Sexual harassment

যৌন হেনস্থায় অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফুঁসছে হাওড়া

রবিবার দুপুরে চ্যাটার্জিহাট থানার গণধর মিস্ত্রি ২ বাই লেন এলাকায় এক স্কুলছাত্রীকে যৌন হেনস্থা করে রজপ্রিয়।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১০:২১
Share:

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

এক-দু’বার নয়, প্রায় নিয়মিত ভাবে রাস্তা দিয়ে একা হাঁটতে দেখা গেলেই যে কোনও বয়সের মহিলাকে যৌন হেনস্থার চেষ্টা করত হাওড়ার মদের দোকানের মালিক রজপ্রিয় সাহা। সম্প্রতি জোড়া যৌন হেনস্থার ঘটনার পরে অবশেষে সেই অভিযুক্ত গ্রেফতার হয়েছে। যদিও তাকে ঘিরে ক্ষোভে ফুঁসছেন চ্যাটার্জিহাট এলাকার বাসিন্দারা। অভিযোগ, ধৃতের মদতেই তার মদের দোকান সংলগ্ন এলাকায় দিনের পর দিন প্রকাশ্যে মহিলাদের উত্ত্যক্ত করা ও মদ্যপান চলত। সোমবার ধৃতকে হাওড়া জেলা আদালতে তোলা হলে বিচারক পাঁচ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন।

পুলিশ সূত্রের খবর, রবিবার দুপুরে চ্যাটার্জিহাট থানার গণধর মিস্ত্রি ২ বাই লেন এলাকায় এক স্কুলছাত্রীকে যৌন হেনস্থা করে রজপ্রিয়। স্থানীয় বাসিন্দারা তাকে ধরতে এলে নম্বর প্লেট ঢাকা বাইকে চেপে চম্পট দেয় সে। গত শনিবার শিবপুরের নস্করপাড়া লেনেও একই কায়দায় এক স্কুলশিক্ষিকাকে যৌন হেনস্থার চেষ্টা করার অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। এর পরে দু’টি ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে স্থানীয়েরাই অভিযুক্তকে হাতেনাতে ধরে ফেলে পুলিশের হাতে তুলে দেন। সোমবার সকালে অভিযুক্তের মদের দোকান খোলার চেষ্টা হলে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয়েরা। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ ওই দোকান বন্ধ করে দেয়।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, ডুমুরজলা স্টেডিয়াম থেকে বেলেপোল মোড় পর্যন্ত রাস্তায় সন্ধ্যা নামলেই বাইক নিয়ে ঘোরাফেরা করত রজপ্রিয়। নাবালিকা থেকে গৃহবধূ— কাউকেই রেহাই দিত না সে। ওই রাস্তাতেই অভিযুক্তের মদের দোকান রয়েছে। অভিযোগ, রজপ্রিয়ের মদতেই দোকানের বাইরে রাস্তার ধারে জল ও ঠান্ডা পানীয়ের বোতলে ভরে মদ্যপান চলত প্রকাশ্যে। ফলে এলাকাটি কার্যত সমাজবিরোধীদের আখড়ায় পরিণত হয়েছিল। ধৃতের নিজের পাড়া শ্যামশ্রী এলাকাতেও তার কীর্তিকলাপে চরম ক্ষোভ জমেছে স্থানীয়দের মধ্যে।

স্থানীয় ৪৪ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল নেতা পার্থ বসু বলেন, ‘‘রজপ্রিয়ের বিরুদ্ধে বহু দিন ধরেই অভিযোগ রয়েছে। সে এলাকায় জঘন্য পরিবেশ তৈরি করেছিল। পুলিশকে কড়া ব্যবস্থা নিতে হবে।’’ হাওড়া আদালতের সরকারি কৌঁসুলি তারাগতি ঘটক জানান, ‘‘অভিযুক্ত জামিনের আবেদন করেছিল। বিচারক সঙ্গে সঙ্গে তা খারিজ করেছেন।’’ এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত স্থায়ী ভাবে মদের দোকানটি বন্ধ করে এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করুক প্রশাসন।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন