কাজে বাধা এলাকাবাসীর। শুক্রবার সকালে ভাবাদিঘিতে। — নিজস্ব চিত্র।
দীর্ঘদিনের জট কেটে যাওয়ায় গত বছরের ১১ সেপ্টেম্বর থেকে গোঘাটের ভাবাদিঘিতে তারকেশ্বর-বিষ্ণুপুর রেলপথ নির্মাণের কাজ মসৃ্ণ ভাবেই চলছিল। কিন্তু কিছু দাবি পূরণ না-হওয়ায় শুক্রবার সকালে ফের কাজে বাধা দিলেন গ্রামবাসী। সকাল থেকে বেলা প্রায় ১২টা পর্যন্ত কাজ থমকে থাকে। গোঘাটের বিধায়ক প্রশান্ত দিগার এবং ব্লক প্রশাসনের কর্তারা গ্রামবাসীদের নিয়ে বৈঠকে দাবি পূরণের আশ্বাস দিলে কাজশুরু হয়।
আন্দোলনকারীদের দাবিগুলির মধ্যে রয়েছে বিকল্প জলাশয় খনন, প্রাথমিক স্কুল ভাঙা পড়ায় বিকল্প একটি স্কুল নির্মাণ, এলাকার রাস্তা ও দিঘির সংস্কার, উত্তর দিকের খালের জল যাতে দিঘিতে না ঢুকতে পারে, সে মতো উঁচু বাঁধ তৈরি ইত্যাদি। ‘দিঘি বাঁচাও কমিটি’র সম্পাদক সুকুমার রায় বলেন, “আমাদের অনেকগুলি দাবিই মেটানোর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল প্রশাসন ও রেলের তরফে। কিন্তু এখনও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ দাবি মেটানো হয়নি। কোনও প্রক্রিয়াও শুরু হয়নি। তারই প্রতিবাদ করা হয়েছিল। সেগুলি পূরণের আশ্বাস মিলেছে।’’
কাজটির তদারকির দায়িত্বে থাকা পূর্ব রেলের বাস্তুকার ইন্দ্রজিৎ হাজারি বলেন, “আপাতত সমস্যা মিটেছে। রেলপথের কাজ চলছে। আন্দোলকারীদের দাবি রাস্তা-ঘাট, স্কুল ইত্যাদি। এ নিয়ে তাঁরা রেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ফের আলোচনায় বসতে চান। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে বৈঠকের দিন স্থির করা হবে বলে জানিয়েছি।’’
গোঘাটের বিধায়ক প্রশান্ত দিগার বলেন, “গ্রামবাসীর সঙ্গে আলোচনা ফলপ্রসূ হয়েছে। রাজ্য স্তরেও জানানো হয়েছে। তাঁদের দাবিগুলির মান্যতা দেওয়া হবে। আপাতত বর্ষার আগে গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাঘাট বা উত্তর দিকের খালের জল যাতে দিঘিতে ঢুকতে না পারে। সে সব কাজ আমি করে দেব বলেছি।’’ ব্লক প্রশাসন জানিয়েছে, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে আনা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, ওই দিঘি বুজিয়ে রেললাইন পাতা যাতে না হয়, সেই দাবিতে ২০১০ সাল থেকে আন্দোলন করছিলেন গ্রামবাসীরা। এর জেরেই থমকে ছিল কাজ। শেষমেশ দিঘির উপরে সেতু নির্মাণ করে রেলপথ নির্মাণের সিদ্ধান্ত হওয়ায় জট কাটে।
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে