বেলডাঙায় অশান্তি। —ফাইল চিত্র।
পরিযায়ী শ্রমিকের ‘হত্যাকাণ্ডের’ প্রেক্ষিতে অশান্ত মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় কেন্দ্রীয় বাহিনী বা সেনাবাহিনী নামানো হোক। এমনই আবেদন নিয়ে কলকাতা হাই কোর্টের দৃষ্টি আকর্ষণ করলেন এক আইনজীবী। দায়ের হল জনস্বার্থ মামলা।
বেলডাঙার বর্তমান পরিস্থিতি এবং আইন-শৃঙ্খলার অবনতির অভিযোগ তুলে ধরে প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের এজলাসে একটি জনস্বার্থ মামলা দায়েরের আবেদন জানানো হয়। পরিস্থিতি বিবেচনা করে মামলা দায়েরের অনুমতি দিয়েছেন কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি। চলতি সপ্তাহেই এই মামলার শুনানির সম্ভাবনা রয়েছে।
গত শুক্রবার থেকে বেলডাঙা-সহ মুর্শিদাবাদের বিস্তীর্ণ জনপদে দফায় দফায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে। ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগের পাশাপাশি জাতীয় সড়ক এবং রেললাইন অবরোধের জেরে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। প্রশাসনের তরফে ১৪৪ ধারা জারি করা হলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসেনি বলে বিরোধীদের অভিযোগ। অন্য দিকে, রবিবার দুপুর থেকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বলে দাবি করে জেলা পুলিশ-প্রশাসন।
কিন্তু হাই কোর্টে মামলাকারীর দাবি, স্থানীয় পুলিশ-প্রশাসন পরিস্থিতি সামলাতে ব্যর্থ হয়েছে। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে এবং এলাকায় দীর্ঘমেয়াদি শান্তি ফেরাতে অবিলম্বে সেনা বা আধাসেনা মোতায়েন করা প্রয়োজন।
অন্য দিকে, অশান্তিতে উস্কানি দেওয়ার অভিযোগে পুলিশি ধরপাকড় অব্যাহত বেলডাঙায়। পুলিশ সূত্রে খবর, মিম নেতা মতিউর রহমানকে আগেও গ্রেফতার করা হয়েছে। তার পর অন্তত ৩০ জনকে পাকড়াও করা হয়েছে। নতুন করে কোনও হিংসার ঘটনা ঘটেনি। তবে এলাকায় জমায়েত রুখতে কড়া নজরদারি চালানো হচ্ছে। গোয়েন্দা বিভাগ খতিয়ে দেখছে এই ঘটনার নেপথ্যে পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র ছিল কি না।
উল্লেখ্য, কর্মসূত্রে ঝাড়খণ্ডে যাওয়া বেলডাঙার বাসিন্দা আলাউদ্দিন শেখের রহস্যমৃত্যু হয় গত বৃহস্পতিবার। ভাড়াবাড়ি থেকে ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয় ওই পরিযায়ী শ্রমিকের। ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় বেলডাঙায়। হাই কোর্ট সূত্রে খবর, সরকারের পক্ষ থেকে শান্তি ফেরাতে কী কী অতিরিক্ত পদক্ষেপ করা হয়েছে বা হচ্ছে, শুনানিতে তা জানাতে হতে পারে রাজ্যকে।