আবার বিতর্কে চুঁচুড়ার বিধায়ক অসিত মজুমদার। —নিজস্ব চিত্র।
প্রশাসনিক ভবনে ঢুকে ‘ফর্ম-৭’ কুটিকুটি করে ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগ তৃণমূলের বিরুদ্ধে। আবার বিতর্কে হুগলির চুঁচুড়ার তৃণমূল বিধায়ক অসিত মজুমদার। সোমবার দুপুরে ‘ফর্ম–৭’ জমা দেওয়া নিয়ে হুগলির মহকুমাশাসকের (সদর) দফতরে উত্তেজনা তুঙ্গে। মারধরের অভিযোগ তুলল বিজেপি। পুলিশের সামমে সন্দীপ সাধুখাঁ নামে এক বিজেপি নেতাকে হেনস্থার অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে খবর, সোমবার বেলা ১২টা নাগাদ চুঁচুড়ার বিধায়ক অসিত তাঁর অনুগামীদের নিয়ে হাজির হন হুগলির সদর মহকুমাশাসক দফতরে। বিধায়ক ও তাঁর অনুগামীরা সিঁড়ি ভেঙে দফতরের উপরের তলায় উঠতেই শুরু হয় উত্তেজনা। কিছু ক্ষণের মধ্যে তুলকালাম পরিস্থিতি তৈরি হয়। অসিত তথা তৃণমূল নেতৃত্বের অভিযোগ, বিজেপি কর্মীরা ‘ফর্ম–৭’ অগণতান্ত্রিক ভাবে জমা দিয়ে এসআইআরের তালিকা থেকে সাধারণ ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার চেষ্টা করছেন। তাঁরা তা আটকেছেন। পাল্টা বিজেপির অভিযোগ, শুনানিকেন্দ্রে এক ব্যক্তি ‘ফর্ম–৭’ জমা দেওয়ার সময় তৃণমূল বিধায়ক ও তাঁর সঙ্গীরা সেই ফর্মগুলো ছিঁড়ে ফেলেন। তাঁদের কর্মীদের ঠেলাঠেলি করে দফতরের বাইরে বার করে দেওয়া হয়েছে।
পদ্মশিবির বলছে, ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত থাকলেও ‘ফর্ম–৭’ ছিঁড়ে ফেলার সময় তাদের নীরব দর্শকের ভূমিকায় দেখা গিয়েছে। প্রশাসনিক দফতরের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন তোলে বিজেপি। যদিও গোলমাল বাড়তে থাকার খবর পেয়ে পুলিশ বাহিনী উপস্থিত হয় মহাকুমাশাসকের (সদর) দফতরে। কিন্তু পুলিশকে ঘিরেই বিক্ষোভ শুরু করে বিজেপির। মহকুমা শাসকের দফতরে গিয়েও বিক্ষোভ করে তারা। আবার চণ্ডীতলা-২ বিডিও অফিসের গেট বন্ধ করে তৃণমূল বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছে।
অসিত ফর্ম ছেঁড়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ‘‘আমি জানি না। আমি দেখিনি।’’ তার পর অভিযোগের সুরে বলেন, ‘‘বিজেপি বৈধ ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার চেষ্টা করছে। তাই আমাদের কর্মীরা শুনানিকেন্দ্রে রয়েছেন। একজন ভোটারেরও নাম বাদ দিতে দেব না আমরা। কে ফর্ম ছিঁড়েছে জানি না।’’
একই ইস্যুতে উত্তেজনা ছড়িয়েছে পশ্চিম বর্ধমানেও। আসানসোল মহকুমা শাসক দফতরে ‘ফর্ম-৭’ জমা দিতে যান বিজেপির কর্মী-সমর্থকরা। সেখানে পৌঁছে যায় তৃণমূলের লোকজন। দুই দলের মধ্যে চরম বচসা হয়। হাতাহাতির পরিস্থিতি তৈরি হয়। বিজেপির অভিযোগ, তাদের কর্মীদের বেধড়ক মারধর করা হয়েছে। তৃণমূলের পাল্টা দাবি, তারা মারধরের রাজনীতিতে বিশ্বাসী নয়। আসানসোল দক্ষিণ থানার পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে।