Criminal

হাওড়ায় টানা দুষ্কৃতী-সংঘর্ষ, নেপথ্যে কি মাদকের কারবার

স্থানীয় বাসিন্দাদের আরও অভিযোগ, এলাকায় মাদক বেচাকেনার নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে, তা নিয়েই সংঘর্ষের সূত্রপাত, যা কার্যত ‘গ্যাং-ওয়ার’-এর চেহারা নিয়েছে।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৫ জানুয়ারি ২০২৬ ১০:৪৫
Share:

ওড়িয়াপাড়ার এই সব গলিতে গুলি চলেছে বলে দাবি বাসিন্দাদের। ছবি: দীপঙ্কর মজুমদার।

দু’টি গোষ্ঠীর মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে হাওড়ার গোলাবাড়ি থানার ওড়িয়াপাড়া ও নন্দীবাগান এলাকা। রবিবার রাত থেকে শুরু হওয়া ওই সংঘর্ষে গত তিন দিনে ওই এলাকাগুলিতে কমপক্ষে সাত রাউন্ড গুলি চলেছে বলে দাবি স্থানীয়দের। তপন বারিক নামে একটি গোষ্ঠীর এক দুষ্কৃতী গুলিবিদ্ধ হয়ে চিকিৎসাধীন হাওড়া জেলা হাসপাতালে। ওই ঘটনার পরে সোমবার ভোরে এবং মঙ্গলবার গভীর রাতে ৩০-৪০ জন দুষ্কৃতী আগ্নেয়াস্ত্র ও ভোজালি নিয়ে ঢুকে নন্দীবাগান, ওড়িয়াপাড়ায় এলোপাথাড়ি গুলি চালিয়ে, বাড়ি বাড়ি ভাঙচুর করে এলাকায় সন্ত্রাসের পরিবেশ তৈরি করেছে বলেও অভিযোগ। টানা তিন দিন ধরে চলা এই সংঘর্ষের জেরে আতঙ্কিত এলাকার বাসিন্দারা। তাঁরা অবিলম্বে কড়া পুলিশি পদক্ষেপের দাবি করেছেন। যদিও বুধবার পর্যন্ত এই ঘটনায় কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।

স্থানীয় বাসিন্দাদের আরও অভিযোগ, এলাকায় মাদক বেচাকেনার নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে, তা নিয়েই সংঘর্ষের সূত্রপাত, যা কার্যত ‘গ্যাং-ওয়ার’-এর চেহারা নিয়েছে। হাওড়ার অত্যন্ত স্পর্শকাতর জায়গা হিসাবে পরিচিত পিলখানা এলাকার পাশেই রয়েছে ওড়িয়াপাড়া এবং নন্দীবাগান। ঘিঞ্জি জনবসতি আর সঙ্কীর্ণ গলির মধ্যে এই এলাকাগুলি বর্তমানে মাদক ব্যবসার আঁতুড়ঘর হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ। রাত বাড়লেই এই সব অলিগলি হয়ে ওঠে দুষ্কৃতী ও মাদক ব্যবসায়ীদের অবাধ কর্মক্ষেত্র। এখান থেকেই হাওড়া স্টেশন চত্বর, দিঘা বাস স্ট্যান্ড, ফকির বাজার, কিংস রোড কাটপুল, মাদ্রাজি পাড়ায় গাঁজা, চরস, হেরোইন, বেআইনি মদ সরবরাহ করা হয়। পাশাপাশি, এই সব এলাকার দুষ্কৃতীরাই হাওড়া স্টেশন চত্বরে হকারদের ডালা বসিয়ে তোলাবাজি থেকে জুয়ার ঠেক নিয়ন্ত্রণের কাজ করে বলেও অভিযোগ।

পুলিশ সূত্রের খবর, উত্তর হাওড়ার এই এলাকাগুলি আগে শাসকদলের ছত্রচ্ছায়ায় থাকা অবিনাশ ঘোষ গোষ্ঠীর লোকজন নিয়ন্ত্রণ করত। কিন্তু সম্প্রতি অবিনাশের ডান হাত ছোটুর সঙ্গে মাদক বেচাকেনা নিয়ে তার এক সময়ের বন্ধু বিশাল রাউত ওরফে পাঁচুর গোলমাল শুরু হয়। পাঁচু তখন বহিরাগত দুষ্কৃতীদের নিয়ে আলাদা দল করে। পুলিশের একটি সূত্র থেকে জানা যাচ্ছে, রবিবার পাঁচু ওই সব বহিরাগতদের নিয়ে বাড়িতে খাওয়াদাওয়ার আয়োজন করেছিল। খবর পেয়ে সে রাতেই সনাতন মিস্ত্রি লেনে অবিনাশের দলের তপন বারিকের সঙ্গে পাঁচু-ঘনিষ্ঠ সুচিত সিংহ ও রাজ পাণ্ডে ওরফে মাখনের তীব্র বাদানুবাদ হয়। গোলমালের সময়ে গুলিও চলে। গুলি তপনের পায়ে লাগে। সঙ্গীকে গুলি করার বদলা নিতে সোম ও মঙ্গলবার সনাতন মিস্ত্রি লেন ও ভৈরব দত্ত লেনে পাঁচুর বাড়ি ও আশপাশের বাড়ি লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলি চালিয়ে, ভাঙচুর করে এলাকায় আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করে অবিনাশ এবং তার দলবল।

দীর্ঘদিন পরিষ্কার না করা নর্দমা আর রাস্তার পাশে ডাঁই করে রাখা আবর্জনার দুর্গন্ধ পেরিয়ে বুধবার দুপুরে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, গোটা এলাকার পরিবেশ থমথমে। যে গলির মধ্যে দুষ্কৃতীদের এই সংঘর্ষ চলেছে, সেই গলি এতটাই সঙ্কীর্ণ যে, পাশাপাশি দু’জন একসঙ্গে যাওয়া যায় না। দিনেদুপুরেও প্রায় অন্ধকারাচ্ছন্ন ওই গলির দু’পাশে ঠিক কোথায় গুলি চলেছে বা ভাঙচুর হয়েছে, তা দেখাতেও ভয় পাচ্ছেন বাসিন্দারা। এত বড় ঘটনার পরেও এলাকায় নেই কোনও পুলিশি প্রহরা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহিলা বলেন, ‘‘তিন দিন ধরে যা চলছে, তাতে রাতে বাইরে বেরোতেই ভয় পাচ্ছি। আতঙ্কে রয়েছি।’’ আর এক স্থানীয় সুমিত পাণ্ডে বলেন, ‘‘আগে এলাকায় এত গোলমাল ছিল না। আসলে এত মাদক শহরে আমদানি হচ্ছে যে, তা বেচাকেনা নিয়ে গোলমাল লাগছে দুষ্কৃতী-গোষ্ঠীদের মধ্যে। অবিলম্বে এ সব বন্ধ হওয়া প্রয়োজন।’’

এ নিয়ে হাওড়া সিটি পুলিশের এক কর্তা বলেন, ‘‘রবিবারের গুলি চালানোর ঘটনার পরেই অভিযুক্তেরা পালিয়েছে। যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তাদের কাউকে ছাড়া হবে না। তদন্ত চলছে।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন