Hantavirus

হান্টাভাইরাসের সংক্রমণ কোভিড অতিমারি নয়, জানিয়ে ১২ দেশকে সতর্ক করল হু! লক্ষণ কী, কী ভাবে ছড়ায়

হু-র ডিরেক্টর জেনারেল টেডরোস আধানোম গেব্রিয়েসাস জানান, সংক্রামিতের খুব কাছাকাছি এলে তবেই কেউ ওই ভাইরাসে আক্রান্ত হতে পারেন। অ্যান্ডেস ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পরে ছ’সপ্তাহ কেটে গেলে তার প্রথম লক্ষণ ধরা পড়তে পারে।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৭ মে ২০২৬ ২২:৫০
Share:

হু-র ডিরেক্টর জেনারেল টেডরোস আধানোম গেব্রিয়েসাস। — ফাইল চিত্র।

হান্টাভাইরাসে সংক্রামিতের সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। তবে তা কোভিড অতিমারির আকার নেবে না। এমনটাই জানাল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা হু। তারা এ-ও জানিয়েছে, এই সংক্রমণের ফলে জনগণের এখনই ঝুঁকির কোনও কারণ নেই। তবে ১২টি দেশকে সতর্ক করেছে হু। যে জাহাজে এই সংক্রমণ হয়েছে, তার যাত্রীরা আতঙ্কিত হয়ে গন্তব্যে পৌঁছোনোর আগেই নেমে গিয়েছেন। তাঁদের মাধ্যমে ভাইরাস ছড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে বলে আমেরিকা, কানাডা, ডেনমার্ক, জার্মানি, নেদারল্যান্ড, নিউজ়িল্যান্ড, সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিস, সিঙ্গাপুর, সুইডেন, সুইৎজ়ারল্যান্ড, তুরস্ক, ব্রিটেনকে সতর্ক করা হয়েছে।

Advertisement

হু-র ডিরেক্টর জেনারেল টেডরোস আধানোম গেব্রিয়েসাস জানান, সংক্রামিতের খুব কাছাকাছি এলে তবেই কেউ ওই ভাইরাসে আক্রান্ত হতে পারেন। অ্যান্ডেস ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পরে ছ’সপ্তাহ কেটে গেলে তার প্রথম লক্ষণ ধরা পড়তে পারে। তাই গেব্রিয়েসাসের মতে, আগামী দিনে এই ভাইরাসে আরও অনেকে সংক্রামিত হয়েছেন বলে খবর মিলতে পারে। এই সংক্রমণের ঘটনা গুরুতর হলেও প্রাণহানির ঝুঁকি কম।

আর্জেন্তিনা থেকে আটলান্টিক মহাসাগরে ভেসে কাবো ভার্দে যাচ্ছিল এমভি হন্ডিয়াস নামে একটি প্রমোদতরী। হু জানিয়েছে, ওই জাহাজে আট জন হান্টাভাইরাসে সংক্রামিতকে শনাক্ত করা গিয়েছে। তাঁদের মধ্যে তিন জনের মৃত্যু হয়েছে। জাহাজে সওয়ার পাঁচ জনের সংক্রমণ নিয়ে নিশ্চিত রিপোর্ট দিয়েছে গবেষণাগার। তিন জনের নিশ্চিত রিপোর্ট মেলেনি। ৬ এপ্রিল ওই জাহাজে প্রথম সংক্রামিতের খোঁজ মেলে। ১১ এপ্রিল তাঁর মৃত্যু হয়। পরে ওই ব্যক্তির স্ত্রীও আক্রান্ত হন। সেন্ট হেলেনায় তিনি জাহাজ থেকে নেমে যান। উড়ান যাত্রার পরে তাঁর অবস্থান অবনতি হয়। ২৫ এপ্রিল দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গে তাঁর মৃত্যু হয়।

Advertisement

গেব্রিয়েসাস জানিয়েছেন, সংক্রামিত ইঁদুর বা ওই জাতীয় প্রাণীর মূত্র, লালারস, নাক বা চোখের জল থেকে এই সংক্রমণ ছড়ায়। এই অ্যান্ডিস ভাইরাসে সংক্রামিত হওয়ার ঘটনা মূলত লাতিন আমেরিকাতেই চোখে পড়ে। হু জানিয়েছে, কেউ সংক্রামিতের সংস্পর্শে দীর্ঘ ক্ষণ থাকলে তবেই আক্রান্ত হতে পারেন। সে ক্ষেত্রে সংক্রামিতের সঙ্গে একই বাড়িতে বাস করলে, তাঁর সঙ্গী হলে বা তাঁকে সেবা করলে সেই ব্যক্তিও অ্যান্ডিস ভাইরাসে আক্রান্ত হতে পারেন।

লক্ষণ কী?

হান্টার সংক্রমণ ঘটলে প্রাথমিক ভাবে জ্বর, পেশির ব্যথা ও পেশির খিঁচুনি শুরু হয় রোগীর। ধীরে ধীরে ভাইরাস ঢুকে পড়ে শ্বাসনালিতে। সেখানে বিভাজিত হয়ে সংখ্যায় বাড়তে থাকে ও শেষে ফুসফুসে গিয়ে বাসা বাঁধে। এর সংক্রমণে ‘হান্টাভাইরাস পালমোনারি সিনড্রোম’ দেখা দেয় যাতে ফুসফুস বিকল হতে শুরু করে। মারাত্মক শ্বাসকষ্ট শুরু হয় রোগীর। ফুসফুসে জল জমতে থাকে।

ইউরোপ ও এশিয়ার অনেক দেশে হান্টার হানায় হেমারেজিক ফিভার ও রেনাল সিনড্রোমও দেখা দিয়েছে আগে। এতে কিডনি তার কার্যক্ষমতা হরাতে থাকে এবং শরীরের ভিতরে রক্তক্ষরণ শুরু হয়ে যায়। তখন রোগীর প্রাণসংশয় ঘটে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement