আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। —ফাইল চিত্র।
ইরান এখন আর পশ্চিম এশিয়ার ‘দাদা’ নয়। তারা এখন ‘পরাজিতের দল’। তেহরানের বিরুদ্ধে আরও জোরালো হামলার হুঙ্কার দিয়ে এমনটাই বললেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ঘটনাচক্রে, ট্রাম্পের এই যুদ্ধহুঙ্কারের কিছু ক্ষণ আগেই প্রতিবেশী দেশগুলির কাছে ক্ষমা চেয়েছে ইরান। তাদের সেই ক্ষমা চাওয়াকে আসলে ইরানের ‘আত্মসমর্পণ’ বলেই ব্যাখ্যা করছেন ট্রাম্প।
ইরানের ক্ষমা চাওয়াকে এক প্রকার আমেরিকার ‘জয়’ বলেই মনে করছেন ট্রাম্প। সমাজমাধ্যমে তিনি লেখেন, “উত্তম-মধ্যম মার খাওয়ার পরে পশ্চিম এশিয়ার প্রতিবেশী দেশগুলির কাছে ক্ষমা চেয়ে আত্মসমর্পণ করেছে ইরান। ইরাম কথা দিয়েছে, ওদের উপরে আর গুলি চালাবে না। আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের আক্রমণের ফলেই ওরা এই প্রতিশ্রুতি দিতে বাধ্য হয়েছে। ওরা পশ্চিম এশিয়াকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখে রাজত্ব করতে চেয়েছিল। গত কয়েক হাজার বছরে এই প্রথম বার পশ্চিম এশিয়ার প্রতিবেশী দেশগুলির কাছে হেরে গেল ইরান।”
ট্রাম্পের দাবি, এর জন্য পশ্চিম এশিয়ার অন্য দেশগুলি তাঁকে ধন্যবাদ জানিয়েছে। সেই প্রসঙ্গে তিনি সমাজমাধ্যমে লেখেন, “ইরান এখন আর পশ্চিম এশিয়ার ‘দাদা’ নয়, ওরা এখন পশ্চিম এশিয়ায় এক ‘পরাজিতের দল’ হয়ে গিয়েছে। আগামী কয়েক দশকেও এই পরিস্থিতি বদলাবে না। আত্মসমর্পণ না করা পর্যন্ত বা সম্পূর্ণ ধ্বংস না হয়ে যাওয়া পর্যন্ত পরিস্থিতি একই রকম থাকবে।”
শনিবারই প্রতিবেশীদের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েশকিয়ান। তিনি জানিয়েছেন, আমেরিকা এবং ইজ়রায়লের হামলায় সাহায্য না-করলে প্রতিবেশীদের উপরে তারা আর কোনও আক্রমণ করে না। পেজ়েশকিয়ানের এই মন্তব্যের পরই এ বার তেহরানকে নিশানা করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। একই সঙ্গে ইরানের বিরুদ্ধে আরও জোরালো হামলায় হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছেন তিনি। সমাজমাধ্যমে ট্রাম্প লেখেন, “আজ ইরানে মারাত্মক আঘাত করা হবে।”
মার্কিন-ইজ়রায়েলি হামলার প্রত্যাঘাত করতে গিয়ে বিভিন্ন দেশের মার্কিন ঘাঁটি আক্রমণ করছিল তেহরান। অনেক দেশ এই আচরণের সমালোচনা করেছে। বলা হয়েছে, অযথা শান্তিপূর্ণ দেশগুলিকে যুদ্ধে টেনে আনছে ইরান। তবে তেহরানও সিদ্ধান্তে এত দিন অনড় ছিল। তাদের দাবি, এই পরিস্থিতির জন্য আমেরিকা এবং ইজ়রায়েল দায়ী। কারণ, যুদ্ধ তারা শুরু করেনি। সেই অবস্থান থেকে কিছুটা সরে এসে পেজ়েশকিয়ানের দাবি, সামরিক বাহিনীর মধ্যে ভুল বোঝাবুঝির কারণে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। আর ইরান অযথা কোনও প্রতিবেশীর উপর হামলা চালাবে না।