শমীক ভট্টাচার্য, শুভেন্দু অধিকারীর হাত ধরে বিজেপি যোগ অর্ঘ্য রায়প্রধান, গিরিজা শঙ্কর রায়ের। ছবি: সংগৃহীত।
বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে বিজেপিকে সমর্থন করার কথা জানালেন গ্রেটার কোচবিহার পিপলস্ অ্যাসোসিয়েশনের নেতা বংশীবদন বর্মণ। অন্য দিকে, উত্তরবঙ্গের আর এক রাজবংশী নেতা গিরিজাশঙ্কর রায় মঙ্গলবার পদ্মশিবিরে যোগ দেন। তাঁর সঙ্গেই বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন মেখলিগঞ্জের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক অর্ঘ্য রায় প্রধানও।
উত্তরবঙ্গে রাজবংশী সম্প্রদায়ের দাবিদাওয়া নিয়ে দীর্ঘ দিন লড়াই করছেন বংশীবদন। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনেও পশ্চিমবঙ্গের শাসকদল তৃণমূলকে সমর্থন করেছে তাঁর সংগঠন। তবে মাস কয়েক ধরে ‘বেসুরো’ ছিলেন তিনি। শোনা গিয়েছিল, বিধানসভা নির্বাচনে আসন সমঝোতা নিয়ে ‘বিরোধ’ দেখা দেয় তৃণমূলের সঙ্গে। তিনি বার বার দাবি করেছেন, মাথাভাঙা-সহ কয়েকটি বিধানসভা কেন্দ্রে গত নির্বাচনগুলিতে যত ভোট পেয়েছে তৃণমূল, তা এসেছে তাঁর সংগঠনের জন্যই। সেই কারণে আসন্ন ভোটে আসন সমঝোতার কথা জানিয়েছিলেন বংশীবদন। শুধু তা-ই নয়, রাজবংশী প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং হাই স্কুলের অনুমোদনের দাবিও তুলেছিলেন তিনি। স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, যদি তাঁর ‘শর্ত’ পূরণ না-হয় তবে বিজেপি-কে সমর্থন করবেন!
মঙ্গলবার সেই বংশীবদনকে দেখা গেল বিজেপির কার্যালয়ে। বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী, রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের পাশে বসে বিজেপি-কে সমর্থনের কথা জানান বংশীবদন। কেন সমর্থন করছেন, তার ব্যাখ্যাও দিয়েছেন তিনি। বংশীবদনের অভিযোগ, ‘‘রাজবংশী সম্প্রদায়ের আলাদা সংস্কৃতি, ভাষা রয়েছে। কিন্তু রাজবংশী সম্প্রদায়ের উন্নয়ন এত দিন সম্ভব হয়নি।’’ কেন্দ্রীয় সরকারের কাছ থেকে রাজবংশী সম্প্রদায়ের পাশে থাকার আশ্বাস পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন বংশীবদন। সেই কারণেই বিজেপি-কে সমর্থনের সিদ্ধান্ত তাঁর।
বংশীবদনের দাবিকে সমর্থন জানান শুভেন্দু। তিনি জানান, রাজবংশী ওই নেতার ব্যক্তিগত কোনও চাওয়া-পাওয়া নেই। তিনি ভোটে লড়বেনও না। তিনি বিজেপির থেকে কিছু চানওনি। শুভেন্দুর কথায়, ‘‘বংশীবদনের যুক্তিসঙ্গত প্রস্তাব আমরা গ্রহণ করেছি।’’ তিনি এ-ও বলেন, ‘‘দমনপীড়ন সহ্য করে জেল খেটেছেন বংশীবদন। তাঁর সংগঠন কোচবিহার সংক্রান্ত হলেও উত্তরবঙ্গের সব জেলাতে তার প্রভাব রয়েছে।’’ বিরোধী দলনেতার দাবি, ২০১৬ সাল থেকে গত লোকসভা নির্বাচন পর্যন্ত তৃণমূলকে সমর্থন করেছিল বংশীবদনের সংগঠন।
অন্য দিকে, বিজেপির পতাকা হাতে নিয়ে অর্ঘ্য নিশানা করেন তৃণমূলকে। ২০১৬ সালে তৃণমূলের টিকিটে জিতে মেখলিগ়ঞ্জে বিধায়ক হয়েছিলেন তিনি। তবে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তাঁকে টিকিট দেয়নি তৃণমূল। যদিও এত দিন তৃণমূলের সঙ্গেই ছিলেন অর্ঘ্য। বিজেপিতে যোগ দিয়ে তিনি বলেন, ‘‘দুর্নীতির সঙ্গে সমঝোতা করে যে দল চলছে তাদের সঙ্গে থাকতে পারলাম না।’’ এই যোগদানপর্ব মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘উপহার’ দিচ্ছেন বলে জানান শুভেন্দু। তিনি বলেন, ‘‘মুখ্যমন্ত্রী তো এখন উত্তরবঙ্গে আছেন বলে শুনেছি। উত্তরবঙ্গ থেকে বিজেপিতে এই যোগদান ওঁর জন্য আমাদের উপহার।’’