১৯৯৭ সালের ৭ জুলাই চুঁচুড়া আদালতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ফাইল চিত্র।
বুধবার দুপুরে টিভিতে চোখ রেখেছিলেন হুগলির গুপ্তিপাড়ার সুকুমার মণ্ডল। তাঁর ২৯ বছর আগের অভিজ্ঞতা, আদালত কক্ষে সওয়াল করতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পারদর্শী, সফলও। তাই এ দিন ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) সংক্রান্ত মামলায় সুপ্রিম কোর্টে শুনানিতে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য শুনতে বসেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর গায়ে কালো শামলার পরিবর্তে ছিল কালো চাদর।
কালো শামলা গায়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে একাধিক বার আদালতে সওয়াল করতে শোনা গিয়েছে। ১৯৯৭ সালের ৬ জুলাই রথযাত্রার দিন হুগলির গুপ্তিপাড়ায় রথ টানা নিয়ে গোলমাল বাধে গ্রামবাসীদের একাংশের সঙ্গে পুলিশের। গ্রামবাসীদের ইটে তৎকালীন ওসি রবিশঙ্কর রায়ের মাথা ফাটে। পুলিশের গুলিতে মারা যান স্থানীয় বাসিন্দা হলধর মণ্ডল।
সে রাতে বাঁকুড়ায় দলীয় সভা সেরে ট্রেনে হাওড়ায় ফেরার পথে তৎকালীন কংগ্রেস নেতা প্রয়াত আকবর আলি খন্দকার এবং তপন দাশগুপ্তের কাছে মমতা খবর পান, গোলমালের আশঙ্কায় ময়না তদন্তের পরে দেহ গুপ্তিপাড়ায় নিয়ে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পুলিশ-প্রশাসন। যদিও হলধরের পরিবার চাইছিল, গ্রামে সৎকার করতে।
প্রশাসনের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে মমতা চুঁচুড়ায় তৎকালীন জেলাশাসক রাজীব দুবের বাংলোর সামনে ধর্নায় বসেন। পরদিন চুঁচুড়া আদালতের জজ কোর্টে আইনজীবী হিসেবে সওয়াল করেন। বিচারক মমতার সওয়াল শুনে পুলিশ সুপার এবং জেলাশাসককে নির্দেশ দেন, পর্যাপ্ত পুলিশি ব্যবস্থা করে গ্রামেই নিহতের দেহ সৎকারের ব্যবস্থা করতে। এ দিন হলধরের ভাই সুকুমার মণ্ডল বলেন, ‘‘দিদির (মমতা) সওয়াল শুনেছিলাম। অনেক বাঘা-বাঘা উকিলও দিদির মতো লড়তে পারবেন না!’’ হলধরের স্ত্রী অণিমার কথায়, ‘‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্যই স্বামীর মরদেহ পেয়েছিলাম।’’
তৃণমূল সূত্রের খবর, অন্য মামলায় হুগলিতে এবং প্রয়াত তৃণমূল নেতা পঙ্কজ বন্দ্যোপাধ্যায়ের হয়ে একটি মামলায় আলিপুর আদালতেও সওয়াল করেছেন দলের শীর্ষ নেত্রী। তৃণমূল গড়ার আগে, ১৯৯৪ সালে কালো শামলায় তাঁকে সওয়াল করতে দেখা গিয়েছিল দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাট আদালতে। আদালতের গ্রন্থাগার কক্ষে থাকা ৩২ বছর আগের সে ছবি এ দিন সমাজমাধ্যমে ছড়িয়েছে।
কুমারগঞ্জের আরএন হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক কমলেশ রায়ের উপরে হামলার প্রতিবাদে শামিল পার্থ সিংহ রায় নামে এক স্কুলছাত্রের মৃত্যু হয়েছিল র্যাফের গুলিতে। ৩৩ জন আটক হন। পরদিন হিলিতে কর্মসূচিতে এসেছিলেন মমতা। আটকদের জামিনের জন্য শঙ্কর চক্রবর্তী, সুভাষ চাকি, দেবাশিষ ঘোষ দস্তিদার, মন্মথ ঘোষের মতো একাধিক আইনজীবীর সঙ্গে বালুরঘাট আদালতে সওয়াল করেন তিনি।
বালুরঘাট টাউন তৃণমূল সভাপতি সুভাষ বলেন, ‘‘যোগেশচন্দ্র আইন কলেজ থেকে আমি এবং মমতা একসঙ্গে আইন পাশ করি। বালুরঘাটের সে দিন ভোলার নয়।’’ মমতার সঙ্গে থাকা বর্ষীয়ান আইনজীবী মন্মথ ঘোষ বলেন, ‘‘আইনজীবী রমেন মণ্ডলের গাউন নিয়ে আসেন সুভাষ। সেটা পরেই দাঁড়ান মমতা। ভিড় জমে যায়।’’
নিহত পার্থ সিংহ রায়ের মা অন্নপূর্ণা সিংহ রায় বলেন, ‘‘উনি (মমতা) আশ্বাস দিয়েছিলেন, আমাদের অধিকারের লড়াই লড়বেন।’’ ২০১৮ সাল নাগাদ ওই মামলার নিষ্পত্তি হয়।
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে