— প্রতীকী চিত্র।
দীর্ঘ দিন ধরে গা ধাকা দিয়েছিলেন। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) শুনানিতে ডাক পেয়েই কাল হল তাঁর। পুরনো বিবাদের জেরে শুনানিকেন্দ্রের লাইন থেকে টেনে বার করে বেধড়ক মারধরের ফলে মৃত্যু হল এক যুবকের। মঙ্গলবার দুপুরে ঘটনাটি ঘটে হাওড়ার শ্যামপুর থানার অন্তর্গত ডিহিমণ্ডল ঘাট এলাকায়। মৃতদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য উলুবেড়িয়া শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় পাঁচ জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ধৃতদের বুধবার উলুবেড়িয়া মহকুমা আদালতে তোলা হয়।
পুলিশ জানায় মৃত ব্যক্তির নাম শেখ আসগর(৪২)। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বছর দেড়েক আগে আসগরের সঙ্গে ঝামেলা হওয়ার পর তাঁর বিরুদ্ধে শ্যামপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন কয়েক জন প্রতিবেশী। এর পর থেকেই ওই যুবক দীর্ঘ দিন উলুবেরিয়ার কুলগাছিয়া এলাকায় লুকিয়ে ছিলেন। দিন কয়েক আগে তাঁর বাড়িতে এসআইআর শুনানির জন্য নোটিস যায়। এর প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার বরদাবার গ্রাম পঞ্চায়েত অফিসে শুনানির জন্য কাগজপত্র নিয়ে হাজিরা দিতে এসেছিলেন। অভিযোগ, সেই সময় প্রতিবেশীরা শুনানি কেন্দ্রের সামনের লাইন থেকে তাঁকে টেনে নিয়ে গিয়ে রাস্তায় ফেলে তাঁর উপর চড়াও হন। এমনকি তাঁকে গ্রামের ভিতরে নিয়ে গিয়ে গাছে বেঁধে চেলা কাঠ দিয়েও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছোয় পুলিশ। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় ওই যুবককে উদ্ধার করে স্থানীয় ঝুমঝুম গ্রামীণ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। পরে পরিবারের লোকজন হাসপাতাল থেকে আসগারের মৃত্যুর খবর পান। এর পর তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে প্রতিবেশী সাত জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয় শ্যামপুর থানায়। পুলিশ এখনও পর্যন্ত এই খুনের ঘটনায় পাঁচ জনকে গ্রেফতার করেছে। ধৃতদের বুধবার উলুবেড়িয়া মহকুমা আদালতে তোলা হয়।