সুজিত বসু। —ফাইল চিত্র।
পুরনিয়োগ দুর্নীতির মামলায় রাজ্যের প্রাক্তন দমকলমন্ত্রী তথা প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক সুজিত বসুকে গ্রেফতার করেছে ইডি। সোমবার রাতে সুজিতকে গ্রেফতার করার পর মঙ্গলবার সকালে তাঁর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো হয়। সিজিও কমপ্লেক্সের ইডি দফতর থেকে সুজিতকে নিয়ে যাওয়া হয় বিধাননগর হাসপাতালে। সেখান থেকে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে ব্যাঙ্কশাল আদালতে।
ইডি সূত্রে খবর, মঙ্গলবার বিশেষ সিবিআই আদালতে হাজির করানো হবে সুজিতকে। সিজিও কিংবা বিধাননগর হাসপাতাল থেকে বেরোনোর সময় সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নের কোনও জবাব দেননি তিনি। বিধাননগর হাসপাতাল থেকে সুজিতকে নিয়ে আদালতের উদ্দেশে রওনা দেন ইডির আধিকারিকেরা।
সোমবার সকাল সাড়ে ১০টায় সিজিও-তে হাজিরা দিয়েছিলেন সুজিত। প্রায় সাড়ে ১০ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের পর রাতে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাটির তরফে সুজিতকে গ্রেফতার করার কথা জানানো হয়। এর আগে গত ১ মে ইডির দফতরে হাজিরা দিয়েছিলেন তিনি। তবে ৪ মে, ভোটের ফলঘোষণার পরে সোমবারই প্রথম ইডির দফতরে হাজিরা দিয়েছিলেন তিনি। সঙ্গে ছিলেন তাঁর আইনজীবী।
ইডি সূত্রে খবর, পুরনিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্তে দক্ষিণ দমদম পুরসভায় বেআইনি ভাবে চাকরিপ্রাপকদের নাম সুপারিশ করার ঘটনায় তাঁকে তলব করা হয়েছিল। ইডি সূত্রে জানা যাচ্ছে, ওই তালিকায় কম বেশি ১৫০ জন চাকরিপ্রার্থীর নাম রয়েছে। দুর্নীতির মাধ্যমে উপার্জিত টাকা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে গিয়েছে বলে মনে করছে ইডি। সেই জন্য একাধিক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সেই মামলাতে সোমবার রাত সওয়া ৯টা নাগাদ গ্রেফতার করা হয় বিধাননগর বিধানসভা কেন্দ্রের সদ্য-পরাজিত তৃণমূল প্রার্থী সুজিতকে।
বিধানসভা ভোটের আগে একাধিক বার ইডি তলব করেছিল সুজিতকে। কিন্তু ভোটের কাজে ব্যস্ততার জন্য তিনি হাজিরা দিতে পারেননি। আদালতেও তা জানিয়েছিলেন। পরে হাই কোর্টের নির্দেশ মতো সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে ইডির দফতরে গিয়ে হাজিরা দেন সুজিত। এর আগে সুজিতের বাড়ি এবং অফিসে হানা দিয়েছিল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। তাঁদের যে ধাবাটি রয়েছে, সেখানেও ইডির অভিযান চলে।