হিন্দমোটর ধর্ষণকাণ্ডে ধৃতকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে আদালতে। —নিজস্ব ছবি।
কখনও নিজেকে যুব তৃণমূলের নেতা বলে দাবি করেছিলেন। কখনও বলেছিলেন, ‘আমি সিভিক ভলান্টিয়ার।’ দ্বিতীয় দাবি নস্যাৎ করে দিয়েছে পুলিশ। প্রথম দাবি নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতর। হুগলির উত্তরপাড়ায় বন্ধ হিন্দমোটর কারখানার ভিতরে ছাত্রীকে ধর্ষণে অভিযুক্ত এ বার দাবি করেছেন, তাঁকে আইনি সহায়তা দেবেন তৃণমূল সাংসদ তথা আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। সে কথা কানে যেতেই রেগে গেলেন শ্রীরামপুরের সাংসদ। তিনি জানান, ধর্ষণকাণ্ডে কত তাড়াতাড়ি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া যায় আসামিকে, আদালতের কাছে সেই আবেদনই রাখবেন।
হিন্দমোটরে এক নাবালিকাকে ধর্ষণের অভিযোগে শুক্রবার থেকে উত্তেজনা এলাকায়। এ পর্যন্ত দু’জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাঁদের মধ্যে একজন ‘তৃণমূল নেতাদের ঘনিষ্ঠ’ বলে দাবি করেছে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি। দ্বিতীয় অভিযুক্ত নাবালক এবং সে ‘নির্যাতিতা’র বন্ধু। পুলিশ সূত্রে খবর, গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় দুই তরুণ-তরুণী বন্ধ থাকা হিন্দমোটর কারখানায় গিয়েছিলেন। সেখানে উপস্থিত হন জনাতিনেক লোক। তাঁরা ব্ল্যাকমেল করে মেয়েটিকে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ। শুক্রবারই মূল অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তিনি নিজেকে ‘তৃণমূলের লোক’ এবং সিভিক ভলান্টিয়ার বলে দাবি করেছিলেন। শনিবার দুপুরে তাঁকে আদালতে হাজির করানো হয়। বিচারক তাঁকে তিন দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন। আদালতে যাওয়ার পথে অভিযুক্ত বলেছিলেন, ‘‘আমি নির্দোষ। আমাকে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আইনি সহায়তা দেবেন।’’
ধর্ষণকাণ্ডে অভিযুক্তের এই মন্তব্য প্রসঙ্গে আইনজীবী-সাংসদ প্রথমেই দাবি করেন, ধৃত ব্যক্তি তৃণমূলের কেউ নন। তার পর কল্যাণ জানান, তাঁকে তিনি আইনি সহায়তা করবেন কি না, এমন কোনও প্রশ্ন ওঠাই উচিত নয়। শ্রীরামপুরের সাংসদের কথায়, ‘‘কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় কখনও কোনও ক্রিমিনালকে প্রশ্রয় দেয় না। ‘রেপ’ করেছে তো? আমরা চাইব যাতে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়।’’
ধর্ষণকাণ্ডে ধৃতের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে শোরগোল অব্যাহত। বাম এবং বিজেপির দাবি, দীর্ঘ দিন ধরে শাসকদলের ছত্রছায়ায় রয়েছেন ওই যুবক। এখন তাঁর জঘন্য অপরাধ সকলের সম্মুখে আসায় ‘সম্পর্ক’ অস্বীকার করছে তৃণমূল। বিচারের দাবিতে উত্তরপাড়া টিএন মুখার্জি রোড অবরোধ করে বিজেপি। আগামী ১৪ জানুয়ারি উত্তরপাড়ায় বিক্ষোভ কর্মসূচি করবে সিপিএম। এ প্রসঙ্গে কল্যাণ বলেন, ‘‘এদের অনেক আগেই পার্টি থেকে বার করে দেওয়া হয়েছে।’’