(বাঁ দিকে) পরিবারের সঙ্গে বিহারের আকাঙ্ক্ষা সিংহ। (ডান দিকে) উত্তরপ্রদেশের আকাঙ্ক্ষা সিংহ। ছবি: সংগৃহীত।
রোল নম্বর এক। আকাঙ্ক্ষা দুই! ২০২৫ সালের ইউপিএসসি-র ফল প্রকাশ হতেই র্যাঙ্ক নিয়ে লড়াই শুরু বিহার এবং উত্তরপ্রদেশের দুই তরুণীর। শনিবার এইপিএসসি-র ফল প্রকাশিত হয়। আর সেই ফল প্রকাশ হতেই ৩০১ নম্বর র্যাঙ্ক নিয়ে দুই দাবিদার হাজির হন। এক জন দাবি করেন, তাঁর র্যাঙ্ক এটা। অন্য জন দাবি করেন, ওই র্যাঙ্ক তাঁরই। ফলে র্যাঙ্কের আসল ‘হকদার’ কে তা ঘিরেই ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।
দুই পরীক্ষার্থীর নাম এক। পদবি এক। দু’জনেই আকাঙ্ক্ষা। দু’জনেই সিংহ। আবার দু’জনেরই অ্যাডমিটের রোল নম্বর ০৮৫৬৭৯৪। এই রোল নম্বরের পরীক্ষার্থী ইউপিএসসি-তে ৩০১ র্যাঙ্ক করেছে। ঘটনার সূত্রপাত ৩০১ নম্বর র্যাঙ্ককে ঘিরে। ইউপিএসসি-র ফল প্রকাশিত হতেই উত্তরপ্রদেশের গাজীপুরের আকাঙ্ক্ষার সিংহ দাবি করেন তিনি মেধাতালিকায় ৩০১ নম্বরে রয়েছেন। যখন তিনি এই দাবি করছিলেন, ঠিক তখনই বিহারের আরা থেকে আরও এক আকাঙক্ষা সিংহ দাবি করেন, ওই র্যাঙ্কের অধিকারী তিনিই। ব্যস, এখান থেকেই বিভ্রান্তির সৃষ্টি। দু’জনেই যখন নিজেদের ৩০১ র্যাঙ্কের আসল ‘হকদার’ বলে দাবি করছেন, তখন বিষয়টি আরও জটিল হয়ে ওঠে।
গাজীপুরের আকাঙ্ক্ষা দাবি করেন, তিনি এক জন স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ। তিনি পটনা এমস থেকে স্নাতকোত্তর করেছেন। দিল্লিতে থেকে ইউপিএসসি-র প্রস্তুতি নিয়েছেন। নিজের সমস্ত নথি ভিডিয়োতে প্রকাশ করে দাবি করেন, তাঁর নাম আকাঙ্ক্ষা সিংহ। তিনি ৩০১ র্যাঙ্ক করেছেন। এটাও জানান যে, তাঁর সমনামেই এবং একই রোল নম্বরে আরও এক তরুণী নিজেকে ওই র্যাঙ্কের দাবিদার বলছেন। গাজীপুরের আকাঙ্ক্ষা চ্যালেঞ্জ করেন, অ্যাডমিট কার্ডে থাকা বারকোড স্ক্যান করলেই আসল তথ্য বেরিয়ে আসবে ওই র্যাঙ্কের আসল অধিকারী কে?
জানা গিয়েছে, বিহারের আকাঙ্ক্ষা নিষিদ্ধ সংগঠন রণবীর সেনার প্রতিষ্ঠাতা ব্রহ্মেশ্বর সিংহের নাতনি। তিনি দাবি করেন, ‘‘দিনে ১০ ঘণ্টা পড়াশোনা করেছি। গত বছর পরীক্ষায় পাশ করতে পারিনি। এ বার সফল হয়েছি। এ বারের পরীক্ষা নিয়ে আত্মবিশ্বাসী ছিলাম। আমার ঠাকুরদার স্বপ্ন ছিল তাঁর নাতনি আমলা হবে।’’ তার পরই দাবি করেন, তিনি পরীক্ষায় ৩০১ র্যাঙ্ক করেছেন। অন্য দিকে গাজীপুরের আকাঙ্ক্ষা সমাজমাধ্যমে অভিযোগ তুলেছেন, ‘‘আমার নাম এবং র্যাঙ্ক সমনামী অন্য এক জন নিজের বলে দাবি করছেন। এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা।’’