Coronavirus

লক্ষণ ভাল, তবু নমুনা পরীক্ষার সংখ্যায় উদ্বেগ

স্বাস্থ্য দফতরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ২৬ অক্টোবর দৈনিক নমুনা পরীক্ষার ভিত্তিতে রাজ্যে আক্রান্তের পজ়িটিভিটির হার দশ শতাংশের (৯.৭৫) কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল।

Advertisement

সৌরভ দত্ত

শেষ আপডেট: ০৭ নভেম্বর ২০২০ ০৫:০৮
Share:

ছবি: পিটিআই।

চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছতে এখনও সপ্তাহখানেক বাকি। তবে যা লক্ষণ তাতে পুজো পরিক্রমার হাত ধরে আক্রান্ত-মৃতের অস্বাভাবিক সংখ্যা বৃদ্ধির যে আশঙ্কা করা হয়েছিল তার সম্ভাবনা ক্ষীণ বলেই মনে করছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, আদালতের রায়ের ফলে অনেকটাই রাশ টানা গিয়েছে।

Advertisement

স্বাস্থ্য দফতরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ২৬ অক্টোবর দৈনিক নমুনা পরীক্ষার ভিত্তিতে রাজ্যে আক্রান্তের পজ়িটিভিটির হার দশ শতাংশের (৯.৭৫) কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল। দফতরের অভ্যন্তরীণ রিপোর্টের তথ্য অনুযায়ী, ২০-২৬ অক্টোবরের মধ্যে ১২টি জেলায় আক্রান্ত এবং মৃতের পরিসংখ্যান ছিল ঊর্ধ্বমুখী। কিন্তু সেই ছবিতে বদল ঘটেছে। সপ্তাহখানেকের বেশি সময় ধরে চার হাজারের নীচে রয়েছে আক্রান্তের সংখ্যা। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, কলকাতা হাইকোর্টের রায়ের প্রেক্ষিতে পুজোর সময় নাগরিকদের একটি বড় অংশ যে সচেতনতার পরিচয় দিয়েছেন তার একটা ইঙ্গিত প্রতিদিনের আক্রান্তের সংখ্যায় রয়েছে। তবে অষ্টমীর রাত থেকে নাগরিকদের একাংশ রাস্তায় নেমেছিলেন, সেটাও ঠিক। তার প্রভাব বুঝতে আরও সপ্তাহখানেক অপেক্ষা করতে হবে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, দেহে ভাইরাস প্রবেশ করার পরে ১৪ দিন হল ‘ইনকিউবেশন পিরিয়ড’। সেই সময় না-পেরনো পর্যন্ত চূড়ান্ত রায় দিতে নারাজ জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞেরা। একই সঙ্গে পুজোর সংযম যাতে দীপাবলিতেও বহাল থাকে তা নিশ্চিত করার কথাও বলছেন চিকিৎসকেরা। সিএমআরআইয়ের ক্লিনিক্যাল মাইক্রোবায়োলজির প্রধান তথা চিকিৎসক দেবকিশোর গুপ্ত বলেন, ‘‘পুজোর সময় বিপুল সংখ্যাবৃদ্ধির আশঙ্কা করা হয়েছিল। এখনও পর্যন্ত দৈনিক আক্রান্তের যা পরিসংখ্যান তাতে আশাবাদী হতে পারি। তবে দশমী থেকে ধরলে ১৪ দিন পার না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত ভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়। কিন্তু হাইকোর্টের রায় এবং নাগরিকদের সচেতনতার জন্য সুফল একটা মিলেছে তা ঠিক।’’

Advertisement

আরও পড়ুন: করোনার ভয়ে কি বন্ধ হবে বাজির তাণ্ডব

তবে দৈনিক আক্রান্তের পরিসংখ্যানে বাস্তব ছবি কতখানি প্রতিফলিত হচ্ছে তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। সেই প্রশ্নের ভিত গড়ে দিয়েছে দৈনিক নমুনা পরীক্ষার সংখ্যা। গত ২৬ অগস্ট রাজ্যে প্রতিদিন নমুনা পরীক্ষার সংখ্যা চল্লিশ হাজার অতিক্রম করেছিল। এরপর প্রায় আড়াই মাস হতে চললেও চল্লিশ হাজারের ঘরেই ঘোরাফেরা করছে চব্বিশ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষার সংখ্যা। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, এই পরিসংখ্যান দিয়ে পুজো পরিক্রমার হাত ধরে আক্রান্তের প্রকৃত ছবি পাওয়া সম্ভব নয়। বস্তুত, সংক্রমণের প্রকৃত গতিবিধি বোঝার জন্য পুজোর পরে নমুনা পরীক্ষার বৃদ্ধির জন্য রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরের কাছে আর্জি জানিয়েছিল ইন্ডিয়ান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন (আইএমএ)। কিন্তু হোম আইসোলেশনে মৃত্যুর সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে আইএমএ’কে সহযোগী করলেও নমুনা পরীক্ষার আর্জি এখনও কার্যকর করেনি স্বাস্থ্য ভবন। বুলেটিনের প্রতিদিনের পরিসংখ্যান অন্তত সে কথাই বলছে।

আরও পড়ুন: মজুত বাজি বিপদ ডাকবে না তো! শঙ্কা কাটছে না

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement