ফিরছেন ঘরছাড়ারা। নিজস্ব চিত্র ।
আট বছর আগে, ২০১৮-র পঞ্চায়েত নির্বাচনের ঠিক পরেই খুন হয়েছিলেন বাগনানের হাটুরিয়া ২ পঞ্চায়েতের ন’পাড়ার মহম্মদ মহসিন নামে এক তৃণমূল কর্মী। তার জেরে শাসক দলের সঙ্গে গোলমালে ঘরছাড়া হন এখানকার ২০টি পরিবারের শতাধিক মানুষ। এতদিন আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে থাকছিলেন। রাজ্যে পালাবদলের পরে, বৃহস্পতিবার ‘সেভ ডেমোক্রেসি’র উদ্যোগে তাঁরা ঘরে ফিরলেন।
ঘরছাড়াদের মধ্যে সিরাজুল মিদ্দার দাবি, তাঁরা সকলে আগে তৃণমূলই করতেন। ২০১৮-র ভোটে প্রার্থী পছন্দ না হওয়ায় দলে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব হয়। তৃণমূলের বিরুদ্ধে এক গ্রামবাসীকে নির্দল প্রার্থী হিসেবে দাঁড় করানো হয়। সিরাজুলের অভিযোগ, ‘‘তখন থেকেই শাসক দল আমাদের উপরে অত্যাচার শুরু করে। মহম্মদ মহসিন খুন হওয়ার পরে পুলিশের সাহায্য নিয়ে আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা রুজু করে তৃণমূল। জামিন পেয়ে ঘরে ফিরলেও আমাদের ওরা তাড়িয়ে দেয়।’’ মনজুরা বেগম নামে ঘরে ফেরা এক মহিলা বলেন, ‘‘ওরা ঘরবাড়ি ভেঙে দিয়েছে। সর্বস্ব লুট করেছে। ছেলেমেয়েদের পড়াশোনার ক্ষতি হয়েছে। নতুন সরকারের প্রতি ভরসা করে বাড়ি ফিরেছি।’’
অভিযোগ মানেননি বাগনানের তৃণমূল বিধায়ক অরুণাভ সেন। তাঁর দাবি, ‘‘ওই পরিবারগুলি মিথ্যা বলছে। পঞ্চায়েত ভোট সংক্রান্ত কোনও গোলমাল হয়নি। খুনের ঘটনায় ওই সব পরিবার জড়িত। গ্রামবাসীরা প্রতিবাদ করায় ওঁরা গ্রামছাড়া হন। প্রত্যেকের নামে খুনের মামলা আছে। তৃণমূল ওঁদের ঘরছাড়া করেনি।’’
হাওড়া গ্রামীণ জেলা পুলিশের কর্তা জানান, এ দিন ঘরে ফেরাদের মধ্যে অনেকের নামেই খুনের মামলা রয়েছে। যদিও যাঁরা ফিরেছেন, তাঁরা জামিনে মুক্ত রয়েছেন।
‘সেভ ডেমোক্রেসি’র সম্পাদক চঞ্চল চক্রবর্তী বলেন, ‘‘২০২৩ সালে ওঁদের ঘরছাড়া থাকার কথা জানতে পারি। তখন থেকেই ফেরানোর চেষ্টা করছিলাম। কিন্তু তৃণমূল ফেরাতে দেয়নি। এখন পুলিশ প্রশাসনের সহায়তায় ফেরালাম। আশা করছি নতুন সরকার ওঁদের নিরাপত্তা দেবে।’’
বিজেপি নেতা কৌশিক চক্রবর্তীর দাবি, ‘‘বিজেপি সরকারের আমলে কাউকে ঘরছাড়া থাকতে হবে না। পশ্চিমবঙ্গের মানুষ সুরক্ষিত থাকবেন।’’
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে