Debraj Chakraborty Arrested

পুলিশের পাশাপাশি এ বার ইডির নজরে তৃণমূল নেতা দেবরাজ! তোলাবাজির অভিযোগ খতিয়ে দেখছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা

বুধবার পুরুলিয়া থেকে গ্রেফতার করা হয় তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ক অদিতি মুন্সির স্বামী দেবরাজ চক্রবর্তীকে। গ্রেফতার করেছিল রাজ্য পুলিশের এসটিএফ (স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্স)। বৃহস্পতিবারের ভোরে তাঁকে বাগুইআটি থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০২ জুলাই ২০২৬ ১০:৫৬
Share:

দেবরাজ চক্রবর্তী। —ফাইল চিত্র।

তোলাবাজি, আয়ের সঙ্গে সঙ্গতিবিহীন সম্পত্তি-সহ একাধিক অভিযোগে বুধবার গ্রেফতার হয়েছেন তৃণমূল নেতা দেবরাজ চক্রবর্তী। এ বার তাঁর অর্থনৈতিক কার্যকলাপ খতিয়ে দেখতে তদন্তে নামতে পারে ইডি। ইডি সূত্রে খবর, দেবরাজের বিরুদ্ধে যে অভিযোগগুলি রয়েছে, সেগুলির নথি জোগাড় করছে তারা। প্রাথমিক তদন্তের পর রিপোর্ট পাঠানো হবে দিল্লিতে। এর পাশাপাশি দেবরাজের বিরুদ্ধে ইসিআইআর দায়ের করে আলাদা তদন্ত শুরু করতেও চাইছে ইডি। দিল্লির দফতর থেকে সবুজ সঙ্কেত পেলেই তদন্তপ্রক্রিয়া এবং পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।

Advertisement

বুধবার পুরুলিয়া থেকে গ্রেফতার করা হয় তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ক অদিতি মুন্সির স্বামী দেবরাজ চক্রবর্তীকে। গ্রেফতার করেছিল রাজ্য পুলিশের এসটিএফ (স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্স)। বৃহস্পতিবারের ভোরে তাঁকে বাগুইআটি থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। এর আগে দেবরাজ এবং অদিতি রক্ষাকবচ চেয়ে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। শিশুসন্তানের জন্য অদিতিকে রক্ষাকবচ দিয়েছিল আদালত। কিন্তু দেবরাজের আবেদন খারিজ হয়ে যায়।

সম্পত্তি সংক্রান্ত আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে দেবরাজ এবং অদিতির বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছিল পুলিশ। অভিযোগ, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে অন্তত ১০০ কোটি টাকার সম্পত্তি বেনামে এবং আত্মীয়-পরিচিতদের নামে হস্তান্তরিত করেছেন রাজারহাট-গোপালপুরের তৎকালীন বিধায়ক অদিতি এবং তাঁর স্বামী। দেবরাজ নিজে বিধাননগর পুরসভার কাউন্সিলর এবং মেয়র পারিষদ ছিলেন। এলাকায় প্রভাবশালী বলেই পরিচিত। দম্পতির বিরুদ্ধে আয়ের সঙ্গে সঙ্গতিবিহীন সম্পত্তি, তা গোপন করা এবং অর্থপাচারের মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। এমনকি, নির্বাচনী হলফনামায় সম্পত্তি কম করে দেখানোর অভিযোগও উঠেছে অদিতির বিরুদ্ধে। ইডি সাধারণত আর্থিক নয়ছয় কিংবা অসঙ্গতির তদন্ত করে থাকে। তাই দেবরাজের বিরুদ্ধে এই সংক্রান্ত অভিযোগ ওঠায় পুলিশের পাশাপাশি তদন্তপ্রক্রিয়ায় শামিল হতে চাইছে ইডিও।

Advertisement

পুলিশ সূত্রে খবর, দেবরাজের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন ১০ জন প্রোমোটার। তাঁদের মধ্যে এক জন হলেন কেষ্টপুরের অভিজিৎ সাহা। অভিযোগ, কেষ্টপুরের ২৪ নম্বর ওয়ার্ডে একটি নির্মাণকাজের সময় তাঁকে এবং তাঁর লোকজনকে বাধা দেওয়া হয়। দেবরাজের নেতৃত্বে মণীশ মুখোপাধ্যায় এবং তাঁর সহযোগীরা এই কাজ করেছিলেন বলে অভিযোগ। আরও অভিযোগ, প্রোমোটারের কাছ থেকে মোটা টাকা দাবি করেছিলেন তাঁরা। বলা হয়েছিল, টাকা না দিলে প্রাণে মেরে ফেলা হবে। অভিযুক্তদের রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে ওই নির্মাণকাজ বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছিলেন, এমনটাই দাবি প্রোমোটারের। তাতে তাঁর বিপুল আর্থিক ক্ষতি হয় বলে দাবি। অভিযোগকারী জানিয়েছেন, চাপের মুখে নতিস্বীকার করে দেবরাজকে ৩০ লক্ষ টাকা এবং তাঁর সহযোগী মণীশকে আরও পাঁচ লক্ষ টাকা দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু তার পর আরও টাকা চাওয়া হচ্ছিল। আবার কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়। দেবরাজদের কঠিন শাস্তি এবং ঘুষের টাকা ফেরতের দাবি জানিয়েছেন ওই প্রোমোটার। তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে বাগুইআটি থানার পুলিশ ভারতীয় ন্যায় সংহিতার সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করে। বুধবার বিধাননগর পুলিশ এবং রাজ্য এসটিএফ-এর যৌথ অভিযানে পুরুলিয়া থেকে দেবরাজকে গ্রেফতার করা হয়।

এ বিষয়ে রাজারহাট-গোপালপুরের বিজেপি বিধায়ক তরুণজ্যোতি তিওয়ারি বলেন, ‘‘ওর অ্যারেস্ট হওয়া তো সময়ের অপেক্ষা ছিল। উত্তর ২৪ পরগনায় ও ছিল অভিষেকের ডান হাত। সিন্ডিকেটের নামে কোটি কোটি টাকা তুলেছে। ওর বেআইনি সম্পত্তির হিসাব আমিই পুলিশকে দিয়েছিলাম। গ্রেফতার হয়ে ভালই হয়েছে।’’

বিধাননগর এলাকায় তোলাবাজি, সিন্ডিকেট চালানো, জমি দখলের বিবিধ অভিযোগ রয়েছে দেবরাজের বিরুদ্ধে। ২০২১ সালে ভোট-পরবর্তী হিংসার মামলাতেও তিনি অভিযুক্ত। দেবরাজের ঘনিষ্ঠ হিসাবে পরিচিত দু’জনকে সম্প্রতি গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। হাই কোর্ট থেকে দেবরাজ এক বার রক্ষাকবচ পেয়েছিলেন। দ্বিতীয় বার আর তা দেওয়া হয়নি। আদালত জানিয়েছিল, অদিতির চার মাসের শিশুসন্তান রয়েছে। তাই তাঁর আগাম জামিনের আবেদন মঞ্জুর করা হচ্ছে। তবে দেবরাজ তা পাবেন না। দম্পতিকে তদন্তে সহযোগিতা করার নির্দেশও দিয়েছিলেন বিচারপতি।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement