SIR in West Bengal

৫৮ লক্ষের পরে আরও ৬ লক্ষ ২৫ হাজার নাম বাদ ভোটার তালিকা থেকে! নথি যাচাইয়ে বাদ যেতে পারে এর পর আরও

শুনানিতে আসা ১ কোটি ২৩ লক্ষ ভোটারের এখনও পর্যন্ত তথ্য যাচাই (ভেরিফায়েড) হয়েছে। ২১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এই তথ্য যাচাইয়ের কাজ চলবে। সুতরাং, তালিকা থেকে নাম বাদ পড়া ভোটারের সংখ্যা আরও বাড়বে।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২০:০৪
Share:

— প্রতীকী চিত্র।

রাজ্যে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর)-এর শুনানির কাজ শেষ। আপাতত ৬ লক্ষ ২৫ হাজার নাম বাদ পড়ার হিসাব পেয়েছে নির্বাচন কমিশন। কমিশন সূত্রে খবর, এর মধ্যে বেশির ভাগই শুনানিতে অনুপস্থিত ছিলেন। তারা মনে করছে, শুনানিতে অংশ নেওয়া ভোটারদের তথ্য এবং নথি যাচাইয়ের পরে এই সংখ্যা বাড়বে। এর আগে খসড়া তালিকা থেকে বাদ পড়েছিল প্রায় ৫৮ লক্ষ নাম।

Advertisement

শনিবার রাজ্যে এসআইআর শুনানির শেষ দিন। সিইও দফতর সূত্রে খবর, শেষ দিনের আগেই রাজ্যে শুনানির কাজ শেষ হয়েছে। শুনানি শেষে কমিশনের হিসাব বলছে, ৬ লক্ষ ২৫ হাজার জনের নাম বাদ যাচ্ছে। এই সংখ্যা আরও বাড়বে। কারণ, যাঁরা শুনানিতে হাজির হয়েছিলেন, তাঁদের নথি যাচাই এখনও চলছে। শুনানিতে হাজির হওয়া মোট ভোটারের মধ্যে আর ১০ থেকে ১৩ লক্ষ জনের তথ্য আপলোড হওয়া বাকি রয়েছে। এখনও পর্যন্ত তথ্য যাচাই (ভেরিফায়েড) হয়েছে ১ কোটি ২৩ লক্ষ ভোটারের। ২১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এই তথ্য যাচাইয়ের কাজ চলবে। সুতরাং, তালিকা থেকে নাম বাদ পড়া ভোটারের সংখ্যা আরও বাড়বে। এমনটাই বলছে কমিশনের সূত্র। যত সংখ্যক নাম বাদ পড়ার হিসাব কমিশন পেয়েছে, তাঁদের বেশির ভাগই শুনানিতে উপস্থিত হননি। যাঁরা উপস্থিত হয়েছেন, এ বার তাঁদের নথি যাচাই চলছে। শুনানিতে উপস্থিত হওয়া কিছু ভোটারের নথি নিয়ে সন্দিগ্ধ কমিশনের আধিকারিকেরা। তাঁদের নামও বাদের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে।

দু’ধরনের ভোটারকে শুনানিতে নথি যাচাইয়ের জন্য ডেকেছিল কমিশন। ২০০২ সালের ভোটার তালিকার সঙ্গে যাঁরা নিজেদের কোনও যোগ দেখাতে পারেননি (নো ম্যাপিং তালিকা) তাঁদের শুনানিকেন্দ্রে সশরীরে হাজিরা দিয়ে উপযুক্ত নথি দেখাতে হয়েছে। এ ছাড়া, ২০০২ সালের তালিকার সঙ্গে যোগ থাকা সত্ত্বেও নামের ত্রুটি, তথ্যগত অসঙ্গতির কারণে অনেককে শুনানিতে ডাকা হয়। শুনানিকেন্দ্রে তাঁদের তথ্য যাচাইয়ের জন্য উপস্থিত ছিলেন ইআরও, এইআরও (সহকারী ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার) এবং বুথ স্তরের আধিকারিকেরা (বিএলও)।

Advertisement

কমিশনের পূর্বের সূচি অনুসারে, গত ২৭ ডিসেম্বর থেকে শুরু হয় এসআইআরের শুনানির কাজ। শেষ দিন ছিল ৭ ফেব্রুয়ারি। তার সাত দিন পরে অর্থাৎ, ১৪ ফেব্রুয়ারি প্রকাশ হওয়ার কথা ছিল চূড়ান্ত ভোটার তালিকা। সেই দিন পিছিয়ে ২৮ ফেব্রুয়ারি হয়েছে।

রাজ্যের এসআইআর শুনানিতে প্রায় দেড় কোটি নোটিস জারি করে কমিশন। তার মধ্যে আনম্যাপড ভোটার রয়েছেন প্রায় ৩২ লক্ষ। ১ কোটি ২০ লক্ষ ভোটারকে তথ্যগত অসঙ্গতি (লজিক্যাল ডিসক্রিপ্যান্সি)-র কারণে শুনানিতে ডাকে কমিশন। সেই শুনানির কাজ শেষ হয়েছে। তার পরেই কমিশন হিসাব পেয়েছে, ৬ লক্ষ ২৫ হাজার নাম বাদ পড়ছে। সেই সংখ্যা আরও বাড়বে। কারণ, শুনানিতে যে নথি জমা পড়েছে, তা এখনও খতিয়ে দেখার কাজ শেষ হয়নি কমিশনের।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement