ছবি: এআই সহায়তায় তৈরি।
কৃত্রিম মেধা বা এআই প্রযুক্তির রমরমার কারণে যখন বিশ্ব জুড়ে বিভিন্ন সংস্থা দ্রুত গতিতে কর্মী ছাঁটাই করছে, তখন আমেরিকার একটি প্রতিষ্ঠানের সিইও কর্মক্ষেত্রে উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে এক ব্যতিক্রমী পন্থা অবলম্বন করেছেন। জানা গিয়েছে, কর্মীদের জন্য উন্নত মানের ‘ম্যাট্রেস’ বা গদি কিনতে হাজার হাজার ডলার বিনিয়োগ করেছেন এআই-ভিত্তিক স্টার্টআপ সংস্থা ‘ফ্যাক্টরি’-র সিইও মাতান গ্রিনবার্গ। তাঁর এই বিশেষ কৌশলের লক্ষ্য, কর্মীরা যেন পর্যাপ্ত এবং ভাল ভাবে ঘুমোতে পারেন ও কর্মক্ষেত্রে প্রতি দিন নিজেদের সেরাটা দিতে পারেন। বিশ্রামকে সরাসরি অগ্রাধিকার দেওয়ার মাধ্যমে গ্রিনবার্গ মূলত সংস্থার সামগ্রিক দক্ষতা বৃদ্ধি এবং সর্বোচ্চ ফলাফল নিশ্চিত করার চেষ্টা করছেন বলে জানা গিয়েছে।
কিন্তু কেন এমন সিদ্ধান্ত? গ্রিনবার্গের যুক্তি, শীর্ষস্থানীয় ক্রীড়াবিদদের মতো তাঁর ইঞ্জিনিয়ারদেরও সর্বোচ্চ পর্যায়ে কাজ করার জন্য পর্যাপ্ত বিশ্রামের প্রয়োজন। সংবাদমাধ্যম ‘বিজ়নেস ইনসাইডার’কে গ্রিনবার্গ বলেন, ‘‘আমি নিশ্চিত করতে চাই যে প্রত্যেকেই যেন তাঁদের মস্তিষ্কের ক্ষমতার সর্বোচ্চটুকু কাজে লাগাতে পারেন। আর তার জন্য ভাল ঘুম অত্যন্ত জরুরি।’’
গ্রিনবার্গ আরও জানিয়েছেন, তাঁর স্টার্টআপ সংস্থায় যখন মাত্র ৩০ জন কর্মী ছিলেন, তখনই পুরো দলের জন্য ৩,০০০ ডলার (প্রায় ২.৮৩ লাখ টাকা) মূল্যের ‘এইট স্লিপ’ গদির ঢাকা কিনে দিয়েছিলেন তিনি। উচ্চ-প্রযুক্তির এই ঢাকাগুলি ভিতরে থাকা তরল পদার্থের মাধ্যমে বিছানার তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে এবং ব্যবহারকারীরা চাইলে তাদের নিজেদের দিকের তাপমাত্রা নিজেদের পছন্দমতো নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন। গদি উঁচু বা নিচু করার জন্য স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থাও রয়েছে।
গ্রিনবার্গ বলেন, ‘‘আমার সিদ্ধান্তের নেপথ্যের মূল ধারণা হল কাজের ফলাফল সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া। আমরা দলে যাঁদের নিচ্ছি, তাঁরা অনেকটা বাস্কেটবলের সেরা খেলোয়াড়দের মতো দক্ষ। তাই তাঁদের আরও বেশি উৎপাদনশীল করে তোলা এবং আমাদের উচ্চাকাঙ্ক্ষী লক্ষ্যগুলি অর্জনের জন্য এই বিনিয়োগের প্রতিটি ডলারই সার্থক বলে আমি মনে করি।’’ যদিও নতুন কর্মীরা এখনও সেই বিলাসবহুল গদিগুলো পাননি, তবে গ্রিনবার্গ জানিয়েছেন যে তিনি এগুলিকে প্রতিষ্ঠানের সব কর্মীর হাতে তুলে দেওয়ার কথা ভাবছেন।
কর্মচারীরা যাতে পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করতে পারেন সে দিকে খেয়াল রাখার পাশাপাশি, গ্রিনবার্গ অফিসের কর্মীদের প্রক্রিয়াজাত চিনি খাওয়াও সীমিত করেছেন। তাঁর মতে, চিনি মনোযোগ ধরে রাখার ক্ষেত্রে সহায়ক নয়। তার পরিবর্তে তাঁর স্টার্টআপ সংস্থাটি প্রোটিন চিপস এবং মাচার মতো অপেক্ষাকৃত ব্যয়বহুল এবং স্বাস্থ্যকর জলখাবারের পিছনে অর্থ ব্যয় করে।
২০২৩ সালে তৈরি হওয়া ‘ফ্যাক্টরি’ দ্রুতগতিতে তাদের কার্যক্রম সম্প্রসারিত করেছে। বর্তমানে সংস্থায় প্রায় ১২০ জন কর্মী রয়েছেন এবং গত এপ্রিলে সংস্থাটি ১৫ কোটি ডলারের তহবিল সংগ্রহ করেছে।