তখনও ঘেরাও। শুক্রবার রাত দশটা নাগাদ নিজের দফতরে তপেশ লাহিড়ী। ছবি: বাপি মজুমদার
৩৪ ঘণ্টা বাদে ঘেরাও মুক্ত হলেন মালদহের চাঁচল কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ তপেশ লাহিড়ী। শুক্রবার রাত ১২টায় কলেজে গিয়ে তপেশবাবুকে উদ্ধার করে তাঁকে গঙ্গারামপুরের বাড়িতে পাঠানোর বন্দোবস্ত করে পুলিশ। তবে তপেশবাবু অবশ্য পুলিশ ডাকেননি।
টানা অধ্যক্ষ ঘেরাও হয়ে থাকায় উদ্বিগ্ন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের তরফে এসডিপিওকে টেলিফোন করে ঘেরাও তোলার অনুরোধ জানানো হয়। তারপরেই পুলিশ গিয়ে বিক্ষোভকারী ছাত্রদের বুঝিয়ে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষকে ঘেরাওমুক্ত করে থানায় নিয়ে যান। সেখান থেকে রাতেই তাঁকে বাড়ি পৌঁছে দেওয়া হয়।
পুলিশ তপেশবাবুকে ঘেরাও মুক্ত করার সময় তেমন বাধার মুখে না পড়লেও তাদের দাবি থেকে তারা যে সরছে না তা জানিয়ে দিয়েছে আন্দোলনকারী সিপি ও এসএফআই জোট। এ দিকে কলেজে ছাত্রবিরোধী নানা কাজের অভিযোগে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের অপসারণের দাবি ঘিরে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে তাতে রীতিমতো উদ্বিগ্ন গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। শনিবার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ-সহ প্রত্যেক শিক্ষককে ডেকে পাঠিয়ে তাঁদের নিয়ে জরুরি বৈঠকে বসেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য গোপাল মিশ্র, কলেজ সমূহের পরিদর্শক অপূর্ব চক্রবর্তী ও কলেজের প্রশাসক বিকাশ রায়।
গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য গোপাল মিশ্র বলেন, ‘‘দাবিদাওয়া আদায়ে এভাবে অধ্যক্ষকে ঘেরাও করে রাখা যেমন ঠিক নয় তেমনি ছাত্রছাত্রীদের স্বার্থ যাতে বিঘ্নিত না হয় তাও কলেজ কর্তৃপক্ষকে দেখতে হবে।’’ কলেজে যাতে সুষ্ঠ পরিবেশ ফেরানো যায় সেজন্য সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে শিক্ষকদের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে বলে জানান তিনি।
গত মঙ্গলবার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের অপসারণের দাবিতে পাঁচ ঘণ্টা ধরে কলেজে অবস্থান বিক্ষোভ করে ছাত্র পরিষদ। তারপর বৃহস্পতিবার কলেজে প্রথম বর্ষের পড়ুয়াদের ফর্ম পূরণ না হওয়ায় দুপুর থেকে ফের অধ্যক্ষকে ঘেরাও করে বিক্ষোভ শুরু হয়। অধ্যক্ষের অপসারণের দাবিতে সিপির পাশে দাঁড়ায় এসএফআইও। ওই রাতে পুলিশ নিজেই উদ্যোগী হয়ে কলেজে খোঁজখবর নিতে গেলেও অধ্যক্ষ কোনও অভিযোগ জানাননি। ফলে সারারাত কলেজে নিজের ঘরে চেয়ারেই বসে কাটান তিনি। বিশ্ববিদ্যালয় ফর্ম পূরণের সময়সীমা দু’দিন বাড়ানোর পরও সমস্যা মেটেনি। অধ্যক্ষের অপসারণের দাবিতে ঘেরাও চলতেই থাকে।
বিশ্ববিদ্যালয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার রাত গড়ালেও অধ্যক্ষ ঘেরাও মুক্ত না হওয়ায় নড়েচড়ে বসে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। গোলমাল এড়িয়ে এসডিপিও রানা মুখোপাধ্যায়কে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য অনুরোধ করেন প্রশাসক বিকাশ রায়। কিন্তু তড়িঘড়ি না করে পুলিশ একটু বেশি রাতের জন্য অপেক্ষা করতে থাকে। কেননা রাতে বিক্ষোভকারীদের সংখ্যা অনেকটাই কম ছিল।
কলেজ সূত্রে জানা গিয়েছে, পুলিশ যে অধ্যক্ষকে উদ্ধার করতে এসেছে তা বিক্ষোভকারীরা প্রথমে বুঝতে পারেনি। কেননা আগের দিনও পুলিশ অধ্যক্ষের সঙ্গে কথা বলে ফিরে গিয়েছিল। অধ্যক্ষকে নিয়ে নীচে নামার সময় আন্দোলনকারীদের কয়েকজন বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে। পুলিশ অবশ্য সংঘাতে না গিয়ে মানবিকাতার খাতিরে বাধা না দেওয়ার জন্য অনুরোধ করার পর বিক্ষোভকারীরা সরে দাঁড়ায়।
তপেশবাবু এ দিন বলেন, ‘‘ফর্ম পূরণের কাজ প্রায় শেষ। আর কোনও সমস্যা নেই। যদিও কলেজের জিএস তথা ছাত্র পরিষদ নেতা মহম্মদ ফিরদৌস ইসলাম ও এসএফআইয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা অমিতেশ পাণ্ডে এক সঙ্গেই বলেন, ‘‘দাবি না মেটা পর্যন্ত আমরা আন্দোলন থেকে সরছি না।’’
কলেজের প্রশাসক বিকাশ রায় বলেন, ‘‘পড়ুয়াদের ফি মুকুবের ব্যবস্থা ফের যাতে চালু হয় তা দেখতে বলা হয়েছে। বিধি মতো ছাত্রদের যা প্রাপ্য তা থেকে ওদের কোনওভাবেই বঞ্চিত করা চলবে না।’’ বিক্ষোভকারীদের দাবি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘কলেজের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার জন্য এ দিন বৈঠক হয়েছে। প্রত্যেকের মতামত নেওয়া হয়েছে। সব খতিয়ে দেখেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’’