দিলীপ শীল।
মধ্যমগ্রামে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এক হোটেল মালিককে গ্রেফতার করল পুলিশ। বারাসত পুলিশ জেলা সূত্রের খবর, ধৃতের নাম বিকাশ শীল ওরফে বাপি। তদন্তকারীরা জানান, বুধবারের ওই অগ্নিকাণ্ডে বিকাশের হোটেলেই আটকে পড়ে মৃত্যু হয়েছিল এক বৃদ্ধ শ্রমিকের। বিকাশ সব জানা সত্ত্বেও কাউকে কিছু না জানিয়ে ঘটনাস্থল ছেড়ে পালিয়ে যান বলে অভিযোগ পুলিশের। একই সঙ্গে, নিয়ম বহির্ভূত ভাবে তিনি হোটেলে একাধিক গ্যাস সিলিন্ডার মজুত করে রেখেছিলেন।
এ দিন অভিযুক্তকে পুলিশ বারাসত এসিজেএম আদালতে তুললে তাঁকে দু’দিন পুলিশি হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন বিচারক। ধৃতের বিরুদ্ধে অগ্নিবিধি লঙ্ঘন-সহ ভারতীয় ন্যায় সংহিতা আইনে অনিচ্ছাকৃত খুন (১২৫), জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ব্যবসা চালানো (১২৫এ)-সহ একাধিক ধারায় মামলা রুজু করেছে পুলিশ।
মধ্যমগ্রাম উড়ালপুলের নীচে বুধবার দুপুরে এক জায়গায় আগুন লাগে। পুলিশের দাবি, বিকাশের দোকানেই প্রথম আগুন লেগে একটি সিলিন্ডার ফাটে। তার পরে সেখান থেকে আগুন আশপাশের একাধিক দোকানে ছড়িয়ে পড়ে। দিলীপ শীল নামে ওই বৃদ্ধ শ্রমিক আগুনে দোকানের মধ্যে আটকে পড়ে মারা যান।
পুলিশের সন্দেহ, সিলিন্ডার ফাটায় তাঁর দেহ দ্বিখণ্ডিত হয়ে যায়। পরে প্রায় কয়লা হয়ে যাওয়া অবস্থায় দিলীপের শরীরের দু’টি অংশ আলাদা আলাদা ভাবে উদ্ধার হয়। তদন্তকারীরা জানান, অন্য সিলিন্ডারগুলি স্থানীয়েরা দোকান থেকে বার করে এনেছিলেন। না-হলে বিস্ফোরণ আরও বড় আকার নিতে পারত। তার প্রভাব পড়তে পারত মধ্যমগ্রাম উড়ালপুলেও।
বারাসত পুলিশ জেলা জানিয়েছে, দিলীপের দেহের ময়না তদন্ত হয়েছে বৃহস্পতিবারেই। তবে দেহ আপাতত পরিবারের হাতে তুলে না দিয়ে সংরক্ষণ করা হবে। এক পুলিশ আধিকারিকের ব্যাখ্যা, ‘‘দেহটি যে ভাবে পুড়ে গিয়েছে, তা দেখে মানুষটিকে শনাক্ত করা সম্ভব নয়। যে কারণে ওই ব্যক্তির ডিএনএ পরীক্ষা হবে। সেই রিপোর্ট অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে।’’ পুলিশ সূত্রের খবর, ঘটনাস্থল পরীক্ষা করবে ফরেন্সিক বিভাগও।এ দিন দিলীপের পরিবার জানায়, তিনি আদতে বসিরহাটের বাসিন্দা ছিলেন। তবে তাঁর দাদার শ্যালকের সঙ্গে মধ্যমগ্রামে থাকতেন। বসিরহাটেও তাঁর যাতায়াত ছিল।
দিলীপের দাদা আনন্দ শীল বলেন, ‘‘ভাইয়ের সামান্য মানসিক সমস্যা ছিল। ওর নিজের কোনও পরিবার নেই। আমার শ্যালকের মাধ্যমে বাপির হোটেলে কাজে ঢুকেছিল সম্প্রতি। তার আগে ওই জায়গায় একটি ফুলের দোকানে কাজ করত। পুলিশের থেকে শুনলাম, ভাই বাপির দোকানেই আগুনে আটকে পড়েছিল। আমরা খুবই গরিব। ভাইয়ের পারলৌকিক কাজ করার সামর্থ্যও নেই। এখন দেহ পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছি।’’
যে ভাবে ওই এলাকার বিভিন্ন দোকানে বিপজ্জনক ভাবে সিলিন্ডার জ্বেলে রান্না করা হয়, তাতে এমন দুর্ঘটনার ঝুঁকি রয়েই যাচ্ছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। তাঁরা জানান, মধ্যমগ্রাম উড়ালপুলের নীচের অংশ দোকানে ভরে গিয়েছে। সারা দিন লোকজনের ভিড় থাকে। এমন ঘিঞ্জি পরিবেশে গ্যাস জ্বালিয়ে বিভিন্ন খাবারের দোকানে দিনভর রান্না হয়।
ওই অগ্নিকাণ্ডের জেরে মৃত্যুর ঘটনার পরে স্থানীয় বিরোধী রাজনৈতিক দল, বিশেষত সিপিএমের তরফে মধ্যমগ্রাম পুরসভার বিরুদ্ধে উড়াপুলের নীচের অংশে দোকান বসানোর অভিযোগ তোলা হয়েছে।
পাল্টা মধ্যমগ্রাম পুরসভার চেয়ারম্যান নিমাই ঘোষের দাবি, ‘‘এর আগে যখন রেলের জমিতে বেআইনি দখল ভাঙতে গিয়েছিলাম, তখন সিপিএম-ই আপত্তি তুলেছিল। ওই সব দোকান বাম আমলে বসানো হয়েছে। আমরা দ্রুত পুলিশ ও দমকলের সঙ্গে বৈঠকে বসছি। এ ভাবে গ্যাস জ্বেলে রান্না করে হোটেল চলতে দেওয়া যাবে না।’’
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে