভাগ না চায় তাই তাঁকে উচিত শিক্ষা দিতে বলেছিলেন মিতাদেবী। সেই কারণে এবং পুরনো মারধরের রাগ থেকেই রবিকে খুন করে সে। মিতাদেবীকে জিজ্ঞসাবাদ করছে পুলিশ।