—প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।
এঁদের কারও বয়স কুড়ি, কারও বাইশ, কারও বা আরও বেশি। কারও কথা বলার সমস্যা, কারও মানসিক, আবার কারও শারীরিক সমস্যা রয়েছে। বাড়ির সঙ্গে যোগাযোগ নেই তাঁদের। প্রশাসনের তরফে তাঁদের উদ্ধার করে রেখে আসা হয়েছিল উলুবেড়িয়া আশা ভবন সেন্টারে। এমনই ২০ জনের আইনি অভিভাবকত্বের দাবি জানিয়ে প্রশাসনের দ্বারস্থ হলেন হোম কর্তৃপক্ষ। হাওড়া জেলা প্রশাসনের এক কর্তা বলেন, ‘‘প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে আবেদন এসেছে। খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’’
বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মহিলাদের পড়াশোনা শিখিয়ে মূল স্রোতে ফেরানোর জন্য গত কয়েক বছর ধরে কাজ করে চলেছে এই আশা ভবন সেন্টার। ১৮ বছর বয়স পর্যন্ত ভবনে রেখে ওই মেয়েদের পড়াশোনা করিয়ে ও হাতের কাজ শিখিয়ে তাঁদের স্বনির্ভর করার চেষ্টা চলে। পরে তাঁদের ঠিকানা খুঁজে পেলে বাড়িতে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়। ওই ভবন সূত্রে জানা গিয়েছে, যাঁদের অভিভাবকত্বের দাবি জানানো হয়েছে, তাঁদের ঠিকানা মিলছে না।
ভবনের সুপারিনটেন্ডেন্ট অরুণিমা জাসু জানান, বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন মহিলারা সচরাচর সাধারণ হোমে থাকতে পারেন না। তাঁদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা করতে হয়। হাওড়ায় এমন হোমের ব্যবস্থা নেই। তিনি বলেন,‘‘এই মেয়েদের উপর আমাদের মায়া পড়ে গিয়েছে। তাই আমরা ঠিক করেছি, ওঁদের আইনি অভিভাবকত্ব নিয়ে আমরা দেখাশোনা করব। এই ২০ জনের ঠিকানা হবে আশা ভবন সেন্টার।’’
ন্যাশনাল ট্রাস্টের (হাওড়া জেলা পর্যায় কমিটি) সদস্য অজয় দাস জানান, ভারতের সাধারণ আইনে ১৮ বছর হয়ে গেলে মানুষ নিজের সিদ্ধান্ত নিজে নেওয়ার অধিকারী হন। এর ব্যতিক্রম, মানসিক প্রতিবন্ধী, অটিস্টিক, সেরিব্রাল পলসি এবং একাধিক প্রতিবন্ধকতা যুক্ত মানুষেরা। এমন প্রতিবন্ধকতা যুক্ত মানুষের ১৮ বছর হয়ে গেলে তাঁর নিকট আত্মীয় অথবা ন্যাশনাল ট্রাস্টের নথিভুক্ত কোনও প্রতিষ্ঠানকে আইনি অভিভাবকত্ব নিতে হয়। অজয়ের কথায়, ‘‘আশা ভবন সেন্টারের এই উদ্যোগ। এই বিষয়ে আরও সচেতনতা দরকার।’’
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে