—প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।
সামনেই পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচন। সেই ভোটে কত কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হতে পারে, কিংবা রাজ্যের তরফে কত পুলিশ থাকবে— এমনই নানা বিষয়ে সোমবার দিল্লির নির্বাচন সদনের বৈঠকে আলোচনা হয়েছে বলে সূত্রের খবর। কত দফায় রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন করানো সম্ভব সেই সব বিষয়ও উঠে এসেছে বৈঠকে।
সোমবার দিল্লির নির্বাচন সদনে ভোটমুখী রাজ্যগুলির পরিস্থিতি নিয়ে পর্যালোচনায় বসেছিল কমিশন। সেই বৈঠকে ছিলেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার-সহ উচ্চপদস্থ আধিকারিক, সিআরপিএফের প্রতিনিধি এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের আধিকারিকেরা। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) মনোজকুমার আগরওয়ালও। শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয়, বাহিনী মোতায়েন নিয়ে ভোটমুখী অন্য রাজ্যগুলির সিইওর সঙ্গেও বৈঠক করে কমিশন।
বিধানসভা ভোটে রাজ্যের তরফে কত বাহিনী দেওয়া সম্ভব, তা নিয়ে দিন কয়েক আগে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের নোডাল অফিসারের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন সিইও মনোজ। সূত্রের খবর, ওই বৈঠকে পুলিশের নোডাল অফিসার জানান, বিধানসভা ভোটের জন্য রাজ্য পুলিশের ৩৫ হাজার সদস্য দেওয়া যেতে পারে। সোমবার দিল্লির বৈঠকে বাহিনী নিয়ে রাজ্য পুলিশের বক্তব্য জানানো হয়েছে। তা নিয়েও হয়েছে আলোচনাও।
অন্য দিকে, ভোটের সময় রাজ্যে কত কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা সম্ভব, সেই বিষয়টিও উঠে এসেছে কমিশনের বৈঠকে। ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটে এ রাজ্যে প্রায় ১১০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছিল। এ বারও কি সেই একই সংখ্যক কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন সম্ভব? না কি বাড়বে বাহিনীর সংখ্যা? সূত্রের খবর, কমিশনকে সিআরপিএফের প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, পশ্চিমবঙ্গের ভোটের জন্য ১১০০ কোম্পানিরও বেশি কেন্দ্রীয় বাহিনী দেওয়া সম্ভব। তবে শেষপর্যন্ত কত বাহিনী মোতায়েন থাকবে, তা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে কমিশন এবং অমিত শাহের মন্ত্রকের বৈঠকের পরই।
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের সময় পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ বাহিনীর বাইরেও অন্য রাজ্য থেকে পুলিশ আনা হয়েছিল। ভোটের কাজের দায়িত্বে ছিল তারা। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনেও সেই পথে হাঁটবে কি না কমিশন, তা-ও আলোচনাসাপেক্ষ। বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে এ বার রাজ্যে কত দফায় ভোটগ্রহণ করাবে কমিশন, তা নিয়ে। দু’-তিন দফায় ভোট হতে পারে— সেই জল্পনাও চলছে। তবে এ বিষয়ে এখনও কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। কেন্দ্রীয় বাহিনী, পুলিশ কত রাখা সম্ভব, তা নিয়ে আলোচনার পরই দফা সংক্রান্ত বিষয়ে সিলমোহর দেওয়া হবে।
বিধানসভা ভোটের আগে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন নিয়ে কমিশনের এই বৈঠক খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। কমিশন সূত্রে খবর, বিগত কয়েকটি নির্বাচনের অভিজ্ঞতা থেকে বাহিনী মোতায়েনের নকশা তৈরি হবে। সেই সব নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গের প্রতিটি বুথে কেন্দ্রীয় বাহিনী রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল কমিশন। এ বারও তেমনটা হতে পারে কি না, তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে সোমবারের বৈঠকে। কমিশন সূত্রে খবর, রাজনৈতিক ভাবে স্পর্শকাতর বুথগুলিতে অতিরিক্ত নজর দেওয়া হবে।
পশ্চিমবঙ্গে ২০১১ সালের পর থেকে প্রতিটি নির্বাচনেই কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন বৃদ্ধি করা হয়েছে। গত লোকসভা নির্বাচনে শেষ তথা সপ্তম দফার ভোটে হাজার কোম্পানির বেশি বাহিনী মোতায়েন করেছিল কমিশন। শুধু ওই দফাতেই ১০১৯ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী দেওয়া হয়েছিল। জম্মু-কাশ্মীরের থেকেও রাজ্যে বেশি বাহিনী মোতায়েন হয়েছিল।