ইডি-র অধিকর্তা রাহুল নবীন।
তদন্তকারী অফিসার এবং আইনজীবীদের সঙ্গে দিনভর বৈঠক করলেন ইডি-র অধিকর্তা রাহুল নবীন। সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে দু’দফায় বৈঠক করেন তিনি। বিকেল সাড়ে ৪টে নাগাদ বৈঠক সেরে বেরিয়ে যান। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের কোনও উত্তরও দেননি রাহুল। তবে সূত্রের খবর, কয়লা পাচারের দু’টি মামলার তদন্তের অগ্রগতি নিয়েই এ দিন বৈঠকের বেশির ভাগ সময়ে আলোচনা হয়েছে। কয়লা পাচারে ভোট-কুশলী সংস্থা আইপ্যাকের কী যোগসূত্র সে সব রিপোর্টও খতিয়ে দেখেন অধিকর্তা। কলকাতার ইডি-র মামলার জন্য নির্দিষ্ট আদালতে মামলার অগ্রগতি নিয়ে আইনজীবীদের আরও সক্রিয় হতেও বলেছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার রাতে কলকাতায় পৌঁছন রাহুল নবীন। এ দিন সকালেই সিজিও কমপ্লেক্সে ইডি দফতরে হাজির হন তিনি। সূত্রের খবর, বৈঠকের প্রথম দফায় ২০২০ এবং ২০২৫ সালের দু’টি কয়লা পাচার মামলার তদন্তকারী অফিসার-সহ আঞ্চলিক অফিসের কর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন অধিকর্তা। কয়লা পাচার মামলায় আইপ্যাকের যোগসূত্রের তদন্ত রিপোর্ট নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি ৮ জানুয়ারি আইপ্যাক-কর্তা প্রতীক জৈনের বাড়ি ও অফিসে তল্লাশি অভিযানে কী কী বৈদ্যুতিন এবং অন্যান্য নথি হাতে এসেছিল তা নিয়েও কথা হয়েছে
বলে খবর। ইডি-র একটি সূত্রের দাবি, আইপ্যাক সংস্থার বেআইনি আর্থিক লেনদেনের বিষয়ে তদন্ত রিপোর্ট অধিকর্তাকে জমা দেওয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত, ওই অভিযানেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমার, কলকাতার পুলিশ কমিশনার মনোজ বর্মা হাজির হয়েছিলেন। পুলিশকর্মীরা কয়লা পাচারের নথি ও বৈদ্যুতিন প্রমাণ ছিনিয়ে নিয়েছেন বলে সুপ্রিম কোর্টে দাবি করেছে ইডি। মুখ্যমন্ত্রী এবং ডিজি, কলকাতার পুলিশ কমিশনার-সহ পুলিশ অফিসারদের বিরুদ্ধে ডাকাতি, প্রমাণ লোপাট-সহ বিভিন্ন গুরুতর ধারায় মামলা রুজুর আর্জিও জানিয়েছে।
সূত্রের খবর, সে দিন ইডি অফিসারেরা কী পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছিলেন তা জানতে চান অধিকর্তা। তাঁকে সে দিনের ঘটনা সবিস্তারে বলেছেন ইডি অফিসারেরা। সূত্রের খবর, কয়লার পাশাপাশি রেশন দুর্নীতি এবং পাসপোর্ট জালিয়াতির মামলার তদন্তের অগ্রগতি নিয়েও অভিজিৎ ভদ্র, অরিজিৎ চক্রবর্তী-সহ আইনজীবীদের সঙ্গেও আলোচনা করেন অধিকর্তা।
আইপ্যাক-তল্লাশি কাণ্ডে সুপ্রিম কোর্টে ৩ ফেব্রুয়ারি ফের শুনানি আছে। ইডি সূত্রের খবর, আদালত কী নির্দেশ দেয় তা দেখে ২০২০ সালের কয়লা পাচার মামলায় পরবর্তী পদক্ষেপ স্থির করা হবে বলে এ দিন আলোচনা হয়েছে। প্রসঙ্গত, ওই মামলায় দিল্লিতে ইডি-র সদর দফতরের হাতে আছে। তবে এ ব্যাপারে ভবিষ্যতে দিল্লির পাশাপাশি কলকাতা অফিসের অফিসারদের নিয়ে একটি যৌথ দল গঠন করা হতে পারে। হাওয়ালা চক্রের সন্ধানে আয়কর দফতরের সঙ্গেও সমন্বয় বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। সূত্রের খবর, কিছু প্রভাবশালী ব্যবসায়ী এবং শিল্পপতির বিরুদ্ধেও সক্রিয় হতে পারে ইডি।
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে