—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।
নির্বাচনের মরসুমে গণ-উদ্যোগে তৈরি শ্রীরামপুর শ্রমজীবী হাসপাতালে চালু হল স্নায়ু-শল্য চিকিৎসা (নিউরো-সার্জারি)।
হুগলির কোনও সরকারি হাসপাতালে স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞ নেই। মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণজনিত সমস্যা নিয়ে রোগী এলে সাধারণত জেনারেল মেডিসিনের চিকিৎসকেরা দেখেন। সমস্যা জটিল হলেই কলকাতায় পাঠানো (রেফার) হয়। তবে, জেলার বড় হাসপাতালে ফোনে এসএসকেএম-এর স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়ে চিকিৎসার উদাহরণ রয়েছে। যদিও এই উদ্যোগে সার্বিক পরিকাঠামোর খামতি ঢাকা পড়ে না।
জেলার বিভিন্ন নার্সিংহোমে বা চেম্বারে স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞ বসলেও সেখানেও অস্ত্রোপচার হয় না। সব মিলিয়ে রোগীকে নিয়ে বিপাকে পড়েন বাড়ির লোক। জেলার সরকারি হাসপাতালে স্নায়ুরোগের চিকিৎসার সার্বিক পরিকাঠামো তৈরির দাবি রয়েছে মানুষের। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, এই অবস্থায় শ্রমজীবীতে অস্ত্রোপচারের পরিকাঠামোয় উপকার হবে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানান, সম্প্রতি বাড়িতে অজ্ঞান হয়ে পড়েন হরিপালের বছর সাতচল্লিশের এক মহিলা। হরিপাল গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কলকাতায় ‘রেফার’ করা হয়। এর পরেই শ্রীরামপুর শ্রমজীবীতে এনে সিটি স্ক্যান করে দেখা যায়, মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হয়েছে। অস্ত্রোপচার প্রয়োজন। তাঁর স্বাস্থ্যসাথী কার্ড নেই। কলকাতার বেসরকারি হাসপাতালে খরচ বিপুল। মহিলার স্বামী গরিব কৃষিজীবী। তিনিও অসুস্থ। একমাত্র ছেলে সদ্য আইটিআই পাশ করেছেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে তাঁরা অসহায়তার কথা জানান।
হাসপাতালে নিউরো-সার্জারি বিভাগ খোলার প্রস্তুতি চলছিলই। কিছু যন্ত্রপাতিও কেনা হয়। মূল যন্ত্র কেনা হয়নি। হাসপাতালের আবেদনে সংশ্লিষ্ট সংস্থা ওই যন্ত্র ব্যবহারের জন্য পাঠিয়ে দিয়েছে। অস্ত্রোপচার করে মহিলার মাথায় জমে থাকা রক্ত বের করা হয়। মহিলার ছেলে বলেন, ‘‘যোগাযোগ, লোকবল, অর্থবল নেই। শ্রমজীবী হাসপাতালের জন্যই মায়ের অপারেশন হল।’’
হাসপাতালের সম্পাদক চিকিৎসক অনিল সাহা জানান, রোগীর অবস্থা স্থিতিশীল। সহ-সম্পাদক গৌতম সরকার জানান, ওষুধ ছাড়া আর কোনও খরচ ওই পরিবারের থেকে নেওয়া হয়নি। রক্তও শ্রমজীবী ব্লাড সেন্টার থেকে বিনামূল্যে দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘‘মূল যন্ত্রটির দাম প্রায় ২০ লক্ষ টাকা। সেটি আমরা কিনে ফেলব। সরবরাহকারী সংস্থার সৌজন্যে আপাতত যন্ত্রটি আমরা ব্যবহার করতে পারছি। যন্ত্রটি কেনার জন্য ইতিমধ্যেই আমরা বিভিন্ন সংগঠন ও ব্যাক্তির কাছে আর্থিক সহযোগিতার আবেদন জানাচ্ছি।’’
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে