মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার ইডির আইপ্যাক অভিযান সংক্রান্ত বিষয়ে শুনানি চলছে সুপ্রিম কোর্টে। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
ইডির সওয়াল
• ইডির তল্লাশি চলাকালীন মুখ্যমন্ত্রী পুলিশবাহিনী নিয়ে সেখানে ঢুকে পড়েন। তথ্যপ্রমাণ সরিয়ে ফেলা হয়, যা চুরির সমতুল্য।
• পিএমএলএ আইন মেনেই হাজার হাজার কোটি টাকার আর্থিক দুর্নীতির আন্তঃরাজ্য মামলার তদন্তে অভিযান চালাচ্ছিল ইডি।
• পুলিশ এবং রাজ্য প্রশাসন একযোগে কাজ করছিল কেন্দ্রীয় সংস্থার মনোবলে আঘাত করার জন্য। বৈধ তদন্তে বাধা দেওয়া হয়েছে।
• হোয়াটস্অ্যাপ মেসেজ থেকেই বোঝা যায় হাই কোর্টের ঘটনা পূর্ব পরিকল্পিত, স্বতঃস্ফূর্ত নয়।
• চুরি এবং ষড়যন্ত্রের মতো অপরাধ হয়েছে। এফআইআর দায়ের করা অবশ্যই প্রয়োজন। রাজ্য পুলিশের অধীনে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত অসম্ভব। তাই সিবিআই তদন্ত চাই।
রাজ্য সরকার এবং পুলিশের সওয়াল
• ইডির হানা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। কয়লা দুর্নীতির অভিযোগে ২০২৪ সালের ফেব্রুয়াতে শেষ বয়ান রেকর্ড করা হয়েছিল। এত দিন কী করছিল। ভোটের আগেই কেন তল্লাশি!
• আইপ্যাক দফতরে দলের সংবেদনশীল এবং নির্বাচনী তথ্য রয়েছে। তৃণমূল চেয়ারপার্সন হিসেবে দলের গোপনীয় রাজনৈতিক তথ্য রক্ষা করা মমতার অধিকার এবং কর্তব্য।
• ইডির পঞ্চনামাতেই বলা হয়েছে তল্লাশি শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল ছিল। তা হলে বাধা দেওযা, চুরি বা জোর করে ঢুকে যাওয়ার অভিযোগ তো পরস্পর বিরোধী।
• শুধুমাত্র একটি মোবাইল ও ল্যাপটপ নিয়ে আসা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী একাধিক ডিজিটাল ডিভাইস ও নথি নিয়ে গিয়েছেন বলে যে অভিযোগ করা হচ্ছে, তা মিথ্যা।
• ইডি হাই কোর্ট এবং সুপ্রিম কোর্ট উভয় জায়গাকেই সমান্তরাল ভাবে ব্যবহার করছে। তারা দু জায়গাতেই ফোরাম শপিং করছে। এই মামলা গ্রহণযোগ্যই নয়।
সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ
• দেশে আইনের শাসন বজায় রাখা এবং কেন্দ্র ও রাজ্য সংস্থা যাতে স্বাধীন ভাবে নিজের কাজ করতে পারে, তার জন্য এই বিষয়টি খতিয়ে দেখা অত্যন্ত জরুরি। এটা দেখা দরকার— যাতে কোনও অপরাধী রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার আড়ালে লুকিয়ে রক্ষা না পেয়ে যান।
• এই মামলায় বহু বড় ও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন জড়িয়ে আছে। এই প্রশ্নগুলোর যদি মীমাংসা না হয়, তবে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে এবং দেশের এক বা একাধিক রাজ্যে আইন না মানার অবস্থা তৈরি হতে পারে। কারণ, দেশের বিভিন্ন রাজ্যে ভিন্ন ভিন্ন রাজনৈতিক দল সরকার চালাচ্ছে।
• এটা ঠিক যে, কোনও কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থারই কোনও রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী কাজে হস্তক্ষেপ করার অধিকার নেই। আবার একই সঙ্গে আদালতের প্রশ্ন, যদি কোনও কেন্দ্রীয় সংস্থা সৎ উদ্দেশ্যে কোনও গুরুতর অপরাধের তদন্ত করে, তাহলে কি শুধুমাত্র এটা দলের কাজ এই অজুহাতে তাদের তদন্ত চালানোর ক্ষমতা থেকে বঞ্চিত করা যেতে পারে?
• পিএমএলএ আইনের ৬৭ নম্বর ধারা অনুযায়ী যদি ইডি অফিসারেরা অনুমোদনপত্র নিয়ে তল্লাশি চালিয়ে থাকেন, তা হলে ধরে নেওয়া যায় যে তাঁরা সৎ উদ্দেশ্যে কাজ করছিলেন।
কী নির্দেশ আদালতের
• ইডির বিরুদ্ধে পুলিশের দায়ের করা এফআইআরের উপর অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ জারি করল সুপ্রিম কোর্ট।
• পরবর্তী শুনানি পর্যন্ত পুলিশি তদন্তের উপরেও স্থগিতাদেশ দেয় আদালত।
• মামলায় সব পক্ষকে (ইডির বিরুদ্ধে মামলাকারী সব পক্ষ) নোটিস জারি করেছে দুই বিচারপতির বেঞ্চ। দু’সপ্তাহের মধ্যে তাদের আদালতে হলফনামা জমা দিতে হবে।
• যে দুই এলাকায় ইডি তল্লাশি চালিয়েছে, সেখানে এবং তার আশপাশের এলাকার সব সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংরক্ষণ করার নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।
আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি ফের এই মামলার শুনানি হবে। আইনজীবী মনুসিঙ্ঘভি বেঞ্চকে অনুরোধ করেন যাতে তদন্তে স্থগিতাদেশ না দেওয়া হয়। পুলিশ কড়া পদক্ষেপ করবে না, এমন নির্দেশ দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেন তিনি। তবে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি মিশ্র বলেন, “অন্য কোর্ট ১০ মিনিট শুনে নির্দেশ দেয়। আমরা তো আপনাদের বক্তব্য শুনেছি। নোটিস জারি করতে রাজি হয়েছি।”
বিচারপতি মিশ্র বলেন, “পিএমএলএ আইনের ৬৭ নম্বর ধারা অনুযায়ী যদি ইডির আধিকারিকেরা অনুমোদনপত্র নিয়ে তল্লাশি চালিয়ে থাকেন, তা হলে ধরে নেওয়া যায় যে, তাঁরা সৎ উদ্দেশ্যে কাজ করছিলেন।”
শীর্ষ আদালতের দুই বিচারপতির বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, “এটা ঠিক যে, কোনও কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থারই কোনও রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী কাজে হস্তক্ষেপ করার অধিকার নেই। আবার একই সঙ্গে আদালতের প্রশ্ন, যদি কোনও কেন্দ্রীয় সংস্থা সৎ উদ্দেশ্যে কোনও গুরুতর অপরাধের তদন্ত করে, তা হলে কি শুধুমাত্র এটা ‘দলের কাজ’— এই অজুহাতে তাদের তদন্ত চালানোর ক্ষমতা থেকে বঞ্চিত করা যেতে পারে?”
সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ, “দেশে যাতে আইনের শাসন বজায় থাকে এবং কেন্দ্র ও রাজ্যের সংস্থা যাতে স্বাধীন ভাবে নিজের কাজ করতে পারে, তার জন্য এই বিষয়টি খতিয়ে দেখা অত্যন্ত জরুরি। কোনও অপরাধী যাতে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার আড়ালে লুকিয়ে রক্ষা না পেয়ে যান, তা-ও দেখা দরকার। এই মামলায় বহু বড় এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন জড়িয়ে আছে। এই প্রশ্নগুলোর যদি মীমাংসা না হয়, তবে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে এবং দেশের এক বা একাধিক রাজ্যে আইন না মানার অবস্থা তৈরি হতে পারে।”
ইডির বিরুদ্ধে পুলিশের দায়ের করা এফআইআরের উপর অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ জারি করল সুপ্রিম কোর্ট। পরবর্তী শুনানি পর্যন্ত পুলিশি তদন্তের উপরেও স্থগিতাদেশ দেয় আদালত। মামলায় সব পক্ষকে নোটিস জারি করেছে দুই বিচারপতির বেঞ্চ। দু’সপ্তাহের মধ্যে সব পক্ষের (ইডির বিরুদ্ধে মামলাকারী সব পক্ষ) কাছ থেকে হলফনামা তলব করা হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে ওই এলাকার সব সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংরক্ষণ করার নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।
আইপ্যাক-কাণ্ডে সুপ্রিম কোর্ট জানায়, এই মামলায় একটি অত্যন্ত গুরুতর প্রশ্ন উঠে এসেছে। এই প্রশ্নটি হল— ইডি বা অন্য কোনও কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার তদন্তে রাজ্য সরকারের সংস্থাগুলি হস্তক্ষেপ করতে পারে কি না। এই বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টের খতিয়ে দেখা জরুরি বলেই প্রাথমিক মত দুই বিচারপতির বেঞ্চের। মামলার সঙ্গে জড়িত সব পক্ষকে নোটিস জারি করল সুপ্রিম কোর্ট।
সলিসিটর জেনারেল বলেন, “আইন অনুযায়ী, কোনও সরকারি কর্মচারী যদি সৎ উদ্দেশ্যে নিজের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কাজ করেন, তা হলে তাঁর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা চালানো যায় না। ইডির যে তল্লাশি অভিযান হয়েছে, তা সম্পূর্ণ সৎ উদ্দেশ্যেই করা হয়েছে। ইডি অফিসারদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হচ্ছে তাঁদের ওপর চাপ সৃষ্টি করার জন্য।”
অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল রাজু ইডির হয়ে সওয়াল করেন, “কোনও কোনও ক্ষেত্রে আদালত এই সিদ্ধান্তেও আসতে পারে যে, শুধু সিবিআই তদন্তই প্রয়োজন নয়, বরং সেই তদন্ত রাজ্যের বাইরে থেকে করা দরকার। এমন অনেক নির্দেশ এর আগে সুপ্রিম কোর্ট দিয়েছে।” ইডি আধিকারিকদের বিরুদ্ধে মোট চারটি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
ইডির হয়ে সলিসিটর জেনারেল মেহতা সওয়াল করেন, “ইডির আধিকারিকদের বিরুদ্ধে একাধিক এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। তাই তাঁরা আদালতের রক্ষাকবচ চাইছেন।”
মধ্যাহ্নবিরতির পরে ফের বসল সুপ্রিম কোর্টের দুই বিচারপতির বেঞ্চ। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১১টার কিছু পরে মামলার শুনানি শুরু হয়। আইপ্যাক দফতরে তল্লাশি অভিযান ঘিরে চলে রাজ্য বনাম ইডির আইনি সংঘাত। উঠে আসে হাই কোর্টে গোলমালের প্রসঙ্গও। এ বার মধ্যাহ্নবিরতির পরে ফের একপ্রস্ত আইন-যুদ্ধ শুরু হল রাজ্য সরকার এবং কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার।
মধ্যাহ্নবিরতির পরে দুপুর ২টোয় ফের এই মামলাটি শুনবে সুপ্রিম কোর্ট।
ইডির হয়ে অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল রাজুর সওয়াল, “এই মামলা একেবারেই ব্যতিক্রমী। কারণ, এখানে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী নিজেই অভিযুক্ত। চুরির কাজটি মুখ্যমন্ত্রীই করেছেন। আর এই ঘটনা ঘটেছে পুলিশ কমিশনার ও রাজ্য পুলিশের ডিজিপির উপস্থিতিতে। অর্থাৎ, পুলিশের শীর্ষ কর্তারা এই ঘটনায় জড়িত। এই ঘটনার কোনও এফআইআর নথিভুক্ত হলেও, তা সঠিক ভাবে তদন্ত হওয়ার সম্ভাবনা নেই। এই মামলায় সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দেওয়া ছাড়া আর কোনও উপায় নেই।”
রাজ্য এবং ডিজিপির হয়ে সিঙ্ঘভি আরও বলেন, “কিছু অচেনা লোক ওই জায়গায় ঢুকেছে এই খবর শুনে সেখানে গিয়েছিলেন ডিজিপি। মুখ্যমন্ত্রী জ়েড প্লাস নিরাপত্তা প্রাপ্ত। এই ধরনের তথ্য পেলে ডিজিপির সেখানে যাওয়াটা অস্বাভাবিক কিছু নয়।” ইডির অপর আইনজীবী এসভি রাজু সওয়াল করেন: “এখানে ভয় দেখানো, ডাকাতি বা লুটপাটের মতো ঘটনা ঘটেছে।”
আইনজীবী সিঙ্ঘভির সওয়াল, “তল্লাশি শুরু হয়েছিল ভোর ৬টা ৪৫ মিনিটে। আর ইমেল পাঠানো হয়েছিল তার অনেক পরে, সকাল ১১টা ৩০ মিনিটে। ওই ইমেল পাঠানোটা ছিল আসলে পরে নিজেদের বাঁচানোর চেষ্টা। ইডি অফিসারেরা অনেক দেরিতে নিজেদের পরিচয় দেন।”
বিচারপতি মিশ্র বলেন, “শুনানিকে কেন্দ্র করে এই হাই কোর্টে এমন হয়, কাল অন্য কোনও হাই কোর্টেও এমন হতে পারে— এ ধরনের ঘটনা কোনও ভাবেই হওয়া উচিত নয়। আমাদের সেই দিকটিও দেখতে হবে।” তখন সিঙ্ঘভি বলেন, “ইডির পঞ্চনামায় ভুল তথ্য আছে, না হলে ইডির পিটিশনে ভুল তথ্য আছে। দুটোর মধ্যে একটা হবে।” রাজ্যের আধিকারিকদের তল্লাশির বিষয়ে জানানো প্রসঙ্গে তাঁর সওয়াল, “এক বার জানানো হয়েছিল। একটি খুবই সাধারণ ভাবে করা ইমেলের মাধ্যমে।” এই সওয়ালের বিরোধিতা করেন ইডির আইনজীবী। সলিসিটর জেনারেল মেহতা বলেন, “ইমেল কখনও ‘ক্যাজ়্যুয়াল’ বা গুরুত্বহীন হতে পারে না। ইমেল করা হয়েছে মানেই তা আনুষ্ঠানিক ভাবে জানানো হয়েছে।”
রাজ্য সরকার এবং রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমারের হয়ে আইনজীবী মনুসিঙ্ঘভির সওয়াল, “ইডি সরাসরি সুপ্রিম কোর্টে এসে মামলা করতে পারে শুধু ব্যতিক্রমী পরিস্থিতিতে। যখন তাদের সামনে কার্যত আর কোনও উপায় থাকে না। এখন এই মামলার শুনানি হাই কোর্টে হওয়া উচিত। এই মামলার গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে গুরুতর আপত্তি রয়েছে। হাই কোর্টে ইতিমধ্যেই প্রায় একই আবেদন করা হয়েছে। এখানে ফোরাম শপিং করা হয়েছে।”
সিব্বলের উদ্দেশে বিচারপতি মিশ্র বলেন, “আপনাদের দাবি পরস্পরবিরোধী। যদি সত্যিই তথ্য সংগ্রহের উদ্দেশ্য থাকত, তবে ইডি বাজেয়াপ্ত করত। কিন্তু বাস্তবে কিছুই বাজেয়াপ্ত করা হয়নি।” বিচারপতি আরও বলেন, “সলিসিটর জেনারেলের কথামতো নির্বাচনের সময় যদি টাকা পাচার হয়, তা হলে ইডির দোষ কোথায়?” সলিসিটর জেনারেল মেহতা অবশ্য বলেন, “পশ্চিমবঙ্গে এখন কোনও নির্বাচন নেই।” তখন সিব্বল পাল্টা বলেন, “যদি এটাই সলিসিটর জেনারেলের ধারণা হয়, তবে আর কী বলার থাকতে পারে।” বিচারপতি মিশ্র তাতে মেহতার বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, “আসলে এখনও নির্বাচনের নির্ঘণ্ট প্রকাশ হয়নি। এটাই বোঝাতে চেয়েছেন।” সিব্বলের বক্তব্য, “সেখানে যা যা ঘটেছে, ইডির উচিত ছিল তা নিয়ে রাজ্য সরকারকে তদন্ত করতে বলা।”
সিব্বল আরও বলেন, “দলের চেয়ারম্যানের সেখানে যাওয়ার পূর্ণ অধিকার ছিল। যদি ভিডিয়ো দেখানো হয়, তবে কে মিথ্যে বলছে তা স্পষ্ট হয়ে যাবে। কেন ইডি একটি রাজনৈতিক দলের অফিসের সেই অংশে ঢুকল, যেখানে দলের সব তথ্য সংরক্ষিত থাকে? মুখ্যমন্ত্রী নাকি সব ডিজিটাল ডিভাইস নিয়ে গিয়েছেন— এই অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। ইডির নিজের তৈরি পঞ্চনামা দিয়েই প্রমাণ হয়ে যায়। এই ধরনের কথা বলা হচ্ছে শুধু আদালতের মনে পক্ষপাত তৈরি করার জন্য। দুপুর ১২টা ০৫ মিনিট পর্যন্ত কোনও কিছুই বাজেয়াপ্ত করা হয়নি—এ কথা পঞ্চনামাতেই লেখা আছে। মুখ্যমন্ত্রী শুধু একটি ল্যাপটপ, একটি আইফোন নিয়েছিলেন—এর বাইরে আর কিছুই নেওয়া হয়নি। তল্লাশির সময় কোনও বাধা তৈরি করা হয়নি।”
সিব্বলের সওয়াল, “আইপ্যাক-এর কাছে রাজনৈতিক দলের বিপুল পরিমাণ তথ্য থাকে। যখন ইডি সেখানে গিয়েছিল, তখন তারা জানত যে দলের বহু গুরুত্বপূর্ণ এবং সংবেদনশীল তথ্য সেখানে থাকবে। নির্বাচনের ঠিক মাঝখানে সেখানে যাওয়ার প্রয়োজন কী ছিল? কয়লা পাচার মামলায় শেষ বয়ান নেওয়া হয়েছিল ২০২৪ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি। তার পর এত দিন ইডি কী করছিল? হঠাৎ করে নির্বাচনের সময় এত তৎপরতা কেন? ইডি ওই সব তথ্য নিলে আমরা নির্বাচন লড়ব কী ভাবে?”