মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। —ফাইল চিত্র।
আমেরিকার আদালতে ধাক্কা খেলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। বিশ্বব্যাপী ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত অবৈধ বলে জানাল নিউ ইয়র্কের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আদালত। তবে এই রায় নিয়ে তিন বিচারপতির বেঞ্চে মতবিরোধ দেখা দেয়। শেষপর্যন্ত দুই বিচারক মার্কিন শুল্কনীতিকে অবৈধ বলে জানান। এ-ও জানান, আইন অনুযায়ী মার্কিন কংগ্রেস প্রেসিডেন্টকে শুল্কআরোপের যে ক্ষমতা দিয়েছে, তা অতিক্রম করেছেন ট্রাম্প। তবে প্যানেলে থাকা তৃতীয় বিচারকের মতে, শুল্কআরোপের ক্ষেত্রে আইনে প্রেসিডেন্টের অনেক ক্ষমতা রয়েছে।
দ্বিতীয় বার প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর পরই নতুন শুল্কনীতির কথা ঘোষণা করেছিলেন ট্রাম্প। তিনি দাবি করেন, যে দেশ মার্কিন পণ্যে যত পরিমাণ শুল্ক চাপিয়েছে, আমেরিকাও সেই পরিমাণ শুল্ক আদায় করবে সংশ্লিষ্ট দেশগুলির থেকে। এই নিয়ে বিস্তর টানাপড়েন চলে। বিষয়টি গড়ায় আদালত পর্যন্তও। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সুপ্রিম কোর্ট জানায়, আইইইপিএ আইনের আওতায় ওই শুল্ক আরোপের অনুমোদন নেই। মার্কিন সংবিধান অনুযায়ী, কর এবং আমদানি শুল্ক নির্ধারণের ক্ষমতা কংগ্রেসের হাতে। যদিও কংগ্রেস চাইলে সেই ক্ষমতা প্রেসিডেন্টের হাতে অর্পণ করতে পারে। এর ফলে ট্রাম্প প্রেসিডেন্টের ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন বলে জানায় সুপ্রিম কোর্ট।
মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের ওই নির্দেশের পরই হোয়াইট হাউস থেকে বিবৃতি দিয়ে জানানো হয়, ‘‘সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহের প্রেক্ষিতে আইইইপিএ অনুসারে আরোপিত অতিরিক্ত শুল্ক আর কার্যকর হবে না। যত দ্রুত সম্ভব তা আদায় করা বন্ধ হবে।’’ যদিও তার পরই ট্রাম্প প্রশাসন, বিভিন্ন দেশের উপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে।
ট্রাম্প প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে ক্ষুব্ধ ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলি আদালতের দ্বারস্থ হয়। সেই মামলার শুনানিতে নিউ ইয়র্কের আদালত জানিয়ে দেয়, ১০ শতাংশ শুল্ক নেওয়া অবৈধ!
যদিও ট্রাম্প প্রশাসনের এই ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ ছিল সাময়িক। কারণ, ১৯৭৪ সালের মার্কিন বাণিজ্য আইনের ১২২ নম্বর ধারা উল্লেখ করে নতুন এই শুল্ক চাপিয়েছেন ট্রাম্প। আইন বলছে, এতেও মার্কিন কংগ্রেসের অনুমোদনই শেষ কথা। প্রাথমিক ভাবে অনুমোদন ছাড়া ১৫০ দিনের বেশি এই ধরনের শুল্ক কার্যকর করা যায় না। আগামী ২৪ জুলাই সেই মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা। তার আগেই ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্ক ধার্য করাকে বেআইনি বলে অভিহিত করল আমেরিকার আদালত।