—প্রতীকী চিত্র।
শীতের আমেজ পড়তেই পরিযায়ী পাখিদের পছন্দের গন্তব্য ও তাদের স্বর্গরাজ্য সাঁতরাগাছি ঝিলকে দূষণমুক্ত করতে এবং তাদের জন্য নিরাপদ আশ্রয় নিশ্চিত করতে কোমর বেঁধে নামল রাজ্য প্রশাসন। নবান্ন সূত্রের খবর, হাওড়ার এই ঐতিহ্যবাহী ঝিলকে বাঁচাতে এবং পরিযায়ী পাখিদের আকর্ষণ করতে প্রায় ২৯ কোটি টাকার একটি সুসংহত পরিকল্পনারূপায়িত হচ্ছে। শীতের শুরুতে সুদূর সাইবেরিয়া বা মধ্য এশিয়া থেকে আসা পাখিদের যাতে বিন্দুমাত্র অসুবিধা না হয়, তা নিশ্চিত করতেই এই তৎপরতা। জাতীয় পরিবেশ আদালতে চলা সাঁতরাগাছি ঝিলের দূষণ সংক্রান্ত একটি মামলায় এমনটাই জানিয়েছে রাজ্য সরকার।প্রশাসনিক স্তরে জানানো হয়েছে, ঝিলের বাস্তুতন্ত্র রক্ষা এবং পরিযায়ী পাখিদের অনুকূল পরিবেশ গড়ে তোলাই এই মুহূর্তে সরকারের অগ্রাধিকার।
প্রশাসনিক সূত্রের খবর, কলকাতা মেট্রোপলিটন ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (কেএমডিএ) এই ঝিলের দূষণ রোধে কর্মযজ্ঞ শুরু করেছে। ২৮ কোটি ৮২ লক্ষ টাকা খরচ করে ‘ইন্টারসেপশন ও ডাইভারশন’ নেটওয়ার্ক, দু’টি শক্তিশালী পাম্পিং স্টেশন এবং একটি অত্যাধুনিক পয়ঃপ্রণালীশোধনাগার বা এসটিপি তৈরির কাজ চলছে। নথিপত্র অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে এই কাজের চূড়ান্ত বরাত দেওয়া হয়েছে এবং ২০২৬ সালের অগস্টের মধ্যে এই প্রকল্পটি শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। ঝিলের পলি পরিষ্কার এবং বর্জ্য জল মেশা আটকাতে ইতিমধ্যেই ২০৪৬ মিটারের মধ্যে ৩৫০ মিটার পাইপলাইন বসানো শেষ হয়েছে। বর্তমানে এসটিপি এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক পরিকাঠামো তৈরির কাজ দ্রুত গতিতে এগোচ্ছে।
ঝিলে পরিযায়ী পাখিদের নিরাপত্তার বিষয়টি দেখাশোনা করছে পশ্চিমবঙ্গ জীববৈচিত্র পর্ষদ। প্রশাসনিক সূত্রের খবর, ঝিলের জলজ উদ্ভিদ এবং সামগ্রিক বাস্তুতন্ত্রের রক্ষণাবেক্ষণের জন্য পর্ষদ ইতিমধ্যেই ৯ লক্ষ ৪৩ হাজার ৪০০ টাকা বরাদ্দ করেছে। একটি বিশেষজ্ঞ সংস্থাকেও এই ঝিলের গাছপালা ও পরিবেশ রক্ষার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে কচুরিপানাপরিষ্কার করে ঝিলটিকে পাখিদের অবতরণ ও বিচরণের যোগ্য করে তোলার কাজ চলছে জোরকদমে। পাখিদের জীবনচক্রে যাতে কোনও ব্যাঘাত না ঘটে, তাই পর্ষদের আধিকারিকেরা নিয়মিত এই কাজের তদারকি করছেন।
একই সঙ্গে ঝিল সংলগ্ন এলাকার আর্থ-সামাজিক উন্নয়নেও বিশেষ নজর দিচ্ছে প্রশাসন। সূত্রের খবর, ঝিল থেকে সংগৃহীত কচুরিপানা হস্তশিল্পের কাজে ব্যবহারের মাধ্যমে স্থানীয় মহিলাদের স্বনির্ভর করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই চারটি গোষ্ঠীর মহিলাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। হাওড়া পুরসভার পক্ষ থেকে ঝিল সংলগ্ন এলাকায় নিয়মিত জঞ্জাল অপসারণ করা হচ্ছে বলে প্রশাসনের অন্দরের খবর।
যদিও সাঁতরাগাছি ঝিলের দূষণ নিয়ে জাতীয় পরিবেশ আদালতে মামলার আবেদনকারী সুভাষ দত্ত জানাচ্ছেন, পরিবেশ রক্ষায় রাজ্য সরকারের এই বহুমুখী পরিকল্পনা আসলে কতখানি আন্তরিক আর কতখানি খাতায়-কলমে সীমাবদ্ধ, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। তাঁর কথায়, ‘‘সাঁতরাগাছি ঝিলকে দূষণমুক্ত করার এই ২৯ কোটি টাকার প্রকল্প শেষ পর্যন্ত পরিযায়ী পাখিদের টানবে, না কি কেবলই সরকারি বিজ্ঞাপনের অঙ্গ হয়ে থেকে যাবে, তার উত্তর তো সময় দেবে!’’
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে