—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।
সাতসকালে জোড়া খুন নদিয়ার রানাঘাটে। পুত্রবধূ এবং তাঁর মাকে (বেয়াই) কুড়ুল দিয়ে কুপিয়ে খুনের অভিযোগ উঠল প্রৌঢ়ের বিরুদ্ধে। স্থানীয় সূত্রে খবর, সোমবার রানাঘাট থানার হবিবপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের আশুতোষপুর গ্রামে দুই মহিলার দেহ উদ্ধার হয়েছে। পুলিশ অভিযুক্তকে আটক করার পাশাপাশি রক্তমাখা একটি কুড়ুল উদ্ধার করেছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, অভিযুক্তের নাম অনন্ত বিশ্বাস। বয়স ৭৫ বছর। গত কয়েক দিন আগে তাঁর স্ত্রীর মৃত্যু হয়েছে। পারলৌকিক ক্রিয়ার জন্য অনন্তের বাড়ি গিয়েছিলেন তাঁর পুত্র পতিতপবন বিশ্বাসের শাশুড়ি স্বপ্না মণ্ডল। অভিযোগ, স্ত্রীর মৃত্যুর জন্য পুত্রবধূ শিল্পা এবং বেয়ান স্বপ্নাকে দায়ী করতে থাকেন অনন্ত। তাঁর সন্দেহ, তুকতাক বা কালোজাদু করে তাঁদের সম্পত্তি হাতিয়ে নিতে চান বৌমা। সে জন্য মায়ের সাহায্য নিয়ে শাশুড়িকে মেরে ফেলেছেন তিনি।
সোমবার সকালে অনন্তের পুত্র বাজারে গিয়েছিলেন ফুল বিক্রি করতে। তখনও তাঁর স্ত্রী, শাশুড়ি বাড়িতে ঘুমোচ্ছিলেন। অভিযোগ, ওই সময় কাঠ কাটার জন্য রাখা কুড়ুল নিয়ে বৌমা এবং বেয়াইকে আক্রমণ করেন বৃদ্ধ অনন্ত। এলোপাথাড়ি কোপে রক্তাক্ত অবস্থায় মারা যান ২৪ বছরের শিল্পা এবং ৫৬ বছরের স্বপ্না। ঘরে ঢুকে স্ত্রী ও শাশুড়ির রক্তাক্ত দেহ পড়ে থাকতে দেখে চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করেন পতিতপাবন। তিনি বাবাকে প্রশ্ন করলে নির্বিকার ভাবে বৃদ্ধ জবাব দেন, “তোর পথের কাঁটাগুলোকে সরিয়ে দিয়েছি।”
যুবকের আর্তনাদে ছুটে যান প্রতিবেশীরা। খবর পেয়ে রানাঘাট থানার পুলিশ এসে জোড়া দেহ উদ্ধার করেছে। ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে দু’টি দেহ। প্রতিবেশী তথা এলাকার পঞ্চায়েত সদস্য জানিয়েছেন, সম্পত্তির সংক্রান্ত এবং কুসংস্কারের বশেই এই হত্যাকাণ্ড বলে মনে হচ্ছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখছে পুলিশ। স্ত্রী এবং শাশুড়ির খুনের জন্য বাবার কঠোর শাস্তি চেয়েছেন পুত্র।