Migrant Labour Harassed in Odisha

বাংলায় কথা বলায় মার, রোজগারের ৫০ হাজার টাকা কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ! ওড়িশায় আক্রান্ত হুগলির পরিযায়ী শ্রমিক

রাজা আলি জানিয়েছেন, মাস আটেক আগে ওড়িশার কটকে কাজ করতে গিয়েছিলেন তিনি। গোঘাটের ভাদুর পঞ্চায়েতের বিরামপুর গ্রামের বাসিন্দার দাবি, তিনি বাংলায় কথা বলতেন বলে ক্রমাগত হুমকি দিতেন স্থানীয় কয়েক জন।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১১ জানুয়ারি ২০২৬ ১৭:০৪
Share:

পরিবারের একমাত্র রোজগেরে রাজা আলি কাজ ছেড়ে ওড়িশা থেকে পালিয়ে এসেছেন। —নিজস্ব ছবি।

ওড়িশায় আবার লাঞ্ছিত পশ্চিমবঙ্গের পরিযায়ী শ্রমিক। শুধু মারধরই নয়, কঠোর পরিশ্রম করে উপার্জন করা ৫০ হাজার টাকাও কেড়ে নিয়েছেন আক্রমণকারী। হুগলির গোঘাটে বাড়িতে ফিরে এমনই অভিযোগ রাজা আলির। আগামী ২২ জানুয়ারি তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় হুগলিতে সভা করতে গেলে তাঁর সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছেন ওই যুবক।

Advertisement

মাস আটেক আগে ওড়িশার কটকে কাজ করতে গিয়েছিলেন পাথরমিস্ত্রি রাজা। গোঘাটের ভাদুর পঞ্চায়েতের বিরামপুর গ্রামের বাসিন্দার দাবি, তিনি বাংলায় কথা বলতেন বলে ক্রমাগত হুমকি দিতেন স্থানীয় কয়েক জন। শেষে এমন পরিস্থিতি হয় যে, ভয়ের চোটে লুকিয়েই কাজ করতেন। এমনকি, তিনি যখন ভাড়াবাড়িতে থাকতেন, সেই বাড়ির মালিক অশান্তি এড়াতে বাইরে থেকে দরজায় তালা দিয়ে রাখতেন।

এ ভাবেই চলছিল। কিন্তু বুধবার ১০-১২ জন তালা ভেঙে ঘরে ঢুকে তাঁকে বেধড়ক মারধর করেছেন বলে অভিযোগ রাজার। তিনি বলেন, ‘‘বাংলায় কথা বলাই হল অপরাধ! বাংলাদেশি সন্দেহ করে আমায় পিটিয়েছে।’’ রাজার এ-ও দাবি, তাঁদের গ্রামে প্রায় ১৭০টি পরিবার বসবাস করে। প্রায় সকলেই বিজেপির সমর্থক। এবং গ্রামের পুরুষদের অনেকেই ভিন্‌রাজ্যে কর্মরত। বিজেপিশাসিত রাজ্যে তাঁর উপর আক্রমণের খবর ছড়িয়ে পড়তে প্রতিবেশীরাও উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন। রাজা বলেন, ‘‘আমাকে ‘জয় শ্রীরাম’ বলতে বাধ্য করা হয়। তার পরেও ৮ মাস ধরে কষ্ট করে রোজগারের ৫০ হাজার টাকা কেড়ে নিয়েছে। ভয়ে-আতঙ্কে রাতের অন্ধকারে লুকিয়ে ওড়িশা ছেড়েছি।’’

Advertisement

স্বাভাবিক ভাবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতর শুরু হয়েছে। এ নিয়ে বিজেপিকে নিশানা করেছে তৃণমূল। তারা রাজা এবং তাঁর পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দিয়েছে। যদিও স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব রাজার অভিযোগ অস্বীকার করেন। তাঁদের দাবি, এমন কোনও ঘটনা ঘটেইনি।

অন্য দিকে, ছেলের উপর নির্যাতনের কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন রাজার অসুস্থ বাবা। বৃদ্ধ বলেন, ‘‘ছেলের রোজগারে সংসার চলত। ওর উপার্জনের টাকাটাও ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। এখন আমাদের কী ভাবে চলবে, সেটা ভেবেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েছি।’’ রাজার পরিবার জানিয়েছেন, আগামী ২২ জানুয়ারি হুগলিতে তৃণমূল নেতা অভিষেক আসবেন বলে শুনেছেন। তাদের অসহায়তা এবং দুরবস্থার কথা তৃণমূল নেতাকে জানাতে চান।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement