—প্রতীকী ছবি।
অষ্টদশ বিধানসভার অধিবেশন শনিবার শেষ হয়ে গিয়েছে। আগামী এক মাসের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা করবে নির্বাচন কমিশন। তাই শাসক তৃণমূল এবং বিরোধী বিজেপির বিধায়কেরা নিজ নিজ এলাকায় ফিরে গিয়ে জনসংযোগে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। সেই আবহে চলতি বছর এপ্রিল মাসে রাজ্যসভার মোট ৩৭টি আসনের মেয়াদ শেষ হচ্ছে। তার মধ্যে বাংলায় পাঁচটি রাজ্যসভার আসনের মেয়াদ শেষ হচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিধায়কদের ভোটেই এই রাজ্যসভার সাংসদেরা নির্বাচিত হন। তাই সেই নির্বাচনের কথা মাথায় রেখে দু’পক্ষই নিজেদের মতো করে প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে।
আগামী এপ্রিল মাসে পশ্চিমবঙ্গ থেকে তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সী, সাকেত গোখলে ও ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাংসদপদের মেয়াদ শেষ হচ্ছে। সিপিএমের আইনজীবী নেতা তথা কলকাতার প্রাক্তন মেয়র বিকাশ ভট্টাচার্যেরও মেয়াদ শেষ হচ্ছে এই এপ্রিলে। আর মৌসম বেনজির নূর যেহেতু রাজ্যসভার সাংসদপদ ত্যাগ করে তৃণমূল ছেড়ে কংগ্রেসে যোগ দিয়েছেন, তাই তাঁর আসনটি এমনিতেই শূন্য অবস্থায় রয়েছে। মোট এই পাঁচটি আসনে ভোট হবে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায়। এ ক্ষেত্রে তৃণমূলের চারজন এবং বিজেপির একজন প্রার্থীর জয় নিশ্চিত। তাই বিজেপি ও তৃণমূলের তরফে বিধায়কদের জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, রাজ্যসভার নির্বাচন ঘোষণা হয়ে গেলে দলের পক্ষ থেকে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে। দলের নির্দিষ্ট দিনে এসে তাঁদের দলীয় প্রার্থীদের মনোনয়নপত্রে প্রস্তাবক হিসেবে স্বাক্ষর করতে হবে।
প্রসঙ্গত, রাজ্যসভার নির্বাচনে একজন প্রার্থীর জন্য ১০ জন বিধায়ককে প্রস্তাবক, এবং ১০ জন বিধায়ককে তা সমর্থন করতে হয়। মোট ২০ জন বিধায়ককে এক একটি মনোনয়নপত্রের জন্য স্বাক্ষর করতে হয়। রাজ্যসভা নির্বাচনের ত্রুটিমুক্ত মনোনয়নপত্র জমা দিতে প্রত্যেক দল এক একজন প্রার্থীর জন্য একাধিক মনোনয়নপত্র দাখিল করে। তাই তৃণমূলের চারজন প্রার্থীর জন্য তৃণমূলের ২০০ জনের বেশি বিধায়ককে মনোনয়নপত্র তৈরির জন্য তলব করা হতে পারে বলেই পরিষদীয় দল সূত্রে খবর। আর বিজেপির তরফে একটি আসন নিশ্চিত। সে ক্ষেত্রেও নিজেদের হাতে থাকা ৬৫ জন বিধায়ককে দিয়ে একাধিক মনোনয়নপত্র দাখিল করানোর কৌশল ঠিক করেছে তারাও। বিধানসভার সচিবালয় সূত্রে খবর, নির্বাচন কমিশন ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণা করলেই কাজ শুরু করে দেবেন বিধানসভা কর্তৃপক্ষ। এবারের নির্বাচনে একটি আসন যুক্ত ৫০ জন বিধায়কের সমর্থন প্রয়োজন। তাই চারটি আসনে তৃণমূল প্রার্থীদের এবং একটি আসনে বিজেপি প্রার্থীদের জয় মোটামুটি নিশ্চিত। তাই এই রাজ্যসভা নির্বাচনে ভোটাভুটির সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। প্রার্থীরা মনোনয়ন দাখিল করলে স্ক্রুটিনি পর্বের পরেই তাদের বিজয় শংসাপত্র দিয়ে দেওয়া হবে বলে মনে করছে বিধানসভার সচিবালয়ের একাংশ।