Howrah BJP Worker Murder Case

‘পাতালে লুকিয়ে থাকলেও সব খুনিকে ধরবে পুলিশ’! বাগনানে নিহত বিজেপি কর্মীর বাড়িতে মুখ্যমন্ত্রী, ক্ষতিপূরণেরও ঘোষণা

প্রশান্ত খুনের ঘটনার তদন্তভার ইতিমধ্যেই সিআইডির হাতে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর নির্দেশের পর ২১ তারিখ সিআইডি তদন্ত শুরু করে। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ১০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এফআইআরে নাম রয়েছে আরও ৪১ জনের।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৭ জুন ২০২৬ ২০:০২
Share:

বাগনানে নিহত বিজেপি কর্মী প্রশান্ত দে-র পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ছবি: সংগৃহীত।

হাওড়ার বাগনানে নিহত বিজেপি কর্মী প্রশান্ত দে-র পরিবারের সঙ্গে দেখা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পরিবারকে ক্ষতিপূরণের ঘোষণার পাশাপাশি ‘সুবিচারের’ আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ১০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এফআইআরে নাম আছে ৫১ জনের। বাকি ৪১ জন অভিযুক্তকে অবিলম্বে গ্রেফতারির নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘‘দরকারে পাতাল খুঁড়েও অভিযুক্তদের ধরতে হবে।’’

Advertisement

প্রশান্ত খুনের ঘটনার তদন্তভার ইতিমধ্যেই সিআইডির হাতে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর নির্দেশের পর ২১ তারিখ সিআইডি তদন্ত শুরু করে। শনিবার বিকেলে বাগনানে প্রশান্তের গ্রামের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন শুভেন্দু। নিহতের ছবিতে মাল্যদানও করেন তিনি। সেখান থেকে বাগনান থানায় গিয়ে পুলিশ আধিকারিক এবং সিআইডি কর্তাদের সঙ্গে এই মামলা নিয়ে আলোচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানেই বাকি অভিযুক্তদের গ্রেফতারির উপর জোর দেন তিনি।

শুভেন্দু বুঝিয়ে দেন, প্রশান্তের মামলায় কাউকে রেয়াত করা হবে না। প্রয়োজনে পাতাল খুঁড়ে অভিযুক্তদের খুঁজে বার করতে হবে তদন্তকারীদের। শুভেন্দুর কথায়, ‘‘অত্যন্ত নিষ্ঠুর ভাবে প্রাণঘাতী অস্ত্র দিয়ে কয়েক জনকে আঘাত করা হয়েছিল। এখনও কয়েক জন কলকাতার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। অস্ত্রোপচার হয়েছে। রাজ্য সরকারের বিশেষ নজরদারিতে তাঁদের চিকিৎসা চলছে। প্রশান্তকে বাঁচানো যায়নি। আমি প্রথম দিন থেকেই বিষয়টা নজর রেখেছিলাম।’’

Advertisement

হাওড়ার জেলাশাসকের দফতরের তরফে ইতিমধ্যেই পরিবারকে চার লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে। শনিবার মুখ্যমন্ত্রীর তহবিল থেকে আরও পাঁচ লক্ষ টাকা দেওয়ার কথা জানান শুভেন্দু। একই সঙ্গে তাঁর বড় কন্যাকে বিডিও অফিসে চুক্তিভিত্তিক কাজও দেওয়ার কথা জানিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, ‘‘অর্থ দিয়ে মৃত্যুর ক্ষতিপূরণ হয় না। কিন্তু একমাত্র উপার্জনকারী না-থাকলে সেই পরিবারের পাশে দাঁড়ানো আমাদের কর্তব্য। বড় মেয়েকে নিয়ম মেনে বিডিও অফিসে একটা চাকরি দিলাম। ভবিষ্যতে আমরা দেখব।’’

পাশাপাশি, প্রশান্তের বাবা-মা যাতে বার্ধক্য ভাতা পান, সে ব্যবস্থা করে দেওয়ার জন্য জেলাশাসককে নির্দেশ দিয়েছেন শুভেন্দু। তিনি জানান, প্রত্যেক অভিযুক্ত যাতে ধরা পড়েন এবং আইন মেনে শাস্তি হয় তা দেখার দায়িত্বও তাঁর। শুভেন্দুর কথায়, ‘‘আমি পুলিশের সঙ্গে কথা বলেছি। আমি স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছি, ধৃতেরা হেফাজতে থাকার মধ্যেই চার্জশিট দিতে হবে। চার্জশিট পেশের পর বিশেষ সরকারি আইনজীবীও নিযুক্ত করে দেব।’’

তৃণমূল-বিজেপি সংঘর্ষে মৃত্যু হয়েছিল প্রশান্তের। জানা যায়, বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই এলাকাছাড়া ছিলেন বাগনানের আন্টিলা গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান শেখ মফিজুল ইসলাম। গত ১৮ জুন তিনি ফিরলে তাঁর বাড়ির সামনে বেশ কয়েক জন বিজেপি কর্মী জড়ো হন। উপপ্রধানের বাড়ি ঘেরাও করা হয় বলেও অভিযোগ। ঘটনাকে কেন্দ্র করে কয়েক মিনিটের মধ্যেই এলাকা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ, মফিজুল এবং তাঁর দলবদল বিজেপি কর্মীদের উপর চড়াও হন। দু’পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি চলে। সেই ঘটনায় গুরুতর জখম হন কয়েক জন। তাঁদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে প্রশান্তকে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসক।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement